-ইসরায়েল। নাতনিয়াহুর ফের নির্বাচিত হওয়ার চান্স খুবই কম। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত নাতনিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে নেমে যাওয়ার জন্য প্রচুর বিক্ষোভ হচ্ছে ইসরায়েলে। প্রথমত নাতনিয়াহু জেনে শুনেও এই হামলা থামায় নাই। মানুষকে হুঁশিয়ারি দে নাই। তারপর গত দুই মাসে কত ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে তার সংখ্যা না জানালেও, সরকার জানিয়েছে আহতের সংখ্যা ৫,০০০, আর ডিজেবলের সংখ্যা ২,০০০। এখন পর্যন্ত ১৩০ এর অধিক জিম্মি হামাসে কাছে বন্দী, যারা সকলেই আসলে ইসরায়েলি সেনা। এদের একজনকে উদ্ধারকালে, গোলাগুলিতে সেই সেনা মারা যায়। এই সব সেনাদের পরিবার রাস্তায় নেমেছে নাতানইয়াহুকে ক্ষমতা থেকে নামানোর দাবি নিয়ে, সাথে আছে প্রচুর ইসরায়েলি নাগরিক।
- আমেরিকা। ২০২৪ এর নির্বাচনে বেশ কিছু সুইং স্টেটে বাইডেন হেরে যাবে, কেবল মুসলমানদের ভোটের কারণে নয়, ইয়াং ভোটারদের কারণেও। আপাতদৃষ্টে মনে হচ্ছে বাইডেন তাতে মোটেই বিচলিত নয়। গতকালই আমেরিকা একমাত্র দেশ যে জাতিসংঘের সিকিউরিটি কাউন্সিলে যুদ্ধ থামানোর প্রস্তাবে না ভোট দিয়েছে। এবং একই সাথে কংগ্রেসের সাথে আলোচনা na করেই ১৪,০০০ ট্যাঙ্কের ইমুনেশান ইজরায়েলে পাঠানোট হুকুম দিয়েছে। বাইডেনের এই নিষ্ঠুরতা মুসলমান সহ প্রচুর ডেমোক্রেটিক ভোটার মনে রাখবে। কবরে নিজ দুই পা দিয়ে রাখা বাইডেনের ফিলিস্তিনিদের সফরিংস উপেক্ষা করাটা তার লেগাসি হয়ে থাকবে। তার নাম জেনোসাইড জো হিসাব ইতিমধ্যে ইতিহাসে পাতায় লেখা হয়ে গেছে।
- তুরস্ক। এরদোয়ান ফিলিস্তিনিদের পক্ষে যত লম্বা লম্বা কথা বলেছে তারা ১০ ভাগের ১ ভাগও কাজ করে নাই। এরদোয়ান যদিও চেয়েছিল সব রিজিওনাল আরব দেশকে নিয়ে কিছু করার, সামরিক জোট করার, সেই জোটের নেতৃত্ব দেয়ার। কিন্তু সৌদি আরব আর আমিরাতের কোন ধরণের মিলিটারি ইন্টারভেনশনের আগ্রহ নাই বিধায় সেই প্ল্যান ব্যাকফুটে চলে গেছে। এই দুই দেশ আপাতত শান্তি চায়। যদিও তুরস্ক হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার ১ মাস পর তাদের রাষ্ট্রদূতকে তুরস্কে ফিরিয়ে এনেছে, কিন্তু ব্যবসায়িক সুসম্পর্ক চলছে আগের মতোই। এরদোয়ানের জন্য এই যুদ্ধ দুই ধারী তলোয়ার। তার হাত ধরে অর্থনৈতিক মন্দা আসলে তা যেমন আগামী নির্বাচনে এরদোয়ানকে এফেক্ট করবে, তেমন ফিলিস্তিনিদের জন্য আরও কিছু না করার জন্যও তুরস্কের সাধারণ মানুষ বেশ ডিসপয়েন্টেড হয়েছে এরদোয়ানের উপর। তারা বলছে, এরদোয়ানের এক ডাকে আমরা সেদিন (ক্যু) রাস্তায় নেমেছিলাম, আজ আমরা চাই এরদোয়ান তুর্কি যোদ্ধা গাজার রাস্তায় নামাক। যদিও এটা অত্যন্ত ইমপ্রেক্টিকাল একটা দাবী, তবে ভোটের সময় মানুষ তার হৃদয়ের ডাকেই সারা দিবে।
গাজাবাসীদের উপর সামরিক যুদ্ধের উপর এখন শুরু হয়েছে হাঙ্গার ওয়ার। মানুষের স্বাস্থ্যের উপর খাদ্যের অভাবের ইমপ্যাক্ট শুরু হয়ে গেছে। পানির অভাবে প্রচুর মানুষ ইউরেনারি ট্র্যাক্টের ইনফেকশনে ভুগছে, গোসলের অভাবে প্রচুর মানুষ চর্ম রোগে আক্রান্ত। সেই সাথে হচ্ছে আপার রেসপারেটরি ইনফেকশন, ডাইরিয়া, হেপাটাইটিস এ, মিসেলস, চিকেন পক্স। কোন কোন জায়গায় মানুষ দিনে একটা রুটি খেয়ে থাকছে, তো কোথাও সবাই চেয়ে আছে শেষ রুটিটার দিকে। মানুষ লবণাক্ত পানি পান করে কিডনী আক্রান্ত করছে।
ইসরায়েলিদের নির্মমতা আর নিষ্ঠুরতা বলে বর্ণনা করার মতোন নয়। সাধারণ মানুষকে ধরে কাপড়চোপড় খুলে, কেবল পরনে আন্ডারওয়ার, লাইনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে দুনিয়াকে বলছে হামাস আত্মসমর্পণ করেছে, পরে প্রমাণিত হয়েছে যে স্কুলে আশ্রয় নেয়া সিভিলিয়ান পপুলেশন থেকে ধরে নিয়ে মহিলা পুরুষ আলাদা করে তাদের ধরেছে। আত্মসমর্পণের নাটক সাজিয়েছে। বেশ কিছু মানুষকে সেই আধা ন্যাংটো অবস্থায় ছেড়ে দিলেও বাকিদের ধরে নিয়ে গেছে।
নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা ১৭,০০০ অতিক্রম করে গেছে। আর নিহত বাচ্চাদের সংখ্যা প্রায় ৭,৫০০। বিশ্বের আর কোন যুদ্ধে দুই মাসে এত বাচ্চা মারা যায় নাই। ইসরায়েল নিষ্ঠুরতার রেকর্ড গড়েছে। তাকে সেই রেকর্ড গড়তে শক্ত দিয়েছে আমেরিকার বাইডেন সরকার।
প্রচুর গাজাবাসী হাত পা হারিয়ে বিকলাঙ্গ হয়ে পড়ছে। আল্লাহ কবে যে গাজাবাসী সহ সকল ফিলিস্তিনিদের এই বিপদ থেকে উদ্ধার করবে তা তিনি জানেন। এখন তাদের অবস্থা সহ্য করার সীমা অতিক্রম করে গেছে।
