বিশ্বব্যাপী শান্তিস্থাপন ও যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২০ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল ভবনে অনুষ্ঠিত হয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শপথ গ্রহণ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করে তিনি বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন এবং নতুন এক ‘স্বর্ণযুগ’ আনার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া বিশ্বের যত যুদ্ধ আছে তা নিজেদের শক্তি ব্যবহার করে সেগুলো বন্ধ করবেন বলেও কথা দেন তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের আগের দিনই ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়। এই চুক্তির আওতায় বন্দি বিনিময়ের ব্যবস্থা করা হয়। ট্রাম্প বলেন, এটি শান্তির পথে একটি বড় অগ্রগতি, যা তার ভবিষ্যৎ প্রশাসনের শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে আরও জোরদার করবে। ট্রাম্প আরও বলেন, “আমার সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয় হবে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ঐক্যের পথ দেখানো।”
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, তার লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ বন্ধ করা এবং মানুষকে ঐক্যের বার্তা দেওয়া। তিনি ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ বন্দিদের মুক্তির উদাহরণ টেনে বলেন, “যুদ্ধ না করা এবং শান্তি বজায় রাখা হবে আমাদের ক্ষমতার প্রকৃত পরিমাপ।”
ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি “ঐতিহাসিক মুহূর্ত” হিসেবে উল্লেখ করেন। এই চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলি বন্দি এবং হামাসের হাতে আটক ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিনিময় কার্যকর হয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বাইডেন এবং তার দলের যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে।
এ সময় নিউ ইয়র্কের ইয়েশিভা ইউনিভার্সিটির র্যাবাই আরি বার্ম্যান, যারা প্রথম আমেরিকান-ইসরায়েলি হিসেবে এই ধরনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, বন্দিদের মুক্তি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রার্থনা করেন।তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে শান্তির বার্তার পাশাপাশি মেক্সিকো এবং পানামা খাল নিয়ে কড়া মন্তব্য উঠে আসে। তিনি গাল্ফ অফ মেক্সিকোকে “গাল্ফ অফ আমেরিকা” বলে উল্লেখ করেন এবং পানামা ওপর মার্কিন অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন।
তিনি আরও জানান, তার প্রশাসন শক্তিশালী সামরিক বাহিনী তৈরি করবে, যা যুদ্ধ প্রতিরোধে ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া তিনি “মঙ্গল গ্রহে আমেরিকার পতাকা স্থাপন” করার লক্ষ্যও ব্যক্ত করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছেন। তার নেতৃত্বে এই চুক্তি কি সত্যিই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি বয়ে আনবে, তা নির্ভর করবে তার প্রশাসনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ওপর। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা
