Saturday, April 18, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরগাজায় মাছ ধরায় ইসরাইলের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আহ্বান

গাজায় মাছ ধরায় ইসরাইলের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আহ্বান

আল-বাহার ফিশ ফার্মের ট্যাঙ্কের পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি। বাড়িতে রান্না করার জন্য সামুদ্রিক মিঠা পানির মাছ ব্রিম নেয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন তারা। আবার কেউ কেউ পাশের রেস্তোরাঁয় অপেক্ষা করছেন কেনা মাছ রান্না করে বাড়ি নিয়ে খাবেন বলে।

ভূমধ্যসাগর সংলগ্ন গাজা উপত্যকার তিনটি মাছের খামারের মধ্যে আল-বাহার একটি। স্থানীয় বাজারে মাছের চাহিদা মেটাতে ফিলিস্তিনি বিনিয়োগকারীরা খামারটি শুরু করেছিলেন।

অক্সিজেন পাম্প এবং পানিশোধন যন্ত্র দিয়ে বানানো বিশেষ ট্যাঙ্কিতে পরিস্কার পানিতে লবণ মিশিয়ে মাছ চাষ করা হয়।

আল-বাহার ফার্মের মালিক ইয়াসির আল-হাজ বলেন, প্রায় ছয় বছর আগে প্রকল্পটি শুরু করেছিলাম। স্থানীয় বাজারে মাছের চাহিদা এবং মাছ ধরার উপর ‘নিষেধাজ্ঞা আরোপিত’ হওয়ার কারণে প্রকল্পটি শুরু করি।

তিনি বলেন, ব্রিম মাছ বেছে নেয়ার কারণ অন্যান্য প্রজাতির তুলনায় এগুলোর প্রজনন করা সহজ এবং সস্তা। তবে এই মাছ ট্যাঙ্কে চাষ করার অভিজ্ঞতা কম।

ইসরাইলের নিষেধাজ্ঞার কারণে কয়েক বছর ধরে ফিলিস্তিনিরা এসব প্রকল্প শুরু করেছে।

আল-বাহার ফার্মের একজন ক্রেতা মাহমুদ ঢালী (৫২) বলেন, ‘আমি এখানকার খামার থেকে নিয়মিত মাছ কিনছি। কয়েক বছর ধরে সপ্তাহে একবার বা দুইবার কিনি। কখনো বাড়িতে রান্না করা হয় এবং কখনো কখনো বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার আগে রেস্তোরাঁ থেকে রান্না করে নিয়ে যাই। আমার পরিবার সামুদ্রিক ব্রিম খুব পছন্দ করে।’

ফিলিস্তিনের কৃষি মন্ত্রণালয়ের মতে, ফিলিস্তিনি জেলেরা প্রায় চার হাজার পাঁচ শ’ টন মাছ ধরে। স্থানীয় খামারগুলো উৎপাদন করে প্রায় ৬২০ টন। এছাড়া প্রায় দেড় হাজার টন মাছ মিসর থেকে বছরে আমদানি করা হয়। এবং কয়েক হাজার টন হিমায়িত মাছ অন্যান্য দেশ থেকে কেনা হয়।

গাজা উপত্যকায় জনপ্রতি ১৩ কিলোগ্রাম হারে বার্ষিক প্রায় ২৬ হাজার টন মাছের প্রয়োজন। কিন্তু এই হিসেবে ঘাটতি রয়েছে ১২ হাজার টন মাছের। এই পরিমাণ মাছ ধরা, চাষ এবং আমদানি করা হয় না।

গাজার কৃষি মন্ত্রণালয়ের মৎস্য বিষয়ক মহাপরিচালক ওয়ালিদ থাবেত বলেছেন, ‘গাজা উপত্যকায় মাছ ধরার জন্য অনুমোদিত এলাকা সীমিত এবং জেলেদের সংখ্যাও কম। তা ছাড়াও ভূমধ্যসাগরে তেমন মাছও পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, ‘যদি অবরোধ প্রত্যাহার করা হয় এবং জেলেদের মাছের জন্য বৃহত্তর অঞ্চলে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয় এবং পাশাপাশি সরঞ্জামগুলো অবাধে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়, তবে মাছ ধরার সংখ্যা দ্বিগুণ হবে।’

এছাড়াও, গাজায় ধরা এবং খামারে উৎপাদিত বার্ষিক আট শ’ টন মাছ পশ্চিম তীরের বাজারে বিক্রি হয়।

থাবেত বলেন, মন্ত্রণালয় মিসর থেকে স্থানীয় বাজারের জন্য যুক্তিসঙ্গত মূল্যে মাছ আমদানি করার অনুমতি দেয়। বিনিময়ে কিছু পশ্চিম তীরে বিক্রি করার অনুমতি দেয়। এটি এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করে যেখানে স্থানীয় জেলেদের সহায়তা করা হয় এবং তাদের মাছ ভাল দামে কেনা হয়।

গাজা উপত্যকায় প্রায় চার হাজার ফিলিস্তিনি এবং তাদের পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস মাছ ধরা।

সূত্র : আরব নিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

7 − 2 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য