এভাবে চিন্তা করলেই বোঝা যাবে যে, আমাদের সমাজে প্রচলিত জিন্স, কোকা-কোলা, বার্গার এর মত ছোট ছোট ব্যাপার থেকে শুরু করে, নির্বাচনের মনোনয়ন চাওয়া এবং তা পাওয়ার জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা, সমাজপতিদের বিলাসিতা বা দলিতদের শোষণ ও শাসন করার ব্যাপারে তাদের জন্মগত অধিকার – যা তারা granted ও guaranteed মনে করে থাকেন, শিক্ষাব্যবস্থার তথা ক্যারিয়ার গঠনের মূষিক-দৌড়, ‘আমার-সুখের-নীড়’-এর ইমেজ – এসবই এমন একটা worldview-কে ধারণ, বহন, প্রচার ও উপস্থাপন করে, যার সাথে ইসলামী belief system বা ‘আক্বীদার কোন সম্পর্ক নেই এবং তারা একসাথে সহ-অবস্থানও করতে পারে না। এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, আমাদের ইসলামপন্থীদের, তাদের নিজেদের প্রচেষ্টার মাঝে বিদ্যমান এই অসঙ্গতিগুলো চোখে পড়ে না। একটা ইসলামী ক্যাডেট মাদ্রাসা যে বিজাতীয় worldview-এর একটা pale imitation, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রচলিত MBA বা Law যে worldview-এর প্রতিনিধিত্ব করে, তা যে আসলে ইসলামী belief system-এর সম্পূর্ণ পরিপন্থী ব্যাপার – যে কারণেই হোক সেগুলো বুঝতে তারা অপারগ। এখানে অনেক ইসলামপন্থী – বিশেষত আধুনিকতাবাদীরা যুক্তি দেখাবেন যে, এই পাঠ্য বিষয়গুলো বর্তমান বিশ্বে উন্নতির শিখরে পৌছানোর জন্য অপরিহার্য – আধুনিক অর্থনীতির যোগানদাতা এসব বিষয়ে পারদর্শী না হতে পারলে, মুসলিম দেশগুলোর উন্নতি কি ভাবে হবে? তারা কি করে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে? আর কি করেই বা ইসলামের বিজয় আসবে?? এসব প্রশ্নের ভিতরই আসলে বিজাতীয় worldview প্রোথিত রয়েছে। এসব প্রশ্ন মনে আসার অর্থ হচ্ছে এই যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির worldview-তে তথাকথিত “অর্থনৈতিক উন্নতি” হচ্ছে ইসলামী সমাজ বা রাষ্ট্র গঠনের একটা পূর্বশর্ত । আমরা প্রশ্ন রাখবো, ইসলামের স্বর্ণযুগে ইসলামের বিজয় কি করে এসেছিল? আগে “অর্থনৈতিক উন্নতি” সাধিত হবার পরে তবে কি বিজয় সূচিত হয়েছিল? – নাকি আগে এমন একটা ঈমানদার জনসংখ্যা তৈরী হয়েছিল, যারা তাদের ঈমানের শক্তিবলে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল – পরবর্তীতে জ্ঞান-বিজ্ঞান বা জাগতিক উন্নতি স্বয়ংক্রিয় ভাবেই এসেছিল, স্বাভাবিক অনুসিদ্ধান্ত হিসেবে – পৃথিবীর ঐশ্বর্য বলতে গেলে তাদের পায়ে আপনা আপনি নিবেদিত হয়েছিল। কি জানি – সুদ, মাদকদ্রব্য, শো-বিজ এবং পর্ণোগ্রাফি ইত্যাদির ব্যবসায়ের মাধ্যমে পরিকল্পিত ভাবে বিশাল ঐশ্বর্যের অধিকারী হয়ে, ইহুদী জায়নিস্টরা যে ভাবে বর্তমান পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করছে – তা দেখে, তাদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে এবং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমাদের তথাকথিত ইসলামপন্থীরাও হয়তো পৃথিবীকে নেতৃত্ব দেবার অবস্থানে পৌঁছাতে, আগে বিত্তশালী হওয়াকে অপরিহার্য মনে করেন। আজকের এই পোস্ট-মডার্ন যুগে, মুহাম্মদ (সা.)-এঁর সুন্নাহ্ (পথ) পরিত্যাগ করে, তাই হয়তো তারা ইহুদীদের সুন্নাহকে অবলম্বন করাটা অধিকতর কার্যকরী মনে করছেন। অথচ, তারা একটু খেয়াল করলেই বুঝতেন যে, রাসূল (সা.) যখন মদীনায় নব্য মুসলিম সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন, তখনকার পরিবেশের ও প্রতিবেশের ইহুদীরা, বিত্ত ও বৈভবে আজকের রকফেলার বা রুপার্ট মার্ডকদের মতই প্রভাবশালী ছিল – কিন্তু তাই বলে রাসূল (সা.) তাদের worldview গ্রহণ করে উন্নতি বা সমৃদ্ধি লাভ করতে যান নি। বরং, বিশ্বস্ততার সাথে আল্লাহর বিধান ও অনুশাসনকে মেনে চলার মাধ্যমেই রাসূল(সা.) ও তাঁর অনুসারীদের বিজয় সূচিত হয়েছিল। দ্বীন ইসলামকে বিশ্বস্ততার সাথে জীবনে ধারণ করার সেই পথ ধরেই তৎকালীন রকফেলার, রুবেনস্টাইন বা রুপার্ট মার্ডকরা যেমন মুসলিমদের পদানত হয়েছিল – তেমনি একের পর এক মানচিত্রের পতন ঘটেছিল অগ্রসরমান ও অপ্রতিরোধ্য মুসলিম সেনাবাহিনীর কাছে। কুর’আনে বা ইসলামী পরিভাষায় সাফল্য বলতে কখনো অর্থ-বিত্ত-বৈভব বোঝানো হয়নি। বরং বার বারই বলা হয়েছে যে, সত্যিকার সফল হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যে তার দুনিয়ার সৎকর্মের মাধ্যমে আখেরাতের পাথেয় অর্জন করতে পারে – আর আখেরাতের সাফল্য লাভের যোগ্যতা অর্জন করতে গিয়ে স্বাভাবিক আনুষঙ্গিক বিষয় হিসেবেই দুনিয়ার সাফল্যও আসবে। এই সহজ সমীকরণটা আমরা মুসলিমরা কি করে ভুলে গেলাম!! আসুন আমরা কুর’আনের কয়েকটি আয়াত পড়ে দেখি যেখানে পৃথিবীর চাকচিক্যকে পরিত্যাজ্য বলে বর্ণনা করে আখেরাতের প্রাপ্তিকে সাফল্য হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে :
فَإِذَا قَضَيْتُمْ مَنَاسِكَكُمْ فَاذْكُرُوا اللَّهَ كَذِكْرِكُمْ آَبَاءَكُمْ أَوْ أَشَدَّ ذِكْرًا فَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ رَبَّنَا آَتِنَا فِي الدُّنْيَا وَمَا لَهُ فِي الْآَخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ (200) وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ رَبَّنَا آَتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآَخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ (201) أُولَئِكَ لَهُمْ نَصِيبٌ مِمَّا كَسَبُوا وَاللَّهُ سَرِيعُ الْحِسَابِ
‘……..এমন মানুষ আছে যারা (কেবলই) বলে:“হে আমাদের প্রভু ! আমাদের এই পৃথিবীতে আপনার নিয়ামত (ঐশ্বর্য) দান করুন !” পরকালে এদের জন্য কিছুই থাকবে না। আবার এমন লোক রয়েছে যারা বলে:“হে আমাদের প্রভু ! আমাদের এই পৃথিবীর এবং আখেরাতের মঙ্গল দান করুন এবং আমাদের জাহন্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন!” এদেরকে তারা যা উপার্জন করেছে তা দেয়া হবে; এবং আল্লাহ্ হিসাব নির্ধারণে ত্বরিত-গতি।’ (সূরা বাক্বারা, ২:২০০-২০২)।
مَنْ كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الْآَخِرَةِ نَزِدْ لَهُ فِي حَرْثِهِ وَمَنْ كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِ مِنْهَا وَمَا لَهُ فِي الْآَخِرَةِ مِنْ نَصِيبٍ
‘যে কেউ পরকালের ফসল কামনা করে, আমি তার জন্য সে ফসল বাড়িয়ে দেই। আর যে ইহকালের ফসল কামনা করে, আমি তাকে তার কিছু দেই এবং পরকালে তার কোন অংশ থাকবে না।’ (সূরা আশ-শূরা, ৪২:২০)
اعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَزِينَةٌ وَتَفَاخُرٌ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرٌ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَبَاتُهُ ثُمَّ يَهِيجُ فَتَرَاهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ يَكُونُ حُطَامًا وَفِي الْآَخِرَةِ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَمَغْفِرَةٌ مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٌ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ
‘ভালোভাবে জেনে রাখো, দুনিয়ার এ জীবন, একটা খেলা, হাসি তামাসা, বাহ্যিক চাকচিক্য, তোমাদের পারস্পরিক গৌরব ও অহংকার এবং সন্তান সন্ততি ও অর্থ-সম্পদে পরস্পরকে অতিক্রম করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। এর উপমা হচ্ছে, বৃষ্টি হয়ে গেলো এবং তার ফলে উৎপন্ন উদ্ভিদরাজি দেখে কৃষক আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠলো। তারপর সে ফসল পেকে যায় এবং তোমরা দেখতে পাও যে, তা হলদে বর্ণ ধারণ করে এবং পরে তা ভূষিতে পরিণত হয়। পক্ষান্তরে আখেরাত এমন স্থান যেখানে রয়েছে কঠিন আযাব, আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। পার্থিব জীবন প্রতারণার উপকরণ ছাড়া আর কিছুই নয়।’ (সূরা আল-হাদীদ, ৫৭:২০)
এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে এই যে, ২:২০০-২০২ আয়াতের প্রথম শ্রেণীর মানুষেরাও কিন্তু আসলে বিশ্বাসীই – কিন্তু তারা আল্লাহর কাছে কেবলই পার্থিব ঐশ্বর্য/উন্নতিই প্রার্থনা করেছিলেন – আর তাতেই আল্লাহ্ বলছেন যে, তাদের জন্য আখেরাতে পাবার কিছুই থাকবে না। আমরা বিশ্বাসী হয়ে তাহলে কি করে ভুলে যাই যে, আজকের MBA বা আজকের Law-তে আমাদের জন্য কোন কল্যাণ থাকতে পারে না – কেননা সেগুলো কেবলই দুনিয়ার সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যকে সামনে রেখে, এক শ্রেণীর মানুষ কর্তৃক আরেক শ্রেণীর মানুষকে শাসন ও শোষণ করতে, একটা ‘রুলিং ক্লাস’ তৈরী করার লক্ষ্যে সংজ্ঞায়িত। আজকের MBA বা আজকের Law নির্ভেজাল কাফির-worldview-এর উপর ভিত্তি করে ধন-তান্ত্রিক ব্যবস্থার কায়েমী স্বার্থবাদীদের স্বার্থ রক্ষা করতে তৈরী এবং শোষিত শ্রেণীকে চিরতরে wage slave হিসেবে শ্রমিক পিঁপড়ার মত ব্যবহার করার কৌশল উদ্ভাবনের জন্য নিবেদিত। উপরন্তু আজকের Law মানুষের তৈরী আইনের পড়াশোনা বিধায়, মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটা বিষয় – যা অতি সহজেই এবং ক্ষেত্র বিশেষে আপনার অজান্তেই আপনাকে ইসলামের গন্ডির বাইরে নিয়ে যেতে পারে। ইসলামী ‘আকীদাহ্ মতে আল্লাহ্ই হচ্ছেন একমাত্র আইন দাতা/প্রণেতা। আর কেউ যে আইন প্রণয়ন করতে পারে – এটা বিশ্বাস করাই নির্ভেজাল কুফর। সুতারং, সভা সমিতির বড় বড় আসন অলংকৃত করা জজ-ব্যারিষ্টার সাহেবদের দ্বীনী স্ট্যাটাস আসলে কি – তারা মারা গেলে – মুফতি ডেকে সেটা জেনে নিয়ে, তবে তাদের সৎকারের ব্যবস্থা করা উচিত। শুনতে যত খারাপই লাগুক – খুব সামান্য সংখ্যক আইন বিশেষজ্ঞ (যেমন ধরুন যারা নিজের মজলুম দ্বীনী ভাইদের কুফফার প্রণীত আইনের জুলুম ও অবিচার থেকে ক্ষরা করার ব্রত নিয়ে আইন শিক্ষা করেন, এমন) ছাড়া বাকীরা at the best ‘ফাসিক’ এবং at the worst, দুঃখজনক হলেও, ‘কাফির’। কথাটা আমার নয় – বিশ্ব-বরেণ্য স্কলারদের। বিশ্বাস না হলে নিজেই দেখুন না:
www.islam-qa.com/en/ref/12874
এসব শিক্ষা, জ্ঞান বা কৌশলের সাথে, আসলে মানব কল্যাণের কোন সম্পর্ক নেই। এজন্যই বিশ্বে ইসলামী পুনর্জাগরণের পথ ধরে, গোটা মুসলিম উম্মাহকে নিয়ে ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেন যারা – কুফফার বিশেষজ্ঞরা যদিও তাদের সন্ত্রাসী বা militant বলে আখ্যায়িত করে, তবু তারা অনুধাবন করে যে, এরা ঠিক অন্য সন্ত্রাসী বা বিপ্লবীদের মত নয়। এসব বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে পৃথিবীর অন্যান্য সন্ত্রাসীদের বেলায় তাদের উদ্দেশ্য খুব সহজ ও স্পষ্ট – যা হচ্ছে: essentially fighting for a place at the table । অর্থাৎ, সোজা বাংলায় বলতে গেলে, তারা হালুয়া-রুটির ভাগ চায়। (পৃথিবীতে যে হরির লুট চলছে বা) পৃথিবী যে ভাবে শোষিত ও শাসিত হচ্ছে – তারা সেই প্রক্রিয়ায় তাদের ভাগ চায় – অনেকটা ভোজ সভায় আমন্ত্রিত নয়, এমন কেউ যেমন টেবিলে একটা আসন চায় তেমন। আর কথিত (ইসলামপন্থী) সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে কুফফারের ঐসব বিশেষজ্ঞদের মত হচ্ছে:they are not looking for a place at the table – they want to destroy the table* – রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক পর্যায়েও ইসলামপন্থীদের জন্য ব্যাপারটা তাই হবার কথা (তার মানে এই নয় যে, সে জন্য সুন্নাহ্ পদ্ধতি বা পদ্ধতির সুন্নাহ ভঙ্গ করে সন্ত্রসের শরণাপন্ন হতে হবে – আমি মোটেও তা বলছি না। ব্যাপরটা আমার বিশ্বাস – কোন দুর্বলতাপ্রসূত apologetic explanation নয়!)। আল্লাহ্ যদি তাদের কখনো সত্যিই ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার তৌফিক্ব বা সুযোগ দেন, তবে কি তারা আজকের রাষ্ট্রযন্ত্রের বিচার ব্যবস্থা চালু রাখতে পারবেন? অর্থনৈতিক ব্যবস্থা – সুদ ভিত্তিক কৃষিঋণ, শিল্পঋণ বা গৃহ সংস্থান ঋণ এগুলো চালু থাকবে?? আকন্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত প্রশাসন অক্ষত রাখতে পারবেন তারা??? twinkle twinkle little stars পড়াবেন বাচ্চাদের? রেডিওতে “কোঁকড়া কোঁকড়া চুল, বন্ধুর কোঁকড়া চুল” বা “উঠ ছেরী তোর বিয়া” মার্কা গান চলবে?? – এভাবে একে একে সব ব্যবস্থার কথা বিচার-বিবেচনায় আনলে, পাঠক আপনিই বলুন প্রায় ৯০% প্রচলিত ব্যবস্থাকেই কি ভেঙ্গে আবার সাজাতে হবে না? সুতরাং, যা আমাদের নয় – যা কুফফারের কাছ থেকে দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে, আমরা কি তাতে আকন্ঠ ডুবে থাকতে পারি?? আমরা একদিকে ইসলামের বুলি আউড়ে কি নিজের ছেলেমেয়েদের MBA বা Law পড়াতে পারি? যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে পারি PhD করতে?? এই স্ববিরোধিতার জন্যই কুফফার জানে, এদের দিয়ে কিচ্ছু হবে না এবং এদের নিয়ে ভয়েরও কোন কারণ নেই। এরা বড়জোর কাকের মত বিরক্তিকর স্বরে অর্থহীন ভাবে কা কা রবে চিৎকার করতে পারে, কিন্তু কুফফার খানিকটা উচ্ছিষ্ট ভাত ছড়িয়ে দিলেই এরা সব ভুলে ছুটে আসবে সেই ভাতের কাছে ।
ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দানের প্রসঙ্গ যখন উঠলো, তখন আরেকটা নিষ্ঠুর বাস্তবতা না উল্লেখ করলেই নয়। যে কোন ধনী দেশেই দেখবেন, যে সমস্ত কাজগুলেকে তারা অপরিচ্ছন্ন মনে করে, সে সমস্ত কাজগুলোকে তারা ‘নিম্নবর্ণের’ বিদেশী শ্রমিক দিয়ে করাতে চায়। উদহরণস্বরূপ সৌদী আরবে মেথরের কাজ, বাংলাদেশের মত গরীব দেশের ‘নিম্নবর্ণের’ শ্রমিকরা সমাধা করে থাকে, কোন সৌদীকে মেথরের কাজ করতে দেখাটা আজ অকল্পনীয়। আমাদের দেশে আমরা যারা ‘সচ্ছল’ বা ‘সক্ষম’ সবাই চাই আমাদের ছেলেগুলো আর মেয়ের জামাইগুলো কুফফারের দেশে থাকা সোনার ছেলে হোক – আর তা না হলেও নিদেনপক্ষে নিজের দেশে থাকা প্রকৌশলী বা ডাক্তার হোক। আর দ্বীন শিক্ষা করতে যাবে কারা? সমাজের নিম্নতম স্তর থেকে উঠে আসা হত দরিদ্র, অস্পৃশ্য ও অক্ষম “মোল্লারা”। তাহলে যে যুক্তিতে সৌদীরা বাংলাদেশীদের দিয়ে মেথরের কাজ করায়, ঐ একই নিরিখে বিচার করলে আমাদের কাছে ‘দ্বীন শিক্ষার’ স্ট্যাটাসটা কি? মেথরের কাজের মত কিছু নিশ্চয়?? তাহলে কি আমরা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি যে, আমাদের হৃদয়ে এখনো ইসলামী belief system-এর কিছু অবশিষ্ট রয়েছে?? আর যদি তা না থাকে এবং তার স্থলে যদি কুফফারের belief system আমাদের হৃদয় দখল করে থাকে – তবে আমাদের worldview যে কাফিরের worldview-ই হবে, তাতে আর অবাক হবার কি আছে??
Footnote*: Page#265, The New Jackals – Simon Reeve.
