রক্তাক্ত আকসা : আমাদের করণীয়
·
মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, মসজিদে নাবাউয়ীর মুদার্রিস এবং মসজিদে কুবার সম্মাননীয় ইমাম ও খতিব, আশ-শাইখ, আল-আল্লামাহ, আল-ফাক্বীহ, ড. সুলাইমান বিন সালীমুল্লাহ আর-রুহাইলী (হাফিযাহুল্লাহ) বলেছেন—
.
❝মাসজিদুল আকসায় নতুন কিছু হয়নি। মাসজিদুল আকসা দখলকৃত আছে, কোনো পরিবর্তন হয়নি। আকসার মাটির একবিন্দু পরিমাণ কেউ কাউকে দেওয়ার অধিকার রাখে না। কুদস আমাদের। এটা আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। যারা সিদ্ধান্ত আর রায় দিচ্ছে, সেটা তাদের নতুন কর্ম নয়। তারা নতুন কিছু আনয়ন করেনি। তারা এমন জিনিস দিয়েছে, যা তাদের অধিকারভুক্ত নয়। এমন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে, যা তাদের মালিকানাভুক্ত নয়। সুতরাং তাদের জারিকৃত সিদ্ধান্তের কোনো ওজন নেই, দামও নেই।
.
আমাদের সকলের কর্তব্য—নিজেদের দ্বীন ও উম্মতের জন্য আমাদের করণীয় বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখা এবং উম্মতকে কীসে বলশালী ও শক্তিধর করবে সেই লক্ষ্যে কাজ করা। তাওহীদের বাস্তবায়ন, ইখলাস ও রাসুলের অনুসরণের ওপর প্রতিষ্ঠিত সঠিক দ্বীনচর্চা না করলে, তাওহীদকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব না দিলে, তাওহীদের দিকে মানুষকে না ডাকলে এবং জামাতে নামাজ না পড়লে কখনোই উম্মতকে বলদৃপ্ত করা যাবে না। আমরা যখন এসব সম্পাদন করব, তখন আমরা শক্তিশালী হব। কেবল তখনই আমরা এ পর্যায়ের উপযুক্ত হব যে, আল্লাহ আমাদের সাহায্য করবেন, আর শত্রুরা আমাদেরকে ভয় করবে।
.
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ (secularism), উদারতাবাদ (liberalism) প্রভৃতির মাধ্যমে আল্লাহর দ্বীনের বিজয় আসবে না। বিজয় আসবে না রাফিদ্বী শিয়া আর সুন্নাহর শত্রুদের মাধ্যমেও। সত্যিকারের বিজয় আসবে কেবল আহলুস সুন্নাহর মাধ্যমে। যদি তারা তাওহীদ বাস্তবায়ন করে, তাওহীদের দিকে মানুষকে আহ্বান করে, আল্লাহর তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করাকে সর্বাধিক গুরুত্বের বিষয় নির্ধারণ করে এবং মহান আল্লাহর সাথে কৃত শির্ককে সর্বাধিক কষ্ট-ক্লেশ ও যাতনার বস্তু সাব্যস্ত করে। যদি তারা এ কাজগুলো করে, তাহলে তারা সুসংবাদ গ্রহণ করুক—কল্যাণ ও শৌর্যবীর্যের।
.
বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা, প্রজ্ঞা ও পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে মাসজিদুল আকসা পুনরুদ্ধারের কাজ করা মুসলিম নেতাদের অবশ্যপালনীয় কর্তব্য। প্রতিটি বিষয়কে উপযুক্ত ও যোগ্য লোকের কাছে প্রত্যার্পণ করা এবং রাজনীতির বিষয়কে রাজনীতিবিদদের কাছে ছেড়ে দেওয়া আমাদের কর্তব্য। পাশাপাশি তাদের জন্য তৌফিকপ্রাপ্তির দোয়া করা এবং সাধ্যমত আমল করাও আমাদের দায়িত্ব।
.
মুসলিম দেশগুলোকে দুর্বল করে তুললে আকসা পুনরুদ্ধার করা যাবে না। যেমনটি করে চলেছে বাতিলপন্থিরা—রাফিদ্বী শিয়া ও তাদের অনুগত হিযবী (দলবাজ) সংগঠনগুলো। স্বায়ত্তশাসিত ইসলামী রাষ্ট্রগুলো যে পর্যন্ত তাদের পরিচালনা ও কবজায় না যাচ্ছে, সে পর্যন্ত অন্য কোনো বিষয়ই তাদের কাছে সুখকর মনে হয় না। সুতরাং অবশ্যই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কেননা বিপদআপদ ও দুর্যোগগুলোকে মুসলিম জাতি ও সুন্নাহর শত্রুরা ব্যবহার করে—আহলুস সুন্নাহর লোকদের পারস্পরিক বিশ্বস্ততাকে আঘাত করার জন্য, ইসলামী রাষ্ট্রগুলোকে দুর্বল করার জন্য।
.
এখন গুজব রটনাকারীদের সংখ্যা বেড়ে গেছে, মিথ্যুকদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এরা কথা বা কাজ—কোনো দিক থেকেই কুদসের পৃষ্ঠপোষকতা করছে না, কুদসকে সাহায্য করছে না। বরং আহলুস সুন্নাহকে আঘাত করা ও দুর্বল করাই তাদের কাছে কুদসের পৃষ্ঠপোষকতা। বলা হচ্ছে, কুদসের সৈন্যদল! অথচ এরা সিরিয়া ও ইরাকে মুসলিমদের প্রাণহরণ করেছে, ইয়েমেনের মুসলিমদের কতল করেছে; তারাই কিনা ইজরায়েলের মৃত্যু ডেকে আনছে! এরা চরম মিথ্যুক, এরা প্রতারক। মুসলিমদের আবেগ ও অজ্ঞতাকে এরা সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে।
.
সুতরাং আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের ফিলিস্তিনি ভাইদের জন্য, আমাদের কুদসের জন্য এবং নিজেদের জন্য বেশি বেশি দোয়া করতে হবে—আল্লাহ যেন আমাদের কুদসে নামাজ পড়ার উপযুক্ততা দান করেন। আমদেরকে এ দোয়ায় জোর প্রচেষ্টা চালাতে হবে। আবেগের বশে চলা যাবে না, গা ভাসিয়ে দেওয়া যাবে না মিথ্যা প্রচারণা, গুজব ও রটনায়। এটাই হিকমাহ ও ইলম—জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাদের সঠিক পথের দিশা দেন এবং আমাদের সবাইকে স্ব স্ব কর্তব্য পালনে সহায়তা করেন।❞
·
উৎস: https://youtu.be/WWfx-ydOZas; শাইখ সুলাইমানের ফাওয়াইদ বিষয়ক টেলিগ্রাম চ্যানেলের ট্রান্সক্রিপ্ট থেকে অনূদিত।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আবদুল্লাহ মৃধা
fb.com/SunniSalafiAthari
