Monday, April 20, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeবিবিধসেক্সুয়াল ডিসঅর্ডার

সেক্সুয়াল ডিসঅর্ডার

যৌন চাহিদা থেকে দুনিয়ার কোন প্রাণীই মুক্ত নয় ৷ অন্যান্য প্রাণী একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রজননের জন্য যৌন কর্মে লিপ্ত হয়; কিন্তু মানুষ প্রজনন, বিনোদন, ক্ষমতা প্রদর্শন, প্রতিশোধ গ্রহণ ইত্যাদি কারণে- অকারণে যে কোন মুহূর্তে যৌন কর্মে লিপ্ত হতে পারে ৷ যৌনতা নিয়ে চিন্তা করতে করতে মানুষ এক সময় হাইপার সেক্সুয়াল ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত হয়ে যৌন বিকৃতিতে ভোগে ৷

বিভিন্ন প্রকার যৌন বিকৃতির মাঝে রয়েছে “ভয়েরিজম” ৷ নদীর ধারে, পুকুর পাড়ে, গোসলখানায় স্নানরত মানুষদের দেখে এরা যৌন সুখ অনুভব করে ৷ কেউ গভীর রাতে অন্যের বেড়া ফাঁক করে উঁকি মারে ৷ কেউ কেউ পাঁচিল ডিঙ্গিয়ে পাইপ বেয়ে দোতলা তেতলায় উঠে যায় ৷ অন্যদের লুকিয়ে দেখতে গিয়ে এরা অনেক সময় চোর সন্দেহে ধাওয়া বা গণপিটুনি খায় ৷

ভয়েরিজমের ঠিক বিপরীত হলো “এক্সিবিশনিজম” ৷ ভয়েরেস্টিকরা যেখানে লুকিয়ে লুকিয়ে অন্যদের গোপনাঙ্গ দেখে, এক্সিবিশনিস্টরা সেখানে প্রকাশ্যে অন্যদের নিজের গোপনাঙ্গ দেখিয়ে সুখ অনুভব করে ৷ সুযোগ পেলে এরা মানুষের সামনে নিজেদের গোপনাঙ্গ নাড়াছাড়া করে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে ৷ অন্যের সামনে যাতে স্পর্শকাতর স্থানগুলো ফুটে উঠে পোশাকের ক্ষেত্রে এরা এমন পোশাকই পছন্দ ৷ মাঝে মাঝে আমরা শুনি, অমুক ঘোষণা দিয়েছে এমন না হলে সে উলঙ্গ হয়ে রাস্তায় নামবে । কিংবা অমুক নগ্ন হয়ে ফটো শুট করেছে ৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এমন ব্যক্তিরা এক্সিবিশনিজমে আক্রান্ত ।

ফেটিসিজমে আক্রান্তরা হাত, পা, ঠোঁট, কান, চোখ, চুল অথবা ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিস, যেমন- ব্রা, আন্ডারওয়্যার, প্যান্ট অথবা সাধারণ জামাকাপড় নিয়ে ফ্যান্টাসিতে ভোগে । এরা ব্যক্তির কাপড় চুরি করে তা দিয়ে ব্যক্তিকে কল্পনা করে সুখ অনুভব করে ৷ অনেক সময় বাসার ছাদে বা বাড়ির আঙ্গিনায় রৌদে শুকাতে দেওয়া পোশাক ব্লেড বা কেঁচি দিয়ে কাটা পাওয়া যায় বা চুরি হয়ে যায় ৷ অনেক সময় এসব ফেটিস্টরাই করে থাকে ৷

সেলিব্রিফিলিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা সেলিব্রেটিদের দেখে সুখ অনুভব করে ৷ কেউ কেউ মনে মনে তাদের সাথে যৌন কল্পনা করে । নায়ক, গায়ক, লেখক, খেলোয়াড়, বক্তা, রাজনীতিবিদ সহ বিভিন্ন সেলিব্রেটি ব্যক্তিদের ভক্তদের মাঝে এই রোগ দেখা যায় ৷ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেলিব্রেটিদের দেখার জন্য ভীড় করে ৷ রোগটি এতটাই প্রবল হতে পারে যে পছন্দের সেলেব্রেটির জন্য রোগী মৃত্যুকে বেছে নিতেও দ্বিধা করেনা । সেলিব্রেটির মৃত্যু কিংবা বিয়েকে কেন্দ্র করে সে মৃত্যুকে বেছে নিতে পারে । যেমন সালমান শাহের মৃত্যুর পর তার কয়েকজন ভক্ত আত্মহত্যা করে, পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুতে আমেরিকাতে ডজন খানেক মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নেয় ।

ফ্রটিউরিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত অপরিচিত মানুষের প্রতি যৌন আকৃষ্ট হয়ে থাকে ৷ প্রায়ই বাস, লঞ্চ, ট্রেন, জনবহুল জায়গায় ভিড়ের মধ্যে বিপরীত লিঙ্গের শরীরে কনুই কিংবা হাত দিয়ে চাপ দেয় অথবা নিজের যৌনাঙ্গ ভিড়ের মধ্যে আরেকজনের সাথে ঘষে । এই বিকৃত যৌনাচারের শিকার হয়নি কিংবা কাউকে রাস্তাঘাটে কাউকে এর শিকার হতে দেখেনি এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন ।

ট্রান্সভেস্টিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বিপরীত লিঙ্গের পোশাক পরিধান করে যৌন সুখ অনুভব করে ৷ আধুনিকতার নাম করে এতদিন শুধু মেয়েদেরই ছেলেদের মত চুল, শার্ট, প্যান্ট, নেকটাই পরতে দেখা যেতো ৷ এখন অনেক ছেলেদেরও মেয়েদের শাড়ি, ব্লাউজ, হাই হিল পরে রাস্তায় বের হতে দেখা যায় ৷ শৈশবে মেয়েদের ক্ষেত্রে ভাই বা বাবার পোশাক, ছেলেদের ক্ষেত্রে বোন বা মায়ের জামা পরে হাসি ঠাট্টার মাধ্যমে রোগটি শুরু হয় ৷ কিছু দিন পর তা দূরও হয়ে যায় ৷ কিন্তু ট্রান্সভেস্টিকদের ক্ষেত্রে সারা জীবন বিপরীত লিঙ্গের পোশাক পরার অভ্যাস থেকে যায় ৷

শিশুদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা বা শিশুদের যৌন হয়রানি, নির্যাতন করার যৌন বিকৃতিকে পেডোফিলিয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয় । এই ব্যাধিতে আক্রান্তদের চিহ্নিত করা হয় পেডোফাইল হিসেবে ৷ অনেক সময় দেখা যায় মুরুব্বি মানুষেরা বাচ্চাদের আমার বউ বা আমার বর বলে সম্বোধন করছে! এটা করতে দেওয়া যাবে না! তাদের নিষেধ করবেন । যদি কোনো আত্মীয় বাচ্চাকে অস্বাভাবিক ভাবে আদর করতে দেখেন তবে তার থেকে সাবধান হোন ৷ শিশুদের দিয়ে এ্যাডাল্ট গান, নাচ, অভিনয় সহ বিভিন্ন কন্টেন্ট নির্মাতাদের অধিকাংশই পেডোফাইল ৷

নেক্রোফিলিয়া আরেক ধরণের যৌন ব্যাধি ৷ সাধারণত লাশকাটা ঘর বা মর্গে কাজ করে এমন লোকজন, ডোম, মৃতদেহ সৎকার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি, কবরে বা সমাধিতে কাজ করে এমন ব্যক্তিদের মধ্যে নেক্রোফাইলদের খুঁজে পাওয়া যায় । এর বাইরেও নেক্রোফাইলা কবর বা সমাধি থেকে লাশ চুরি করে থাকে । বাধা দেবে না বা প্রত্যাখ্যান করবে না, মূলত এমন যৌন সঙ্গী পাওয়ার বাসনা থেকে মরদেহের সাথে যৌন সংসর্গ করে থাকে নেক্রোফাইলরা ৷ কিছু দিন পূর্বে ঢাকা মেডিকেল কলেজের একজন ডোমকে এই ঘৃণ্য অপরাধে লিপ্ত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছিল ৷ গবেষকদের মতে, মানুষের মাঝে প্রায় ৫৪৯ প্রকারের যৌন বিকৃতি রয়েছে ৷ যৌন বিকৃতিকে মনোবিজ্ঞানীগণ সাধারণত মানসিক রোগ হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন ৷

গাঁজাখোর, ডাইলখোর, মদখোর, ইয়াবাখোর, হিরোইনখোর মাদকাসক্তদের বিভিন্ন নামে চিহ্নিত করা হলেও এককথায় বলতে গেলে তারা নেশাখোর বা মাতাল ৷ তেমনি যৌন বিকৃতিকে বিভিন্ন সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করা হলেও এককথায় এটি লাম্পট্য বা লুইচ্ছামি ৷ নেশা করতে করতে মাতালের যখন কোন মাদকেই নেশা ধরে না, তখন সে নিজের শরীরকে ক্ষত-বিক্ষত করে ৷ লুইচ্ছামি করতে করতে লম্পটের যখন কোন কিছুতেই আর সুখ মিলে না, তখন সে নিজের যৌনাঙ্গ পরিবর্তন করতে চায়, যাকে আধুনিক ভাষায় বলে ট্রান্সজেন্ডার ৷

প্রাচীনকালে দস্যু কর্তৃক অপহৃত বা যুদ্ধবন্দি বালকদের অন্ডকোষ বা শিশ্ন কর্তন করে খোজা করে প্রাসাদে কাজে লাগানো হতো, আর না হয় দাস ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেয়া হতো ৷ অপ্রাপ্ত বয়সে খোজা করায় তারা যখন বেড়ে উঠতো- তখন তাদের মাঝে না থাকতো পুরুষালী দৃষ্টিভঙ্গি না- নারীর; বরঞ্চ অধিকাংশ খোজাই মেয়েদের মতোই নম্র হয়ে যেতো ৷ আফ্রিকান ঔপন্যাসিক উইলবার স্মিথের মিশর সিরিজের উপন্যাসগুলো টাইটা নামের এমনই এক খোজাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ৷ টাইটার যদিও জননাঙ্গ ছিলো না তবুও সে রাজকুমারীর প্রেমে পড়ে এবং মনে মনে তাকে কামনা করে ৷

বলিউড অভিনেতা ইমরান হাশমির “মার্ডার-2” এর গল্পটা শুরু হয়েছে এমন এক চরিত্রকে কেন্দ্র করে যে স্বেচ্ছায় নিজের লিঙ্গ কর্তন করে, পরবর্তীতে মেয়েদের নির্যাতন করে যৌন সুখ অনুভব করে ৷ একটা গ্রুপে দেখলাম একজন মেয়ে পোস্ট করেছে, বিয়ের পর থেকে তার স্বামী সব দায়িত্ব পালন করলেও মিলনে অনীহা ৷ পরবর্তীতে জোর করলে সে দেখতে পায় যে তার স্বামী জেন্ডার পরিবর্তন করে ফেলেছে ৷ অর্থাৎ একজন পুরুষের শিশ্ন না থাকলেও তার মনে কামভাব জাগ্রত থাকে ৷

মাতালের পাগলামি আর মানসিক রোগীর পাগলামি যেমন এক নয়, হিজড়া আর ট্রান্সজেন্ডারও এক নয় ৷ বিশ্বের অনেক মুসলিম দেশে মাদক সেবন শাস্তিযোগ্য অপরাধ, আবার অনেক অমুসলিম দেশে মাদক সেবনে সমস্যা নেই কিন্তু প্রকাশ্যে মাতলামি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ ৷ মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে ট্রান্সজেন্ডার নিষিদ্ধের পাশাপাশি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গন্য করা যেতে পারতো, কিন্তু তা না করে সেটি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে ৷

কেউ কেউ বলে থাকেন হিজড়াদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করার জন্যই পাঠ্যপুস্তকে তা অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে ৷ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে হিজড়া ভোটার রয়েছেন মাত্র ৮৪৯ জন ৷ এর বাইরে যদি আমরা সারা বাংলাদেশের হিজড়াদের হিসাব করি তাহলে সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন হাজার হিজড়া হবে ৷ প্রায় বিশ কোটি জনসংখ্যার দেশে তিন বা পাঁচ হাজার হিজড়াকে যদি সরকারী কোষাগার থেকে পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে কোন মানুষই আপত্তি তুলবে না ৷

এসিড মারছে তো, পাঠ্যবইয়ে শিক্ষা দাও; যৌতুক নিচ্ছে, তো পাঠ্যবইয়ে শিক্ষা দাও; খাদ্যে ভেজাল, তো পাঠ্যবইয়ে দাও; অপহরণ হচ্ছে, তো পাঠ্যবইয়ে দাও; পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, তো পাঠ্যবইয়ে দাও; নদী দখল হচ্ছে, তো পাঠ্যবইয়ে দাও! আইন, কানুন, প্রশাসন, শাসকের ব্যর্থতার দায় কখনো পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিয়ে সমাধান হয় না ৷ যদি সমস্যা সমাধানের জন্যই পাঠ্যপুস্তকে কোন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে সত্যিকার অর্থে যে শিক্ষাটা ফলপ্রুস হবে তা কেন দেওয়া হয় না!

যৌন বিজ্ঞান নিয়ে ১৯৩৬ সালে আবুল হাসানৎ নামে একজন লেখক প্রায় সাতশত পৃষ্ঠার দুই খন্ডের একটি বই বের করেন ৷ বইটিতে দুনিয়ার বড় বড় যৌন বিজ্ঞানী এবং মনোবিজ্ঞানীদের উদ্বৃতির সারমর্ম হলো, অধিকাংশ যৌন বিকৃতির কারণ হলো, পিতামাতার সঙ্গে এক ঘরে বা এক বিছানায় শয়নকালে পিতামাতার মিলন লক্ষ্য করে শিশুরা নানাভাবে প্রভাবান্বিত হয় ৷ এধরনের সমস্যাগুলো সমাধানে তারা পিতামাতাদের সন্তানের বিষয়ে সতর্ক হওয়া, ছেলেমেয়েকে ভিন্ন ভিন্ন বিছানায় ঘুমানোর ব্যবস্থা করে দেওয়া,  ছেলেমেয়েদের নির্জনে মেলামেশা করার সুযোগ না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ৷

অনেক পরিশ্রম, অনেক পড়ালেখা, অনেক গবেষণা করে মাত্র কিছুদিন পূর্বে বিজ্ঞানীরা যে সিদ্ধান্তগুলোতে উপনীত হয়েছেন, ১৪০০ বছর পূর্বে আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগে আরবের একজন নিরক্ষর মানুষ জ্ঞানের মশাল নিয়ে এসেছিলেন ৷ তিনি সন্তান বালেগ হওয়ার পর বিছানা আলাদা করতে, ছেলেদের মেয়েদের পোশাক মেয়েদের ছেলেদের পোশাক পরতে নিষেধ করেছেন, বালেগ হওয়ার পর ছেলে-মেয়ে কঠোরভাবে পর্দা করতে, সকলকে দৃষ্টি অবনত রাখতে বলেছেন ৷ সন্তানদের কিভাবে সৎ এবং চরিত্রবান করে গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে তাঁর অনেক বাণী রয়েছে, যা মেনে চললে শুধু মুসলমানরা নয় অমুসলিমরাও উপকৃত হবে ৷ তাঁর শিক্ষাগুলো কেনো দেওয়া হয় না!

এদের নীতিনির্ধারকদের অধিকাংশই নপুংসুক বা খোজা, যাদের অন্ডকোষ পশ্চিমা প্রভুদের কাছে ৷ পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো যাদেরকে আমরা উন্নত বিশ্ব বলে থাকি সেখানকার ধার্মিক পরিবারগুলো ছেলে-মেয়ের বিবাহের জন্য প্রথমে ধার্মিক পাত্র/পাত্রী তালাশ করে ৷ পুরোপুরি ধার্মিক না পেলে মোটামুটি ধার্মিক হলেও চলবে ৷ পরে ধার্মিক হোক বা না হোক সমস্যা নেই ভার্জিন হলেই চলবে ৷ ধর্ম না মানুক, ভার্জিনিটি না থাকুক, সমকামী না হলেই চলবে ৷ শেষে থাক ভিক্ষা কুত্তা সামাল অবস্থা! ধর্ম, ভার্জিনিটি না থাকুক, কিন্তু জেন্ডার থাকতে হবে ৷

হারমোটিমাস নামে একজন খোজার ইতিহাস পাওয়া যায় ৷ ছলে বলে কৌশলে যে রাজার আস্থাভাজন হয়ে প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা লাভ করেছিলো ৷ পরবর্তীতে সে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে তাকে খোজাকারী ব্যক্তির পরিবারের সব পুরুষকে খোজা হতে বাধ্য করে ৷ এই দেশের নীতি নির্ধারকরাও হলো হারমোটিমাসের মতো, যারা নিজেরা খোজা হয়েছে বলে অন্যদেরও খোজা হতে উৎসাহিত করছে বা চাপ প্রয়োগ করছে ৷ এমন মানসিকতার লোকদের মনোবিজ্ঞানীরা স্যাডিস্ট বলে থাকেন ৷ যৌন বিকৃতির মাঝে স্যাডিজমও েক প্রকার বিকৃতি ৷

ট্রান্সজেন্ডার বা খোজাকরণের পৃষ্ঠপোষক ও সমর্থক ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীকে নিয়ে ইসলামের মনোভাব কী সে ব্যাপারে সম্মানিত আলেমগণ ব্যাখ্যা প্রদান করবেন ৷ একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে মনে করুন আপনি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী বা নাস্তিক ৷ আপনি ইচ্ছে করলে নিষিদ্ধ পল্লী বা স্বমেহনের মাধ্যমে আপনার যৌন চাহিদা পূরণ করতে পারেন, তারপরেও আপনি বিয়ে করছেন কেন! অবশ্যই মানুষ হিসেবে পৃথিবীতে আপনার কিছু চিহ্ন রেখে যাওয়ার জন্য যা একমাত্র বংশ বৃদ্ধির মাধ্যমেই সম্ভব ৷ ট্রান্সজেন্ডার বা খোজারা কিন্তু বংশবৃদ্ধি করতে পারে না ৷ যুক্তিবাদী মানুষেরা প্রশ্ন তুলতে পারেন, বান্ধ্যা এবং হিজড়ারাও তো বংশ বৃদ্ধি করতে পারে না ৷

পৃথিবীতে বিপর্যয় দুই প্রকার— প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং মানবসৃষ্ট বিপর্যয় ৷ ভূমিকম্প, ঝড়-বৃষ্টি, বজ্রপাত সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জন্য কোন আইন নেই ৷ কিন্তু পাহাড় কাটা, নদী ভরাট, বন্য প্রাণী নিধন ইত্যাদি মানবসৃষ্ট বিপর্যয় প্রতিরোধ করার জন্য সব দেশেই আইন রয়েছে ৷ বান্ধ্যা ও হিজড়া হলো প্রাকৃতিক বা স্রষ্টা প্রদত্ত বিপর্যয় কিন্তু ট্রান্সজেন্ডার বা খোজাকরণ হলো মানবসৃষ্ট বিপর্যয় ৷ মানবসৃষ্ট বিপর্যয় প্রতিরোধের জন্য দল, মত, ধর্ম, বর্ণ সব কিছু ভুলে প্রত্যেক বিবেকবান মানুষেরই এগিয়ে আসা উচিত ৷

লেখালেখি ও মিডিয়া মানুষের মনোজগতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করে ৷ সন্ত্রাসী, মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে দেখলে যেখানে আমাদের ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কথা ছিলো কিন্তু বিভিন্ন লেখক ও মিডিয়ায় সন্ত্রাসী ও মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের এমন নায়কোচিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে, বর্তমানে ভদ্রলোকের চেয়ে মানুষ সন্ত্রাসী ও মাদকাসক্ত ব্যক্তির প্রেমে বেশি পড়ে ৷ অনেকের মনোভাব ভালোবাসা দিয়ে আমি ওকে সুস্থ করে তুলবো ৷ বর্তমানে ট্রান্সজেন্ডারদের প্রতিও বিভিন্ন মিডিয়া ও লেখকদের সহানুভূতি দেখা যায় ৷ আপনি ভালোবাসা দিয়ে সন্ত্রাসীর অস্ত্র,  মাদকাসক্তের মাদক কেড়ে নিতে পারলেও ট্রান্সজেন্ডারের অস্ত্র ফিরিয়ে দিতে পারবেন না ৷ আপনার অবস্থা হবে সেই বুড়ির মতো—

এক বুড়ির আপন বলতে একটা ছাগল ছাড়া দু’ কুলে আর কেউ ছিল না ৷ বুড়ি যেখানে যায়, ছাগলও সেখানে যায় ৷ বুড়ির সাথে ছাগলের হৃদয়ের গভীর বন্ধন ৷ এক দিন বুড়ির সাথে এক ঋষির দেখা হলো ৷ বুড়ির দুঃখের কথা শোনে ঋষির মনে দয়া হলো ৷ ঋষি বললেন, “তোর মনের ইচ্ছা আমাকে খুলে বল ৷ আমি তোর তিনটা ইচ্ছা পূরণ করবো ৷”

বুড়ি বললো, “আমার প্রথম ইচ্ছে, আমাকে পৃথিবীর সব চেয়ে সুন্দর যুবতী করে দিন ৷” ঋষি তার প্রথম ইচ্ছে পূরণ করলো ৷ এবার দ্বিতীয় ইচ্ছে পূরণের পালা ৷ বুড়ি বললো, “আমার ছাগলটাকে পৃথিবীর সব চেয়ে সুন্দর, সুদর্শন যুবক হিসেবে দেখতে চাই ৷” ঋষি সে ইচ্ছে পূরণ করলো ৷ এবার বুড়ি বললো, “আমাদের বিয়ে পড়িয়ে দিন ৷” বুড়ির তৃতীয় ইচ্ছেও পূরণ হলো ৷

নিজের মন মতো সৌন্দর্য্য এবং সুদর্শন যুবক পেয়ে, অতঃপর বুড়ি সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলো; গল্পের শেষটা নিশ্চয় এমন আশা করছেন? না শেষটা এমন নয় ৷ ছাগলের মুখে প্রথম কথা শোনেই বুড়ির সে কি কান্না!

বন্ধুরা নিশ্চয় ভাবছেন, ছাগল মানুষ হয়ে বুড়ির সাথে বেঈমানী করেছে ৷ যেভাবে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বৌ-বাচ্চার ভরণ-পোষণ চালানো রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকরা বেঈমানী করে ৷ না, ছাগল ওদের মতো বেঈমানী করেনি ৷ ছাগল শুধু বলেছিল, “প্রিয়তমা! ছোট বেলায় যে তুমি আমারে খাসী বানাইছো, কথাটা মনে আছে?”

✍️

Sayedur Rahman vai

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

four × four =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য