Tuesday, May 26, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeযুগ জিজ্ঞাসাচাকুরীজীবী স্ত্রীর বাস্তবতা- পুরুষের চিন্তা বোধ

চাকুরীজীবী স্ত্রীর বাস্তবতা- পুরুষের চিন্তা বোধ

আমরা আসলে নিজেদের জন্য কেন চাকরিজীবী স্ত্রী প্রিফার করি না?

নারী কি একদমই বাইরে চাকরি করতে পারবেই না?

যেহেতু আমরা কিছু লেখালেখি করি, এমন প্রশ্ন মাঝে মাঝেই চলে আসে। আমি আমার যায়গা থেকে কিছু আলোচনা এটার উপর আনতে চাই।

প্রথম কথা হলো ইসলাম মৌলিক ভাবে নারীকে ঘরে অবস্থান করতে বলে।

স্বয়ং আল্লাহ রব্বুল আ’লামিন সূর আহযাব এর ৩৩ নং আয়াতে জানিয়েছেন-

وَقَرْنَ فِيْ بُيُوْتِكُنَّ وَلَا تَبَـرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْاُ وْلٰى وَاَ قِمْنَ الصَّلٰوةَ وَاٰ تِيْنَ الزَّكٰوةَ وَاَ طِعْنَ اللّٰهَ وَرَسُوْلَهٗ ۗ اِنَّمَا يُرِيْدُ اللّٰهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيْرًا

“আর তোমরা নিজেদের গৃহে অবস্থান কর, প্রাচীন অজ্ঞতার যুগের মত চোখ ঝলসানো প্রদর্শনী করে বেড়িও না। আর তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা কর, যাকাত প্রদান কর এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য কর। হে নবীর পরিবার! আল্লাহ কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পবিত্র ও নিষ্কলংক করতে।”

নারীর জন্য সবচেয়ে উত্তম হলো বাসায় থাকা। এটা তো আমার কথা না। স্বয়ং আল্লাহই ক্বুরআনে আয়াত নাজিল করে জানাচ্ছেন। আল্লাহ এটাও জানাচ্ছেন যে- নারীরা বাসা থেকে বের যদি হয়ও, তারা যেন নিজ সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে।

এখন এইটা হলো মৌলিক একটা পয়েন্ট। তবে এখানে প্রশ্ন চলে আসে যাদের জরুরত আছে তারা?

এখন এই জরুরত কি, তার সংজ্ঞা নির্ধারণ করা জরুরী। কারণ জরুরত এর অজুহাত দিয়ে রীতিমতো এবিউজ করা হচ্ছে। একদম নিরুপায়, কোনো উপায় নেই- এমন হলে তাও পর্দা মেনে বাইরে আসার সুযোগ আছে সত্য

কিন্তু ইসলাম তো এটা বলে না যে শুধু নিজের ক্যারিয়ার গড়ার জন্য পর্দা মেনে বাসার বাইরে চাকরি করতে হবে।

নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চাওয়ার যেই urge , এটা ইসলামী হুকুমাতের জরুরতের সংজ্ঞায় আসবে না।

আজকের দিনে অধিকাংশ নারী বাইরে কাজ করতে চায় নিজের ক্যারিয়ারের জন্য, নিজে স্বাবলম্বী হবার জন্য। এই কনসেপ্টটাই ইসলামের সাথে আসলে যায় না। ইসলাম তো নারীর উপর পুরুষকে কর্তৃত্ব দিয়েছে, এখানে একজন মুসলিম নারীর জন্য তো স্বাবলম্বী হওয়াটা নেসেসারিই না।

এখানে আগে আল্লাহর আয়াতটা একবার পড়ে ফেলি-

“পুরুষগণ নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল এ কারণে যে, আল্লাহ তাদের এককে অন্যের উপর মর্যাদা প্রদান করেছেন, আর এজন্য যে, পুরুষেরা স্বীয় ধন-সম্পদ হতে ব্যয় করে। ফলে পুণ্যবান স্ত্রীরা (আল্লাহ ও স্বামীর প্রতি) অনুগতা থাকে এবং পুরুষের অনুপস্থিতিতে তারা তা (অর্থাৎ তাদের সতীত্ব ও স্বামীর সম্পদ) সংরক্ষণ করে যা আল্লাহ সংরক্ষণ করতে আদেশ দিয়েছেন।

যদি তাদের মধ্যে অবাধ্যতার সম্ভাবনা দেখতে পাও, তাদেরকে সদুপদেশ দাও এবং তাদের সাথে শয্যা বন্ধ কর এবং তাদেরকে (সঙ্গতভাবে) প্রহার কর, অতঃপর যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়, তাহলে তাদের উপর নির্যাতনের বাহানা খোঁজ করো না, নিশ্চয় আল্লাহ সর্বোচ্চ, সর্বশ্রেষ্ঠ।”

সূরা আন নিসা, আয়াত ৩৪

এখানে আল্লাহ আসলে স্বামীকেই দায়িত্বটা দিয়েছেন স্ত্রীর ভরনপোষণের। নারীকে স্বাবলম্বী হতে হবে, চাকরি করতে হবে, ব্যবসা করতে হবে, এইজন্য তাকে পর্দা মেনে বাইরে যেতে হবে- ইসলামের কন্টেক্সট এটা না, অবশ্য এই লজিকটাই মডারেটরা প্রচার করে- হিজাব পড়ে সব করা যায়! কিন্তু এটা ইসলামের স্পিরিট না। বিসমিল্লাহ বলে মদ খাওয়ার ব্যাপারটা কেমন? তামাশা না? এখানেও ব্যাপারটা অনেকটা একই রকম হয়ে যায়।

সুতরাং একদম জরুরত না থাকলে- যেখানে সার্ভাইভালের প্রশ্ন চলে আসে- বা শরীয়ত অনুমোদন দেয় এমন ওজর ছাড়া নারীর জন্য বাইরে চাকরি করা আসলে ইসলামের স্পিরিটের সাথে যায় না।

আলেমগণ কতক যায়গায় নারী ডাক্তার/শিক্ষিকার কথা বলেন, তবে এটা তো একদম ম্যান্ডাটরি, না হলে হবেই না – এমনও কিন্তু না, ক্ষেত্র বিশেষে পুরুষ ডাক্তার দিয়েও রোগী দেখানো যায়। (আমি বলছি না যে নারী ডাক্তার লাগবেই না, আমি স্বীকার করি যে লাগবে) কিন্তু এই একটা দোহাই দিয়ে এখন সবাই আর্টস কমার্স সাইন্স চারুকলা বাংলা ইংরেজিতে পড়ে চাকরি করতে চাইলে তো হলো না- তখন সেটা মাসয়ালা কিংবা ছাড়ের যায়গায় এবিউজ করার সমান হয়ে যায়।

ইসলাম কি চায়?

ইসলাম চায় নারী হবে পরিবারের রাণী। সে পরিবার সামলাবে। সন্তান সামলাবে। পুরুষের ঘর সামলাবে। এটাই তার দায়িত্ব। নারীদের জন্য তো পরকালের ব্যবসা সহজ! ফরজ কিছু ইবাদত, সতীত্ব রক্ষা, এই তো! আর কি? অল্পেই জান্মাত!
অন্যদিকে পুরুষের জন্য পরকালের ব্যবসা অনেক কঠিন! তাকে হালাল কামাই করতে হবে, তাকে ইবাদত করতে হবে, তাকে আল্লাহর দুশমনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে, মন চাইলে ফাঁকি দিয়ে আরামসে পার পাবে- এমনও না। এখানে গায়ে পড়ে তো নিজের কাজকে কঠিন করতে বলা হয় নাই।

কেন ইসলামের সব কিছু কঠিন মনে হয়?

কারণ টা বললে আপনার শুনতে খারাপ লাগবে।

কারণ টা হলো- আপনি আসলে মনে প্রাণে আল্লাহর কাছে আত্নসমর্পণই করেন নাই। আপনি নিজেকে মুসলিম দাবী করেন সত্য, কিন্তু আপনার মনের মধ্যে ফেমিনিজম-ক্যাপটালিজম বসে আছে। আপনি মন থেকে আসলে ওই লাইফটা চান যেই লাইফটা তারা আপনাকে দেখায়। দাজ্জালের ব্যাপারটাও তো এমনই, তাই না? সে দেখাবে জান্নাত, লাফ দিলে দেখা যাবে ওটা আসলে জাহান্নাম ছিলো! এখানেও ব্যাপারটা একদমই এটাই।

এখন একটা লেজিট প্রশ্ন করি।

ধরেন আমি বিয়ে করলাম। আমার বউ ধরেন বাইরে চাকরি করে, রোজ ৮ ঘণ্টা অফিস। যাতায়াতে ধরলাম ২ ঘণ্টা। দিনের ১০ ঘণ্টা আমার বউ তাহলে বাসার বাইরে।

আমি যখন অফিস থেকে আসবো, সেও আমার মতন অফিস থেকে আসবে। সেও আমার মতনই ক্লান্ত থাকবে।

তাহলে আমার বাসায় এসে প্রশান্তির যায়গা যেখানে আমার স্ত্রীর হওয়ার কথা ছিলো, এখানে আমি এসে পেলাম একটা টায়ার্ড ওয়াইফ।

নট অনলি দ্যাট,

এখন যদি আমার সন্তান হয়, সে কার কাছে থাকবে?

দাদা দাদী নানা নানী?
কাজের বুয়া?
দিনের বড় সময়টা বাচ্চা মাকে পেলো না।

এই স্যাক্রিফাইস এর মূল্য কি? কেন? একটা ক্যারিয়ার?

তাও এমন কন্ডিশনে আদৌ কি এই স্যাক্রিফাইস টা অন্তত আমি করবো যেখানে পুরুষ হিসেবে আমি যা ইনকাম করি তা আমার চলে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট?

আমি কেনইবা এমন ওয়াইফকেই এত মোহর দিয়ে, এত রেস্পন্সিবিলিটি নিয়ে ঘরে নিয়ে আসবো, যে দিন শেষে আমি বাসায় ফিরলে আমার মতন ক্লান্ত থাকবে? আমার প্রশান্তির যায়গা কেন আমার ওয়াইফ না হয়ে নেটফ্লিক্স কিংবা ফেসবুকের রিলস হবে?

যেচে পড়ে একটা ক্যারিয়ার এর জন্য এভাবে ফ্যামিলি লাইফকে স্যাকরিফাইস করে আমার লাভ কি?

আমি যদি ব্যক্তিগত ভাবে আমার নিজের জীবনের দিকেই তাকাই- আমার মা আমাকে আর আমার ছোট ভাইকে যেভাবে আদর যত্ন করে বড় করেছে, সেইটা কি আমি আমার মা চাকরি করলে একই মাত্রায় পেতাম! কোনোদিনও না, তাই না?

আমি কেন জেনে শুনে বুঝে নিজ সন্তানের জন্য এমন মা কে সিলেক্ট করবো যে সেটা পারবে না?

এভাবে তো হয় না। দরকার নাই তো এত প্যারা নেওয়ার।

ইসলাম আমার জীবনকে সহজ করেছে। আমি ইসলাম কে জীবনব্যবস্থা হিসেবে মেনে নিয়েছি। আমি কেন যেচে পড়ে অন্য একটা জীবনব্যবস্থার মাঝে নিজেকে সাজাতে গিয়ে নিজের লাইফকে জটিল করবো?

এই লেখা পড়ে নারীবাদী/ক্যারিয়ারিস্টদের অনেক রাগ হবে। তাদের জন্য একটাই কথা-

لَـكُمْ دِيْنُكُمْ وَلِيَ دِيْنِ

-সূরা আল কাফিরুন, আয়াত ৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

9 − 2 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য