Wednesday, April 22, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়া'সত্যের মাপকাঠি' বিতর্ক: একটি নির্মোহ বিশ্লেষণ

‘সত্যের মাপকাঠি’ বিতর্ক: একটি নির্মোহ বিশ্লেষণ

□ এক:
‘মি’য়ারে হক বা সত্যের মাপকাঠি’ এটা ইসলামের বা সালাফের কোন পরিভাষা নয়।
সুতরাং এটার সংজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক নিষ্প্রয়োজন, বরং এক্ষেত্রে জমহুরে উলামার বক্তব্য গ্রহণই নিরাপদ।

□ দুই:
‘সাহাবী(صحابى)’ এটি একটি ইসলামী পরিভাষা।
সাহাবী কাকে বলে ?
“যেই ব্যক্তি ঈমান অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সঃ এর সঙ্গলাভ করেছে এবং সেই ঈমানের উপর ইন্তেকাল করেছে, তাকে সাহাবী বলে।”
সুতরাং রাসূলের পিছনে সলাত পড়লেও কোন মুনাফিক বা মুরতাদ সাহাবী নয়। আলোচ্য প্রসঙ্গে এধরণের ব্যক্তির দৃষ্টান্ত টেনে আনাও নিষ্প্রয়োজন।

□ তিন:
“সাহাবাগণ সত্যের মাপকাঠি” কথাটির অর্থ কী?
এ প্রসঙ্গে উলামায়ে উম্মতের পরিষ্কার বক্তব্য হলো –
ইসলামের যাবতীয় বিষয়ে কুরআনের ও রাসূল সঃ এর অনুসরণ কীভাবে, কী পরিমাণে করতে হবে এ ব্যাপারে সাহাবাগণ হলেন মডেল, মানদণ্ড।
পরবর্তী উম্মত সাহাবীদের ঈমান, আমল, তাওবা, আখলাকের সাথে নিজেদের ঈমান, আমল, তাওবা, আখলাক মিলাবে। যদি মিলে যায় তাহলেই হিদায়াতের পথে থাকবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভ করবে। অন্যথায় নয়।
এমনকি গুনাহ করে ফেলার পর কীভাবে তাওবা করতে হবে সেই তাওবা অনুসরণেও সাহাবাগণ মাপকাঠি।
সূত্র:
সূরা তাওবা: আয়াত নং-১০০, ১১৮
সূরা বাকারা: আয়াত নং- ১৩ ও ১৩৭
সূত্র: সুনানে তিরমিযী: হাদীস নং- ৩৬৬২, ৩৮০৫
☆আর যেই বিষয়ে কুরআনের বা রাসূলের বক্তব্য নেই, সেই বিষয়ে সাহাবীদের বক্তব্যই হুজ্জত বা দলীল।
সূত্র:
সুনানে আবি দাউদ:হাদীস নং-৪৬০৭
সুনানে তিরমিযী: হাদীস নং-১৩২৭

□ চার:
যে সকল সাহাবী থেকে গুনাহ প্রকাশিত হয়েছে তারা কীভাবে সত্যের মাপকাঠি হয়?

এ ব্যাপারে উলামায়ে উম্মতের বক্তব্য হলো-

প্রথমত:
সাহাবাগণ মাসূম বা নিষ্পাপ নন তবে মাগফূর বা ক্ষমাপ্রাপ্ত, আর এজন্য তাঁরা সমালোচনার উর্ধ্বে।
এককভাবে কোন কোন সাহাবী থেকে গুনাহ প্রকাশিত হয়েছে বটে কিন্তু কোন সাহাবী গুনাহের উপর অটল থাকেননি।

দ্বিতীয়ত:
‘সত্যের মাপকাঠি’ সাহাবাদের জামাতকে উদ্দেশ্য করা হয়, একক সাহাবীর আমলকে নয় এবং বিনা শর্তে সাহাবীদের জামাত সত্যের মাপকাঠি। কারণ সম্মিলিতভাবে সাহাবীদের জামাত ভুলের উপর থাকা অসম্ভব।
সুনানে তিরমিযী: হাদীস নং-২১৬৭

তৃতীয়ত:
একক কোন সাহাবী থেকে যেই গুনাহ প্রকাশিত হয়েছে সেই গুনাহও অনুসরণযোগ্য, এমন কথা কোন আলেমই বলেননা। বরং গুনাহের পরবর্তী অবস্থা এই সাহাবীর কেমন ছিল তা-ই অনুকরণযোগ্য। তাই সংজ্ঞা অনুযায়ী তাঁর তাওবাটাও পরবর্তী উম্মতের জন্য মাপকাঠি। কোন্ পদ্ধতিতে ,কীভাবে তাওবা করলে কবুল হবে তা সাহাবীদের তাওবার সাথে মিলাতে হবে।
সুতরাং গুনাহ করেও সাহাবীরা কী করে সত্যের মাপকাঠি হয়, এই প্রশ্ন তোলাও মূল্যহীন।
এবং এই কথা বলাও নিষ্প্রয়োজন যে, একমাত্র রাসূল (সঃ)ই সত্যের মাপকাঠি, কোন সাহাবী নয়।

□ পাচ:
রাসূল (স:) কি ‘হক’ নাকি মি’য়ারে হক?

○》আল্লাহ, রাসূল, কুরআন ও ইসলাম হলো ‘হক’ বা ‘সত্য’।
এগুলো অসত্য বা ভুল হওয়ার বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই।
সূত্র:
》সূরা নিসা: আয়াত-১৭০
یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ قَدۡ جَآءَکُمُ الرَّسُوۡلُ بِالۡحَقِّ مِنۡ رَّبِّکُمۡ فَاٰمِنُوۡا خَیۡرًا لَّکُمۡ
》সূরা বাকারা:আয়াত-০২
ذٰلِکَ الۡکِتٰبُ لَا رَیۡبَ ۚۖۛ فِیۡہِ ۚۛ ہُدًی لِّلۡمُتَّقِیۡنَ
》সহী বুখারী: হাদীস নং-৩৯১১
فَوَاللَّهِ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ إِنَّكُمْ لَتَعْلَمُونَ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ حَقًّا، وَأَنِّي جِئْتُكُمْ بِحَقٍّ فَأَسْلِمُوا ‏

○》আর সাহাবাগণ হলেন পরবর্তী উম্মতের জন্য সেই সত্যের মাপকাঠি।

অর্থাৎ উপরোক্ত হকের অনুসরণ সাহাবাগণ যেভাবে করেছেন, সে পরিমাপে অনুসরণ করলেই উম্মত সঠিক পথে থাকবে।
সূত্র:
》সূরা বাকারা:আয়াত-১৩৭
فَاِنۡ اٰمَنُوۡا بِمِثۡلِ مَاۤ اٰمَنۡتُمۡ بِہٖ فَقَدِ اہۡتَدَوۡا
》সূরা তাওবা:আয়াত-১০০
وَ السّٰبِقُوۡنَ الۡاَوَّلُوۡنَ مِنَ الۡمُہٰجِرِیۡنَ وَ الۡاَنۡصَارِ وَ الَّذِیۡنَ اتَّبَعُوۡہُمۡ بِاِحۡسَانٍ ۙ رَّضِیَ اللّٰہُ عَنۡہُمۡ وَ رَضُوۡا عَنۡہُ
》সুনানে আবি দাউদ: হাদীস নং-৪৬০৭
مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ بَعْدِي فَسَيَرَى اخْتِلَافًا كَثِيرًا، فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الْمَهْدِيِّينَ الرَّاشِدِينَ، تَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ
》সুনানে তিরমিযী: হাদীস নং-৩৬৬২
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ اقْتَدُوا بِاللَّذَيْنِ مِنْ بَعْدِي أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ ‏”‏ ‏
》সুনানে তিরমিযী:হাদীস নং-২৬৪১
إِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ تَفَرَّقَتْ عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلاَثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً كُلُّهُمْ فِي النَّارِ إِلاَّ مِلَّةً وَاحِدَةً قَالُوا وَمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي ‏”‏

》সাহাবাগণ সত্যের মানদণ্ড এবং তাদের কথা হুজ্জত হওয়ার প্রকৃষ্ট উদাহরণ সহী বুখারীর ১৩৬৭নং হাদীস
عن أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ مَرُّوا بِجَنَازَةٍ فَأَثْنَوْا عَلَيْهَا خَيْرًا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَجَبَتْ ثُمَّ مَرُّوا بِأُخْرَى فَأَثْنَوْا عَلَيْهَا شَرًّا فَقَالَ وَجَبَتْ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ مَا وَجَبَتْ قَالَ هَذَا أَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ خَيْرًا فَوَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ وَهَذَا أَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ شَرًّا فَوَجَبَتْ لَهُ النَّارُ أَنْتُمْ شُهَدَاءُ اللهِ فِي الأَرْضِ
بخارى:١٣٦٧

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবীগণ একটি জানাযার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তাঁরা তার উত্তম প্রশংসা করলেন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওয়াজিব হয়ে গেল। একটু পরে অপর একটি জানাযা অতিক্রম করলেন। তখন তাঁরা তার নিন্দাসূচক মন্তব্য করলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওয়াজিব হয়ে গেল। তখন ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বললেন, (হে আল্লাহর রাসূল!) কি ওয়াজিব হয়ে গেল? তিনি বললেনঃ এ (প্রথম) ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা উত্তম মন্তব্য করলে, তাই তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে। আর এ (দ্বিতীয়) ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা নিন্দাসূচক মন্তব্য করায় তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেছে। তোমরা হলে পৃথিবীতে আল্লাহ্‌র সাক্ষী।
সূত্র:
সহী বুখারী: হাদীস নং-১৩৬৭
সহী মুসলিম: হাদীস নং-৯৪৯
সুনানে নাসায়ী: হাদীস নং-১৯৩৩

》হযরত আবূ বুরদা রা: থেকে বর্ণিত-
قال رسول الله -صلى الله عليه وسلم – النجوم أمنة للسماء فإذا ذهبت النجوم أتى السماء ما توعد ، وأنا أمنة لأصحابي فإذا ذهبت أتى أصحابي ما يوعدون ، وأصحابي أمنة لأمتي فإذا ذهب أصحابي أتى أمتي ما يوعدون.
” রাসূলুল্লাহ সঃ বলেন: নক্ষত্রসমুহ আসমানের জন্য আমানত স্বরুপ। যখন নক্ষত্রগুলি বিলুপ্ত হয়ে যাবে,তখন আসমানকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কেয়ামত চলে আসবে। এবং আমি আমার সাহাবীদের জন্য আমানত স্বরুপ। অতএব যখন আমি ইহকাল ত্যাগ করব তখন তাঁদেরকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাঁদের(সাহাবাদের) মধ্যে ইজতেহাদি মতানৈক্য দেখা দিবে। এবং আমার সাহাবীরা উম্মতের জন্য আমানত স্বরুপ। অতএব যখন তাঁদের যুগের অবসান ঘটবে তখন আমার উম্মতের মধ্যে বিভিন্ন রকমের ফেতনা-ফ্যাসাদের সুত্রপাত ঘটবে।”
সূত্র:
সহী মুসলিম: হাদীস নং-২৫৩১

فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الْمَهْدِيِّينَ الرَّاشِدِينَ
তখন তোমরা আমার সুন্নত ও আমার খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নত আঁকড়ে ধরবে।
আবু দাউদ: হাদীস নং-৪৬০৭

》আল্লাহ তায়ালা বলেন:
أولئك هم المؤمنون حقا لهم درجت عند ربهم و مغفرة و رزق كريم
এমন সব লোকই (সাহাবীরা) সত্যিকারের মুমিন (যাদের ভেতর ও বাহির এক রকম এবং মুখ ও অন্তর ঐক্যবদ্ধ)। তাদের জন্য রয়েছে স্বীয় পরওয়ারদিগারের নিকট সুউচ্চ মর্যাদা ও মাগফিরাত এবং সম্মানজনক রিয্ক।
সূরা আনফাল: আয়াত-৪

□ ছয়
○》 সাহাবাগণের ব্যক্তিগত দোষ-ত্রুটি খুঁজে খুঁজে বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
অন্যথায় অন্তরে সাহাবা বিদ্বেষ তৈরি হওয়ার এবং অভিশপ্ত হয়ে যাওয়ার সমূহসম্ভাবনা রয়েছে।
》ইমাম আবূ যুর’আ রহ. বলেন:
فإذا رأيت الرجل ينتقص أحدا من اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فأعلم انه زنديق، وذلك ان الرسول صلى الله عليه وسلم عندنا حق، والقرآن حق، وإنما أدى إلينا هذا القرآن والسنة أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، وإنما يريدون أن يجرحوا شهودنا ليبطلوا الكتاب والسنة،
“তোমরা যখন কাউকে কোন সাহাবীর অবমাননা করতে দেখ, তখন বিশ্বাস করে নাও যে, সে যিন্দীক। তা এ জন্য যে, আমাদের নিকট রাসূল স. সত্য নবী, পবিত্র কুরআন সত্য; কুরআন হাদীস তথা পুরা দ্বীন যা আমাদের পর্যন্ত পৌছেছে, তার প্রথম যোগসূত্র হলেন সম্মানিত এ জামাত। সুতরাং যে ব্যক্তি সাহাবাগণের সমালোচনা করবে, সে আমাদের বিশ্বস্ত সাক্ষীদের সমালোচনার মাধ্যমে সম্পূর্ণ দ্বীনকেঅগ্রাহ্য বলে ঘোষণা করতে চায়। অর্থাত্ ইসলামের মূলভিত্তি ধ্বংস করে দিতে চায়।
আল-কিফায়া, খতীব বাগদাদী: পৃ.৯৭

》রাসূলুল্লাহ সঃ ইরশাদ করেন:
الله الله فى أصحابى لا تتخذوهم غرضا من بعدى فمن أحبهم فبحبى أحبهم ومن أبغضهم فببغضى أبغضهم
“সাবধান! সাবধান! আমার সাহাবাগণের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। আমার পরে তোমরা তাঁদেরকে সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু বানিয়োনা। যে ব্যক্তি তাঁদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করে সে আমার প্রতি ভালোবাসা বশেই তাঁদেরকে ভালোবাসে। আর যে ব্যক্তি তাঁদের প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করে সে আমার প্রতি বিদ্বেষবশতই তাঁদের প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করে।
সুনানে তিরমিযী: হাদীস নং-৩৮৬২
সহী ইবনে হিব্বান: হাদীস নং- ২২৮৪

□ উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলতে চাই, সাহাবাগণ সত্যের মাপকাঠি নয় কিংবা তাঁরা সমালোচনার উর্ধ্বে নয় এই ভুল আকীদা ও বক্তব্য থেকে বেরিয়ে আসা ইসলামী সংগঠনের একজন নেতা-কর্মীর জন্য অত্যন্ত জরুরী।
সাহাবাগণ সত্যের মাপকাঠি কিনা এই বিতর্কে লিপ্ত থাকার মধ্যে সফলতা নেই বরং সাহাবাগণের মাপকাঠিতে ঈমান, আমল, সুন্নাত ও খিলাফত প্রতিষ্ঠা করতে পারার মধ্যেই রয়েছে সফলতা।

আল্লাহ তায়ালা ইসলামের জন্য আমাদের সকলের খেদমতকে কবুল করে নিন। আমীন!

Mufti Delawar Bin Gazi

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

nine + 4 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য