স্পেনে মুসলিম শাসনকাল ছিল দেশটির জন্য একটি স্বর্ণযুগ। এ সময় স্পেনের সামগ্রিক অর্থনীতিতে অভাবনীয় উন্নয়ন ঘটে। এমন শিল্প, বাণিজ্য ও কৃষি—সব কিছুতেই মুসলমানের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে। এখানে মুসলিম স্পেনে সেচব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করা হলো।
আইবেরিয়ান উপদ্বীপে (বর্তমান স্পেন ও পর্তুগাল) সেচব্যবস্থার প্রবর্তন করেছিল রোমানরা। মুসলিমদের হাতে সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন ঘটে। আগে যেসব অঞ্চল অনুর্বর ও শুষ্ক ছিল—যেমন আলমেরিয়ার কাবো ডি গাটা অথবা টার্বানের মরুভূমি, মুসলিমদের প্রচেষ্টায় মরূদ্যানে পরিণত হয়। আর তা সম্ভব হয়েছিল পানিচাকা (ধিঃবিযববষ)-এর মাধ্যমে, যা ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে কৃষিভূমির নালাতে ঢেলে দিত। যার কিছু কিছু নিদর্শন আলমেরিয়ার ‘এল পোজো ডি লজ’ গ্রামে এখনো টিকে আছে।
মুসলিমরা শস্যদানা পেষার কাজে ব্যবহৃত ‘ওয়াটার মিল’ ব্যবহারেও দক্ষ ছিল এবং তারা রোমানদের উদ্ভাবিত পানি সংরক্ষণ পদ্ধতি ‘সিস্টার্ন’-এর উন্নয়ন ঘটিয়ে ‘আলজিব’ নামক পানি সংরক্ষণ পদ্ধতির উদ্ভব ঘটায়। গ্রানাডা শহরের একটি আলজিবসহ সমগ্র আন্দালুসিয়ায় এখনো শতাধিক আলজিব সক্রিয় আছে। আন্দালুসের শুষ্ক পাহাড়ি অঞ্চলের পানি সংরক্ষণ এবং আকস্মিক ঝড়ে প্রবল বেগে নেমে আসা পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে মুসলিমরা পানি সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। সংরক্ষণব্যবস্থাগুলোর মধ্যে ছিল আনুভূমিক বাঁধ। পাহাড়ি নালাগুলোতে পাথর ও মাটি দিয়ে এসব বাঁধ গড়ে তোলা হতো। প্রতিটি বাঁধের আয়তনের মধ্যে ছিল সমতল কৃষিভূমি। এসব পাহাড়ি নালার পানি কৃষি কাজ ছাড়াও অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হতো। আলমেরিয়া, মুরসিয়া ও গ্রানাডার কিছু কিছু এলাকায় এখনো কৃষি কাজে মুসলিমদের উদ্ভাবিত অবকাঠামো ব্যবহৃত হয়।
স্পেনে পাহাড়ের গায়ে ‘টেরাসিং’ পদ্ধতিতে চাষাবাদের প্রচলনও মুসলিমদের মাধ্যমে হয়েছিল। এটা হলো পাহাড়ের গায়ে সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে ফসল বোনার জায়গা তৈরি করা এবং প্রত্যেক ধাপে বাঁধ দিয়ে পানি সংরক্ষণ করা। মুসলিমদের প্রবর্তিত এই পদ্ধতিটিও এখনো স্পেনের কোনো কোনো পাহাড়ি অঞ্চলে দেখা যায়।
ভিজিট আন্দালুসিয়া ডটকম অবলম্বনে
