নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একজন দাসের নাম ছিলো মিদআম। তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং সাহাবী হবার মর্যাদালাভ করেন।
খায়বার যুদ্ধে মুসলিমরা জয়ী হয়। যুদ্ধ শেষে মদীনায় ফেরার পালা। যাত্রাপথে এক জায়গায় মিদআম নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উটের পালান খুলতে লাগলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে কোথা থেকে একটি তীর তার শরীরে প্রবেশ করলো। তীরটি এমনভাব তার শরীরে প্রবেশ করলো, তিনি সেই আঘাতে ইন্তেকাল করেন।
যুদ্ধ শেষে ফেরার পথে আততায়ীর আঘাতে নিহত হওয়ায় অন্যান্য সাহাবীরা এটাকে ‘শহীদী মৃত্যু’ হিশেবে ভাবলেন। তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন- “তার কী সৌভাগ্য! তিনি শহীদ হবার সৌভাগ্য অর্জন করলেন। তার জন্য তো এখন জান্নাত ওয়াজিব।”
সাহাবীদের এমন উচ্ছ্বাসে সাথে নবিজী সুর মেলালেন না। নবিজী বললেন, “কক্ষণো নয়!”
সাহাবীরা বেশ অবাক। একজন শহীদ হলেন, অথচ নবিজী ‘না’ করছেন। কারণ কী?
নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কারণ ব্যাখ্যা করলেন, “ঐ সত্ত্বার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ। খায়বার যুদ্ধের দিন বন্টনের পূর্বে সে গনীমতের যে চাদর চুরি করেছিলো, তা আগুন হয়ে তাকে দগ্ধ করছে!”
যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ থেকে মিদআম সামান্য একটি চাদর চুরি করেন। সেই চাদরের মূল্য কতো হবে? ১০০০ টাকা? ৫০০০ টাকা?
শহীদের মতো মৃত্যুবরণ করা সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ‘শহীদ’ না বলে বলছেন কিছুক্ষণ আগে তার চুরির কথা। তার সুবর্ণ সুযোগ ছিলো (আত্মা) সবুজ পাখি হয়ে জান্নাতে উড়ে বেড়ানোর। অথচ মাত্র একটি পাপের কারণে আল্লাহ তাকে পাকড়াও করেন। নবিজীর এতো কাছে থেকে খেদমত করা সত্ত্বেও ঐ চুরি করা চাদর আগুন হয়ে তাকে দগ্ধ করছে!
ঘটনাটি আমাদেরকে ভাবায়। আমরা মনে করি হারাম পথে সম্পদ উপার্জন করে পরে দান-সদকা করে দেবো, হজ্জ করে গুনাহ মাফ হয়ে যাবে ইত্যাদি। আমাদের আমল কিভাবে কবুল হবে, যখন আমাদের উপার্জন হারাম?
নামাজরত অবস্থায়ও যদি আমাদের মৃত্যু হয়, কে গ্যারান্টি দিবে এমন ‘ভালো মৃত্যু’ আমাদেরকে জান্নাতে নিয়ে যাবে?
নামাজ পড়ার আগে যার সাথে প্রতারণা করলাম, নামাজ পড়ার আগে যাকে ঠকালাম, নামাজ পড়ার আগে যার সম্পদ আত্মসাৎ করলাম, সে কি আমাকে মাফ করে দিবে?
অনেক বাবা তার মেয়ের সম্পদের ভাগ দেয় না। অনেক ভাই পৈত্রিক সম্পত্তিতে বোনের অংশ দেয় না। নবিজীর একজন খাদেমের এমন ঘটনা তাদেরকে ভাবায় না?
রাস্তায় ১০ টাকা পড়ে থাকলে দেখে লোভ সংবরণ করা যায়। যদি রাস্তায় একটি ব্যাগে ১ লক্ষ টাকা দেখি, তখন কি লোভ সামলানো যাবে?
তথ্যসূত্র:
সহীহ বুখারী: ৪২৩৪, সুনানে আবু দাউদ: ২৭১০-১১।
আরিফুল ইসলাম
