Monday, August 17, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়াআওয়াজ"গবেষণা বলছে...", কিন্তু টাকা দিচ্ছে কে?

“গবেষণা বলছে…”, কিন্তু টাকা দিচ্ছে কে?

“গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে…”

এই একটা লাইন শুনলেই আমরা থেমে যাই। মাথা নেড়ে মেনে নিই। কারণ গবেষণা মানেই তো সত্য, বৈজ্ঞানিক, নিরপেক্ষতা।

কিন্তু কখনো ভেবেছেন — এই গবেষণাটা করল কে? আর টাকাটা দিল কে?

কয়েকটা সত্যি ঘটনা বলি। শুনলে “গবেষণা” শব্দটার দিকে আর আগের চোখে তাকাতে পারবেন না।

এক.

১৯৬০-এর দশক। চিনি নিয়ে কিছু গবেষণা তখন দেখাতে শুরু করেছে — চিনিই হৃদরোগের বড় কারণ।

চিনি-শিল্পের মালিকরা ঘাবড়ে গেল। কারণ এটা প্রমাণ হলে তাদের বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা শেষ।

তারা কী করল? বন্দুক ধরল না, হুমকি দিল না।

তারা হার্ভার্ডের কয়েকজন নামকরা বিজ্ঞানীকে টাকা দিল — আজকের হিসাবে প্রায় পঞ্চাশ হাজার ডলার। বিজ্ঞানীরা একটা “গবেষণা” প্রকাশ করলেন, যেখানে দোষটা চাপানো হলো ফ্যাট বা চর্বির ওপর, আর চিনিকে বলা হলো তুলনামূলক নিরাপদ।

আর সবচেয়ে ভয়ংকর কথা? ওই গবেষণাপত্রে কোথাও লেখা ছিল না যে টাকাটা চিনি-শিল্প দিয়েছে।

ফলাফল? এরপর প্রায় পঞ্চাশ বছর গোটা দুনিয়া “চর্বিই শত্রু, চিনি ঠিক আছে” — এই ভুল বিশ্বাস নিয়ে বাঁচল। কত মানুষ যে এই মিথ্যার শিকার হলো, তার হিসাব নেই।

দুই.

একই খেলা তামাক কোম্পানিরাও খেলেছে দশকের পর দশক। শুরুর দিকে তো তারা সরাসরি ডাক্তারদেরই ব্যবহার করত বিজ্ঞাপনে। “More doctors smoke Camels(ব্র‍্যান্ড নেইম)” — এমন বিজ্ঞাপন ছাপা হতো, সাদা অ্যাপ্রন পরা ডাক্তারের ছবিসহ। ভাবুন, যে ডাক্তারের কাছে আপনি সুস্থ থাকার পরামর্শ নিতে যান, তাঁকে দিয়েই বিষ বিক্রি করানো হচ্ছে।

তারপর যখন সিগারেট আর ক্যান্সারের সম্পর্ক নিয়ে প্রমাণ আসতে শুরু করল, তারা টাকা ঢেলে “গবেষণা” করিয়ে সন্দেহ তৈরি করল — “না না, নিশ্চিত প্রমাণ তো নেই।” সেই সন্দেহের ফাঁকে বিক্রি চলল, আর মানুষ মরল।

তিন.

ভাববেন না এগুলো শুধু পুরোনো দিনের গল্প।

মাত্র কয়েক বছর আগে, ২০১৫ সালে, ফাঁস হলো — বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোমল পানীয় কোম্পানি লাখ লাখ ডলার খরচ করে গবেষকদের দিয়ে বলিয়েছে, “স্থূলতার আসল কারণ চিনিযুক্ত পানীয় নয়, বরং ব্যায়ামের অভাব।”

অর্থাৎ দোষটা ঘুরিয়ে দেওয়া হলো আপনার আলসেমির ওপর, তাদের পণ্যের ওপর নয়। একই কৌশল। শুধু সাল বদলেছে, কোম্পানি বদলেছে। খেলাটা সেই একই।

“গবেষণা” শব্দটা আমাদের কাছে পবিত্র। আর ঠিক এই পবিত্রতাটাকেই তারা কিনে নেয়। কারণ একটা মিথ্যা যদি সরাসরি বলা হয়, মানুষ সন্দেহ করে। কিন্তু সেই একই মিথ্যা যদি “গবেষণায় প্রমাণিত” মোড়কে আসে — মানুষ বিনা প্রশ্নে গিলে ফেলে।

এটা ন্যারেটিভ বানানোর অন্যতম সবচেয়ে সূক্ষ্ম অস্ত্র।

ভাবুন তো, আজ আপনার সামনে যেই “স্টাডি বলছে”, “গবেষণায় দেখা গেছে” আসে— এর কতগুলোর পেছনে কার স্বার্থ লুকিয়ে আছে, আপনি জানেন?

কোন কোম্পানি টাকা দিয়েছে? কে প্রকাশ করেছে? কার লাভ হচ্ছে এই “সত্য” প্রচারে?

আমি বলছি না সব গবেষণা মিথ্যা। সৎ, নিরপেক্ষ গবেষণা অবশ্যই আছে, আর সেগুলোই মানবজাতির অগ্রগতির ভিত্তি।

আমি শুধু বলছি — “গবেষণা” শুনেই চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করবেন না। প্রশ্ন করুন। উৎস খুঁজুন। কার টাকা, কার স্বার্থ — দেখুন।

আর এখানেই আমাদের দ্বীন কত আগে পথ দেখিয়ে রেখেছে।

আল্লাহ বলেছেন —

হে ঈমানদারগণ! কোনো ফাসিক যদি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তা যাচাই করে নাও।

(সূরা হুজুরাত, ৪৯:৬)

খেয়াল করুন — আল্লাহ বলছেন খবরটা কে আনছে, সেটা আগে দেখো। উৎস যাচাই করো। চৌদ্দশ বছর আগের এই এক আয়াত আজকের গোটা “গবেষণা-শিল্পের” মুখোশ খুলে দেয়।

সত্য যাচাই করা আমাদের ইবাদতের অংশ। অন্ধ বিশ্বাস নয়।

আল্লাহ আমাদের সত্য-মিথ্যা চেনার বিবেক দিন, আর যাচাই না করে কিছু গিলে ফেলার অভ্যাস থেকে রক্ষা করুন। আমীন।

© Abu MuHammad Rafiuzzaman

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

fifteen + four =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য