Sunday, August 23, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়াঅলসতা এক আত্মিক ব্যাধি: নিজেকে বাঁচাতে রাসুল (সা.) কী করতেন?

অলসতা এক আত্মিক ব্যাধি: নিজেকে বাঁচাতে রাসুল (সা.) কী করতেন?

অলসতা শুধু শরীরের ক্লান্তি নয়, এটি এমন একটি মানসিক অসুখ যা ধীরে ধীরে আমাদের ভেতরের সম্ভাবনাগুলোকে নষ্ট করে দেয়। আমাদের প্রিয় নবি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে অনেক কর্মঠ ছিলেন। তিনি জানতেন অলসতা মানুষের কতটা ক্ষতি করতে পারে, তাই তিনি আমাদের এর থেকে বেঁচে থাকার জন্য কিছু সুন্দর ও বাস্তবসম্মত পথ দেখিয়ে গেছেন।

অলসতা থেকে মুক্তির প্রথম ধাপ হলো আল্লাহর কাছে মন থেকে সাহায্য চাওয়া। নবিজি (সা.) নিজেও নিয়মিত একটি দুআ পড়তেন, “হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, বার্ধক্য ও কৃপণতা থেকে আশ্রয় চাই। আমি কবর আজাব এবং জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকেও আশ্রয় চাই।” (সহিহ মুসলিম: ২৭২২)

আমাদের দিনের শুরুটা কেমন হচ্ছে, তার ওপর সারাদিনের কাজ অনেকটাই নির্ভর করে। রাত জেগে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস আমাদের আরও বেশি অলস করে তোলে। সকালে কাজ শুরু করার ব্যাপারে নবিজি (সা.) দুআ করেছেন, “হে আল্লাহ, আমার উম্মতকে ভোরের প্রহরে বরকত দান করুন।” (সুনানে আবু দাউদ: ২৬০৬)

সকালে ঘুম ভাঙার পর আমাদের শরীরে একধরনের জড়তা থাকে। রাসুল (সা.)-এর ভাষ্যমতে, ঘুমের সময় শয়তান মানুষের মাথায় অলসতার তিনটি গিট দেয়। কিন্তু আমরা যদি ঘুম থেকে উঠেই আল্লাহকে স্মরণ করি তবে প্রথম গিট, অজু করলে দ্বিতীয় গিট এবং নামাজ পড়ে নিলে তৃতীয় গিটটি খুলে যায়। এতে মানুষ প্রফুল্ল ও কর্মচঞ্চল শরীর নিয়ে সকাল শুরু করতে পারে; নতুবা তার ভেতরে অলসতা ও কলুষতা থেকে যায়। (সহিহ বুখারি: ১১৪২)

মাঝে মাঝে একসঙ্গে অনেক বড় কাজের চাপ দেখলে আমরা ঘাবড়ে যাই, আর তখনই মানসিক অলসতা আমাদের পেয়ে বসে। এই সমস্যা কাটানোর খুব সহজ একটি উপায় হলো— কাজগুলোকে অল্প অল্প করে নিয়মিত করা। কারণ, নবিজি (সা.) বলেছেন, “আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কাজ হলো তা-ই, যা নিয়মিত করা হয়; যদিও তা পরিমাণে অল্প হয়।” (সহিহ বুখারি: ৬৪৬৫)

সবশেষে, আমাদের ভেতরে চেষ্টার একটা ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। ইসলাম কখনো নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থাকাকে সমর্থন করে না। নিজের কল্যাণের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াই মুমিনের কাজ। রাসুল (সা.) বলেছেন, “শক্তিশালী ও কর্মক্ষম মুমিন আল্লাহর কাছে দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম ও অধিক প্রিয়… তোমার জন্য যা কল্যাণকর তা অর্জনে সচেষ্ট হও, আল্লাহর সাহায্য চাও এবং কখনো অলস হয়ে বসে থেকো না বা হাল ছেড়ো না।” (সহিহ মুসলিম: ২৬৬৪)

এমনকি পবিত্র কুরআনেও নির্দেশ এসেছে— একটি কাজ শেষ করার পর অলস বসে না থেকে পরবর্তী সৎকাজ ও কর্মপ্রচেষ্টায় মনোনিবেশ করতে (সুরা ইনশিরাহ: ৭-৮)।

দৈনন্দিন জীবনে একটু একটু করে এই অভ্যাসগুলো চর্চা করতে পারলেই অলসতাকে চিরতরে দূরে সরিয়ে একটি অর্থপূর্ণ ও সফল জীবন গড়ে তোলা সম্ভব।

© সমকালীন প্রকাশন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

sixteen − 14 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য