রমজানের পদধ্বনি: ক্রমশ উত্তপ্ত কাঁচাবাজার, স্বস্তির খোঁজে সাধারণ মানুষ
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বছর ঘুরে আবারও দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র মাহে রমজান। আত্মশুদ্ধি আর সংযমের এই মাস আসার আগেই বাংলাদেশের কাঁচাবাজারগুলোতে শুরু হয়েছে চিরাচরিত অস্থিরতা। বিশেষ করে ইফতার ও সেহরির জন্য প্রয়োজনীয় সবজি এবং নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
বাজারের বর্তমান চিত্র
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ কিছু সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০, কিছু ক্ষেত্রে এর অধিক টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রমজানে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে এমন সবজিগুলোর দাম এখন আকাশচুম্বী:
- বেগুন: ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অংশ বেগুনের দাম জাতভেদে বর্তমানে ৬০-৭০ টাকা ছুঁয়েছে।
- শসা ও লেবু: গত সপ্তাহের তুলনায় শসার দাম বেড়ে এখন কেজি প্রতি ৭০-৮০ টাকা। লেবুর হালি মানভেদে ৬০-৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
- কাঁচা মরিচ: বাজারে কাঁচা মরিচের ঝালও বেড়েছে, প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৬০ টাকায়।
কেন এই মূল্যবৃদ্ধি?
ব্যবসায়ীরা এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু অজুহাত দিচ্ছেন। তাদের মতে:
- সরবরাহ সংকট: শীত মৌসুম শেষ হয়ে আসায় শীতকালীন সবজির সরবরাহ কমে যাওয়া।
- নির্বাচনী আবহাওয়া: নির্বাচনের প্রভাবে পন্যের জোগান ব্যাঘাত।
- অতিরিক্ত চাহিদা: রমজান শুরু হওয়ার আগেই সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়তি পণ্য মজুত করার প্রবণতা।
- মধ্যস্বত্বভোগী: পাইকারি বাজার থেকে খুচরা পর্যায়ে আসার পথে সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজি।
সরকারের পদক্ষেপ ও জনপ্রত্যাশা
তবে এবার নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় এখনো কোনও প্রকার পদক্ষেপ দেখা যায় নি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত বাজার মনিটরিং করার আশ্বাস দিয়েছে। এনবিআর রমজান উপলক্ষে খেজুর, চিনি ও ভোজ্যতেলের ওপর শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিলেও খুচরা বাজারে এর প্রভাব এখনও সামান্য।
সাধারণ ক্রেতাদের বক্তব্য:
“প্রতিবছরই রোজা আসার আগে দাম বাড়ে। আমরা যারা নির্দিষ্ট আয়ে চলি, তাদের জন্য ইফতারের আয়োজন করা চাপের। নতুন সরকারের উচিত কেবল অভিযান চালানো নয়, বরং সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।”
একনজরে বর্তমান বাজার দর (ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
| পণ্যের নাম | বর্তমান মূল্য (প্রতি কেজি/পিস) | গত সপ্তাহের তুলনায় পরিবর্তন |
| বেগুন | ৬০ – ৭০ টাকা | ↑ ২০-৩০ টাকা বৃদ্ধি |
| শসা | ৭০ – ৮০ টাকা | ↑ ৩০-৪০ টাকা বৃদ্ধি |
| আলু | ২০ – ২৫ টাকা | স্থিতিশীল |
| পেঁয়াজ | ৫০ – ৫৫ টাকা | ↑ ১০ টাকা বৃদ্ধি |
| ব্রয়লার মুরগি | ১৯০ – ২০০ টাকা | ↑ ১০ টাকা বৃদ্ধি |
রমজান সংযমের মাস হলেও বাংলাদেশের বাজার পরিস্থিতি যেন ঠিক তার বিপরীত। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও ব্যবসায়ীদের শুভ বুদ্ধির উদয় হলে এবারের রমজান অন্তত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির আতঙ্ক ছাড়া কাটবে ।
