Tuesday, April 21, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরউপদেষ্টা হাসান আরিফের ইন্তেকাল

উপদেষ্টা হাসান আরিফের ইন্তেকাল

অন্তর্বর্তী সরকারের বিমান ও পর্যটন এবং ভূমি উপদেষ্টা এ এফ এম হাসান আরিফ আর নেই। গতকাল শুক্রবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। উপদেষ্টা এ এফ এম হাসান আরিফের একান্ত সচিব (পিএস) নাছির উদ্দিন বলেন, স্যার শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন, জ্বরও ছিল। দুপুরে খাবার টেবিলে চেয়ার থেকে পড়ে যান তিনি। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, উপদেষ্টা হাসান আরিফের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। গতকাল এক শোকবার্তায় প্রেসিডেন্ট বলেন, হাসান আরিফের মৃত্যু বাংলাদেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। প্রেসিডেন্ট মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ডি-৮ সম্মেলন থেকে ঢাকায় অবতরণের পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ছুটে যান হাসপাতালে। এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তার আকস্মিক মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। উপদেষ্টা হাসান আরিফ একজন শীর্ষ আইনজীবী, তিনি অন্তর্বর্তী সরকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। বাংলাদেশের সাবেক এই অ্যাটর্নি জেনারেল দীর্ঘদিন ধরে আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, হাসান আরিফ একজন উজ্জ্বল আইনজীবী হিসেবে এবং ভিন্নমতাবলম্বী, ভিন্নমতের কণ্ঠস্বর ও আমাদের সমাজের প্রান্তিক মানুষের মানবাধিকার রক্ষায় তার সক্রিয় ভূমিকার জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। প্রধান উপদেষ্টা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টাগণও হাসপাতালে ছুটে যান। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও হাসপাতালে গিয়ে নিহতের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
হাসান আরিফ ১৯৪১ সালের ১০ জুলাই কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর স্নাতক এবং এলএলবি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১৯৬৭ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। এরপর ঢাকায় এসে বাংলাদেশ হাইকোর্টে কাজ শুরু করেন। ১৯৭০ সালে তিনি হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ, নির্মাণ সালিশ, বাণিজ্যিক সালিশ, অর্থ, ব্যাংকিং এবং সিকিউরিটিজ বিষয়, কর্পোরেট, বাণিজ্যিক ও ট্যাক্সেশন বিষয়, সাংবিধানিক আইন বিষয়, পাবলিক আস্বাদন, আরবিট্রেশন এবং বিকল্প বিরোধ সমাধানের অন্যান্য পদ্ধতি নিয়েও কাজ করেছেন তিনি।

হাসান আরিফ ২০০১ থেকে ২০০৫ সালের ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ২০০৮-০৯ মেয়াদে ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ভূমি এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

গণআন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে ১৭ জনের অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। ৮ আগস্ট শপথ নেন ১৪ জন, তার মধ্যে এ এফ এম হাসান আরিফ একজন। পরে বাকি তিন জনও শপথ নিয়েছেন।

উপদেষ্টা সাবেক এটর্নি জেনারেল এ এফ এম হাসান আরিফের ইন্তেকালে খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খায়রুল আহসান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আজিজ হাওলাদার ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন আবুড়ি এবং ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাওলানা আব্দুর রকিব পৃথক পৃথক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে তার রূহের মাগফেরাত কামনা করেছেন। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

10 − eight =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য