শুক্রবার লাহোরে সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টস (SAFA) সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, সার্ক “দুর্ভাগ্যজনকভাবে কার্যকরভাবে যাত্রা শুরুই করতে পারেনি”, যার ফলে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতি ও সহযোগিতা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংযোগ ও বাণিজ্য জোরদারে পাকিস্তান এখন বিকল্প আঞ্চলিক কাঠামোর দিকে নজর দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে চীন–পাকিস্তান–আফগানিস্তান এবং চীন–পাকিস্তান–বাংলাদেশের মতো ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা ব্যবস্থা।
দার জোর দিয়ে বলেন, প্রায় ২০০ কোটি মানুষের আবাসস্থল দক্ষিণ এশিয়া “বিচ্ছিন্ন অবস্থায়” থাকতে পারে না। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে দুর্বল সহযোগিতার কারণে অঞ্চলটি বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা হারাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
South Asian Association for Regional Cooperation (সার্ক) ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক সংহতি জোরদারের লক্ষ্যে। এর সদস্য দেশগুলো হলো আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।
সংগঠনটির উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্য, উন্নয়ন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক উত্তেজনা—বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের বিরোধ—সার্কের কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে সীমিত করে ফেলেছে। এর ফলে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনগুলো স্থবির হয়ে পড়েছে এবং আঞ্চলিক সম্পৃক্ততা কমে গেছে।
ফলস্বরূপ, দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিশ্বের অন্যান্য আঞ্চলিক জোটগুলোর তুলনায় এখনও অনেকটাই অনুন্নত রয়ে গেছে।
