Saturday, June 6, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরসাভারে বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ীরা

সাভারে বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ীরা

ঘটছে হত্যাকাণ্ড, আতঙ্কে মানুষ

রাজধানী ঢাকার কোলঘেঁষা সাভার উপশহরটি ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। উপজেলাটির থানা এলাকায় সন্ধ্যার পরই বিভিন্ন অলিগলির মোড়ে ছিনতাই নিত্যদিনের ঘটনা। বাদ যাচ্ছে না সড়ক-মহাসড়কও। গভীর রাতে সড়কে চলাচলরত পথচারীদের ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে সর্বস্ব। এমনকি ছিনতাইকারীদের হাতে এক যুবকের হত্যাকাণ্ডেরও ঘটনা ঘটেছে। সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড ও এর আশপাশ এলাকায় একাধিক বৃহৎ শপিংমলসহ বিভিন্ন ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা, দোকানপাট, স্বর্ণের দোকান, বাজার, স্কুল, কলেজ ও সরকারি একাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বর্তমানে এ স্ট্যান্ড ও আশপাশ এলাকাটি পরিণত হয়েছে সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারীদের বিচরণ ভূমিতে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কেও একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। একাধিক তরুণ ঘুরে ঘুরে বিক্রি করছে ফেনসিডিল, ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। আর একটু সন্ধ্যা বা রাত নামলেই বিভিন্ন গলির মোড়ে অবস্থান নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সাধারণ মানুষের সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে তারা।

গত শুক্রবার সাভার বাসস্ট্যান্ডের অদূরে মডেল মসজিদের সামনে ফুটওভার ব্রিজের ওপর আবু সাঈদ হিমেল নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে ছিনতাইকারীরা। নিহত আবু সাঈদ হিমেল সাভার পৌর এলাকার বিনোদ বাইদ মহল্লার কামাল হোসেনের ছেলে। তিনি ঢাকার নীলক্ষেতে একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করতেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে চার ব্যক্তি ঐ যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ওপর মৃত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে। গত মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার রাজ্জাক প্লাজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সীমা জাহান নামে এক নারীর কান থেকে স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় এক দুর্বৃত্ত। এতে ঐ নারীর কান ছিঁড়ে যায়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে,  গেন্ডা বাসস্ট্যান্ড, শিমুলতলা, উলাইল, পাকিজা মোড়, সিঅ্যান্ডবি স্ট্যান্ড, পল্লী বিদ্যুত্, রাঙ্গাবন নার্সারিসহ প্রায় ২০টি স্পটে ছিনতাইকারীদের বিচরণ রয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে এ চক্রটি তিন/চার ভাগে বিভক্ত হয়ে এ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত করছে। দীর্ঘদিন যাবত্ তারা একের পর এক ছিনতাই, চুরি, মাদক ব্যবসা করলেও রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারা মার্কেটে আসার পথে কিংবা ফেরার পথে ছিনতাইয়ের কবলে পড়ছেন। সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের নিউ মার্কেট ও সিটি সেন্টারের আশপাশে ওৎপেতে বসে থাকে এ ছিনতাইকারী চক্রটি। সুযোগ বুঝে ছিনতাই করেই তারা গলি পথে দ্রুত সটকে পড়ে। ভুক্তভোগীরা পুলিশকে বারবার জানানোর পরও কোনো প্রতিকার না হওয়ায় থানায় গিয়ে অভিযোগ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। রাত ১০টার পর সড়কে পুলিশের উপস্থিতিও তেমন চোখে পড়ে না।

একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, এ চক্রটি নেশাগ্রস্ত। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মার্কেটের আশপাশে রাস্তায় তাদের ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে কেউ হাতেনাতে ধরা পড়লেও ছিনতাইকারী চক্রের অন্য সদস্যরাই এসে চড়-থাপ্পড় মেরে তাড়িয়ে দেয়, যাতে পুলিশের হাতে না পড়ে। এ চক্রের সদস্যরা এতটাই বেপরোয়া যে, সাধারণ মানুষ এদের হাতে জিম্মি এবং অসহায়ত্ব বোধ করে। ফলে ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বাজার বাসস্ট্যান্ড, গেন্ডা বাসস্ট্যান্ড ও এর আশপাশের এলাকাটি। ঢাকা জেলা উত্তর ডিবির (ওসি) মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লব জানান, এ চক্রটিকে আইনের আওতায় আনার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে কয়েক জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই ভুক্তভোগীদের পুলিশকে জানানোর জন্য তিনি পরামর্শ দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 × three =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য