দেশে শৈত্যপ্রবাহের বিস্তৃতি ও তীব্রতা বেড়েছে গতকাল রবিবার। আগের দিন শনিবার ২২ জেলায় থাকলেও গতকাল ৪৭ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে মৃদু থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, যা দেশে পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম তাপমাত্রার রেকর্ড।
আবহাওয়া অফিস বলেছে, আজ সোমবার শৈত্যপ্রবাহ কমতে পারে।
দিন ও রাতের তাপমাত্রা বেড়ে কমতে পারে শীতের অনুভূতি। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারা দেশে আজ দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে ১ থেকে ৩ ডিগ্রি। আগামীকাল মঙ্গলবারও প্রায় একই অবস্থা থাকবে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে।
আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সোমবার থেকে শৈত্যপ্রবাহ কমতে পারে। রবিবার তাপমাত্রা কমলেও সূর্যের আলোর প্রাপ্যতা বেশি থাকায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়েছে। ফলে অনেক অঞ্চলে তাপমাত্রা কমলেও শীতের তীব্রতা বেশি বাড়েনি। আগামী দুই দিনও (আজ ও আগামীকাল) তাপমাত্রা বেড়ে কমবে শীতের অনুভূতি।
কয়েক দিন ধরে কুয়াশাও কমছে।’
আগামী মঙ্গলবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর কোনো কোনো জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দিনের মধ্যে খুলনা বিভাগের কোথাও কোথাও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, বৃষ্টির সময় দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমে শীত কিছুটা বাড়তে পারে। বৃষ্টির পর আবার রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও স্বাভাবিকভাবেই ফেব্রুয়ারির শীত জানুয়ারির মতো বেশি হবে না।
মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ে
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল রংপুর (আট জেলা) ও রাজশাহী (আট জেলা), ঢাকা (১৩ জেলা), খুলনা (১০ জেলা) ও বরিশাল (ছয় জেলা) বিভাগ এবং কুমিল্লা, মৌলভীবাজারসহ দেশের ৪৭ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু (৮ থেকে ১০ ডিগ্রি) থেকে তীব্র (৪ থেকে ৬ ডিগ্রি) শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে।
গতকাল চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, ৫ ডিগ্রি। পাঁচ বছরের মধ্যে এটিই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর আগে ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর তেঁতুলিয়ায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, ৪.৫ ডিগ্রি। ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২.৬ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়।
তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে উত্তরের আরো দুই জেলায়। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দিনাজপুরে ৫.৩ ডিগ্রি ও নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৬ ডিগ্রি ছিল। মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ ছিল আরো ৪৪ জেলায়।
ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমেছে ০.৩ ডিগ্রি। গতকাল রাজধানীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২.৭ ডিগ্রি। সামগ্রিকভাবে অঞ্চলভেদে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৫ থেকে ১৪ ডিগ্রির মধ্যে। তবে দেশের অনেক জায়গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমলেও সামগ্রিকভাবে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়েছে। আগের দিন অঞ্চলভেদে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২০ থেকে ২৬ ডিগ্রির মধ্যে থাকলেও গতকাল তা ছিল ২২ থেকে ২৮ ডিগ্রির মধ্যে।
শীতে উত্তরের মানুষের ভোগান্তি
পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা বেশি থাকছে সন্ধ্যা থেকে পরদিন দুপুর পর্যন্ত। মাঘের শীতে দুর্ভোগ বেড়েছে জেলার নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষের। প্রয়োজনীয়সংখ্যক শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্টে রাত পার করছে দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষ। সরকারিভাবে গতকাল পর্যন্ত ৩৩ হাজার ৫০০ কম্বল ও এক হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তবে তা জেলার দরিদ্র মানুষের সংখ্যার তুলনায় অনেক কম বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
নীলফামারীতেও বয়ে যাচ্ছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। গতকাল জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৬ ডিগ্রি। শনিবার দিবাগত রাত থেকে রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশা বাড়িয়ে দেয় শীতের তীব্রতা। জেলার সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম বলেন, ‘তাপমাত্রা কম থাকলেও কুয়াশা কেটে যাওয়ার পর সূর্য ওঠায় শীত কম অনুভূত হয়েছে।’
কুয়াশার কারণে জেলার অনেক জায়গায় সকালে যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করে। ঘন কুয়াশায় ধানের বীজতলা ও শীতকালীন সবজির ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। টুপামারী ইউনিয়নের দোগাছি গ্রামের কৃষক ওয়াজেদ আলী (৩৫) বলেন, ‘আজি সকাল থাকি ঠাণ্ডা বেশি লাগেছে, কুয়াশা পড়িছে বেশি। এই মতন কুয়াশাত আলুক্ষেত নষ্ট হচে।’
বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
তীব্র শীতে রংপুর বিভাগের আট জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কর্মসূচি গতকাল থেকে আজ সোমবার পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
