মঙ্গলবার পশ্চিম তীরের জেনিন শহরের ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্সের ছদ্মবেশে হামলা চালিয়ে ঘুমের মধ্যে তিনজন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।
গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নামে দক্ষিণ গাজা খান ইউনিস শহরে কার্যত হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসরাইল- মঙ্গলবার এমনটাই দাবি করল গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আরো দাবি, অসাধারণ নৈপুণ্যে খান ইউনিসের হাসপাতালগুলোতে হামলা চালাচ্ছে ইসরাইলি সেনাসদস্যরা। আটকে রাখছে অ্যাম্বুল্যান্সগুলোকে।
মঙ্গলবারই পশ্চিম তীরের জেনিন শহরের ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্সের ছদ্মবেশে হামলা চালিয়ে ঘুমের মধ্যে তিনজনকে হত্যা করে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। ইসরাইলের দাবি, ওই তিনজনই হামাসের সদস্য। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, ডাক্তারের ল্যাবকোট, নার্সের পোশাক, এমনকি হিজাব পরে মহিলা সেজে হামলা চালাচ্ছে বাহিনী।
হামাস-ইসরাইল সংঘাতে প্রাণ গেছে সাংবাদিকদেরও। সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠনের তথ্য অনুসারে, গাজার সংঘাতে প্রাণ গিয়েছে অন্তত ৯২ জন সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীর। গাজার প্রশাসন সূত্রে দাবি, সোমবার দু’জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের মৃত্যুর পরে সংখ্যাটি এখন ১২২। প্রশাসনের একাংশের দাবি, গাজা-পশ্চিম তীরে হামলার ছবি যাতে সারা বিশ্বের কাছে না পৌঁছায় তাই বেছে বেছে সাংবাদিকদের উপরেও হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল।
সংঘাতের আবহেই রোববার রাতে গাজা ভূখণ্ড ও পশ্চিম তীর পুনর্দখল ও পুনর্বাসন নিয়ে একটি অধিবেশন হয় ইসরাইলে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির ১২ জন মন্ত্রী যোগ দিয়েছিলেন তাতে। যুদ্ধ কিভাবে থামানো যায় তা নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও তা গড়িয়েছে গাজা ও পশ্চিম তীরে ফের ইসরাইলের দখল করা নিয়ে। নেতানিয়াহু অবশ্য দাবি করেছেন, ওই অধিবেশনে যা আলোচনা হয়েছে তা তার সরকারের আদর্শ নয়।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা
