সুইডেন হলো উত্তর ইউরোপের পঞ্চম বৃহত্তম একটি দেশ। স্ক্যান্ডিনেভিয়া উপদ্বীপে অবস্থিত দেশটির সর্ববৃহৎ শহর ও রাজধানী স্টকহোম। এর পশ্চিমে নরওয়ে, উত্তর-পূর্বে ফিনল্যান্ড এবং দক্ষিণে ও পূর্বে আছে যথাক্রমে বাল্টিক সাগর ও বথনিয়া উপসাগর। চার লাখ ৫০ হাজার ২৯৫ কিলোমিটার আয়তনের দেশটি উত্তর ইউরোপের বৃহত্তম দেশ এবং বিশ্বের ৫৫তম বৃহত্তম দেশ। দেশটির মোট জনসংখ্যা আনুমানিক এক কোটি ৪২ লাখ। এর মধ্যে মুসলিমদের সংখ্যা মাত্র দুই লাখ ৪১ হাজার ৯৩৩ জন, যা মোট জনসংখ্যার ২.৩ শতাংশ। মূলত গত শতাব্দীর সত্তরের দশকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মুসলিমদের অভিবাসন শুরু হয়।
সুইডেনের পুরনো মসজিদ : ১৯৭৬ সালে গোথেনবার্গে নির্মিত নাসির মসজিদকে প্রথম মসজিদ মনে করা হয়। ১৯৮৪ সালে নির্মিত মালমো মসজিদ ও ১৯৯৫ সালে নির্মিত উপসালা মসজিদকে পুরনো দুই মসজিদ হিসেবে মনে করা হয়।
বৃহত্তম মসজিদ : সুইডেনের সর্ববৃহৎ মসজিদ হলো স্টকহোমের জায়েদ বিন সুলতান আল-নাহিয়ান মসজিদ। স্থানীয়ভাবে তা স্টকহোম মসজিদ বা স্টকহোম গ্র্যান্ড মসজিদ নামে পরিচিত। তা সোডারমালম জেলার বজর্নস ট্র্যাডগার্ড সংলগ্ন কাপেলগ্রান্ডে অবস্থিত। ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন ইন স্টকহোমের তত্ত্বাবধানে তা পরিচালিত হয়। এখানে একসঙ্গে দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারে। মসজিদটির ওয়েবসাইট অনুসারে বর্তমানের এর ইমাম হিসেবে রয়েছেন শায়খ মাহমুদ খালফি ও শায়খ খালেদ আদিব।
সামাজিক কার্যক্রম : এ মসজিদে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি সাপ্তাহিক জুমা, রমজান মাসের তারাবি, দুই ঈদের নামাজ, বিবাহ অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তা ছাড়া মুসলিম কমিউনিটির শিশুদের মধ্যে ইসলাম ও আরবি ভাষা শিক্ষা প্রসারে মসজিদটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। মসজিদের পাশাপাশি তাতে লাইব্রেরি, বইয়ের দোকান, জিমনেসিয়াম, অফিস, রান্নাঘর, রেস্তোরাঁ, হলরুম রয়েছে। প্রতিবছর এখানে দেড় লক্ষাধিক মুসলিম ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মের ২০ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর আগমন ঘটে।
স্টকহোমে প্রথম মসজিদ নির্মাণ : স্টকহোম অঞ্চলে একটি নতুন মসজিদ নির্মাণের জন্য ১৯৮০ সাল থেকে দীর্ঘ দুই দশক ধরে আলোচনা চলে। প্রথম দিকে নরটালে বোরজারস্কেপস আনখুস ভবন বিভিন্ন স্থান নিয়ে আলোচনা হয়। ১৯৯৫ সালে মুসলিম নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর স্টকহোমের সিটি কাউন্সিল পুরনো বৈদ্যুতিক বিদ্যুেকন্দ্র মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার মূল্যে বিক্রি করা হয়।
আমিরাত সরকারের আর্থিক সহায়তা : অবশেষে ১৯৯৯ সালে মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এর নির্মাণকাজে দেশটির স্থানীয়দের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুসলিমরাও আর্থিক সহায়তা করেছিল। বিশেষত বড় অঙ্কের সহায়তার মাধ্যমে মসজিদটি নির্মাণে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান। পরবর্তী সময়ে তাঁর নামেই মসজিদটির নামকরণ হয়। অতঃপর ২০০০ সালের ৮ জুন মসজিদটি উদ্বোধন হয়।
