Thursday, September 3, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়াঈসা আলাইহিস সালামের কোন মানব পিতা ছিলোনা; মোহাম্মদ ওমর ফারুক মিল্কি

ঈসা আলাইহিস সালামের কোন মানব পিতা ছিলোনা; মোহাম্মদ ওমর ফারুক মিল্কি

ঈসা আলাইহিস সালামের কোন মানব পিতা ছিলোনা

আমরা বিশ্বাস করি যে ঈসা আলাইহিস সালাম কোন পুরুষের সংস্রব ছাড়া অলৌকিকভাবে পিতৃবিহীন জন্মগ্রহণ করেছেন, যা আধুনিককালের অনেক খ্রিস্টানরা মানতে চান না। আমাদের খ্রিস্টান ভাইরা এর থেকে বলতে চান যে, যেহেতু ঈসা আলাইহিস সালাম এর কোন মানব পিতা ছিলোনা সেহেতু তিনি দেবোপম (Divine)।

ঈসা আলাইহিস সালামের অলৌকিক জন্ম কি তাকে ঈশ্বর বা ঈশ্বরের জাতপুত্র করে তোলে? না! কুরআনুল কারীমে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: নিশ্চয় আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের মত, তিনি তাকে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তাকে বললেন, ‘হও’, ফলে সে হয়ে গেল। সত্য তোমার রবের পক্ষ থেকে, সুতরাং তুমি সন্দেহ পোষণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। [আল ইমরান ৩ : ৫৯-৬০]

এটা ঈশ্বরের একটি নিদর্শন। আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মানুষদেরকে ৪ ভাবে সৃষ্টি করেছেন: তিনি আদাম আলাইহিস সালাম কে সৃষ্টি করেছেন কোন বাবা ও মা ব্যতীত। তিনি হাওয়া আলাইহাস সালাম কে সৃষ্টি করেছেন কোন নারী ব্যতীত। তিনি ঈসা আলাইহিস সালাম কে সৃষ্টি করেছেন কোন পুরুষ ব্যতীত। তিনি অন্যান্য সকল মানুষকে সৃষ্টি করেছেন একজন নারী ও পুরুষ থেকে।

কিন্তু তাও যদি আমাদের খ্রিস্টান ভাইরা দাবি করেন যে না না, তাঁর কোন মানব পিতা ছিলোনা তাই তিনি ঈশ্বর, তাহলে আদাম আলাইহিস সালাম তো তাঁর চেয়েও বড় ঈশ্বর যেহেতু তাঁর কোন মাতাও নেই এবং কোন পিতাও নেই। কিন্তু আমাদের খ্রিস্টান ভাইরা কি আদাম আলাইহিস সালামকে ঈশ্বর মেনে নিবেন? না, তারা তা করবেন না।

আমরা যদি বাইবেল পড়ি তাহলে আমরা আরও একজন আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের ব্যাপারে জানতে পারব, তাঁর নাম হচ্ছে মল্কীষেদক, তাঁর ব্যাপারে বাইবেল বলে যে: সেই যে মল্কীষেদক, যিনি শালেমের রাজা ও মহান ঈশ্বরের যাজক ছিলেন, আব্রাহাম যখন রাজাদের পরাজিত করে ফিরে আসেন, তিনি তখন তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলেন, ও তাঁকে আশীর্বাদ করলেন, এবং আব্রাহাম তাঁকে সব কিছুর দশমাংশ দিলেন।

তাঁর নাম “মল্কীষেদক” মানে ‘ন্যায়ের রাজা,’ এবং ‘শালেমের রাজা’ অর্থাৎ শান্তির রাজা; তাঁর বাবা নেই, মা নেই, পূর্বপুরুষ নেই, দিনের শুরু কি জীবনের শেষ নেই; তিনি ঈশ্বরের পুত্রের মতো; তিনি চিরকালই যাজক থাকেন। [ইব্ৰীয় ৭/১-৩]

আমরা এই তিনটি আয়াত থেকে বুঝতে পারলাম যে, এই মল্কীষেদক (Melchizedek) জেরুযালেমের রাজা, ঈশ্বরের যাজক, ন্যায়ের রাজা, শান্তির রাজা, তাঁর বাবা নেই, মা নেই, পূর্বপুরুষ নেই, দিনের শুরু কি জীবনের শেষ নেই। অন্য দিকে আমরা জানি যে ঈসা আলাইহিস সালাম এর বাবা না থাকলেও তাঁর মা ছিলেন মারইয়াম আলাহাস সালাম এবং তাঁর পূর্বপুরুষও ছিল। আমরা এও জানি যে তাঁর জীবন শুরু হয় বেথেলহামে এবং বাইবেল অনুযায়ী তাঁর জীবন শেষ হয় কাল্পনিক ক্রুশের উপর।

তো আমরা যদি এই মল্কীষেদককে ঈসা আলাইহিস সালামের সাথে তুলনা করি তাহলে মল্কীষেদক তো ঈসা আলাইহিস সালাম কে তাঁর এসকল গুণ দিয়ে অনেক পিছে ফেলে দিবেন। মল্কীষেদকের এসব গুণ ঈশ্বর ব্যতীত অন্য কারো হতে পারেনা, কিন্তু আমাদের খ্রিস্টান ভাইরা কি তাঁকে ঈশ্বর মেনে নিবেন? তা মনে হয়না। তাহলে, তবুও কেন ঈসায়ীরা ঈসা আলাইহিস সালাম কে ঈশ্বর মনে করে?

মোহাম্মদ ওমর ফারুক মিল্কি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

sixteen − eight =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য