Saturday, May 30, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়াআওয়াজইমাম নির্ভর রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো নির্মাণ অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে

ইমাম নির্ভর রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো নির্মাণ অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে

দেশের চলমান রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো কোনমতেই ইসলামকে ধারণ করে না। স্বাধীনতা অর্জন থেকে আজ পর্যন্ত কোন সরকারই ইসলামকে পুরোপুরি ভাবে কাজে লাগায় নাই। সংবিধানে বলা আছে, রাষ্ট্রধর্ম  5[২ক। প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করিবেন] এ ভাষ্য শুধু সংবিধানে লিখা আছে, কিন্ত এর প্রয়োগ উহ্য আছে। কেন প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না, তা ক্ষমতাসীন সরকারগুলোই পূর্বেও ভাল জানত ও বর্তমানেও জানে। আমরা শুধু এটুকু বলতে পারি ইসলামিক শাসন আমরা কক্ষনো ভোগ করি নাই।

অথচ ৯০% অধ্যুষিত মুসলিমদের একান্ত মনের দাবি হওয়া উচিত ইসলামী শাসন ব্যবস্থা যা সমাজ ও দেশের কল্যাণের পথপ্রদর্শক। আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন, আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি সত্যগ্রন্থ, যা পূর্ববতী গ্রন্থ সমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর বিষয়বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। অতএব, আপনি তাদের পারস্পারিক ব্যাপারাদিতে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করুন এবং আপনার কাছে যে সৎপথ এসেছে, তা ছেড়ে তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না। আমি তোমাদের প্রত্যেককে একটি আইন ও পথ দিয়েছি। যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তোমাদের সবাইকে এক উম্মত করে দিতেন, কিন্তু এরূপ করেননি-যাতে তোমাদেরকে যে ধর্ম দিয়েছেন, তাতে তোমাদের পরীক্ষা নেন। অতএব, দৌড়ে কল্যাণকর বিষয়াদি অর্জন কর। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অতঃপর তিনি অবহিত করবেন সে বিষয়, যাতে তোমরা মতবিরোধ করতে। (সুরা মাইদাহ, আয়াত ৪৮) অতএব বুঝা যাই আল্লাহ্‌ তা’আলার আইনের কোন বিকল্প নাই এবং আমাদেরকে সে পথের সন্ধান করতে হবে যতক্ষণ আমরা বেঁচে আছি।

অতীতেও অনেকে ইসলামী অবকাঠামো নির্ভর সরকারী রূপরেখা প্রণয়ন করে থাকতে পারেন কিন্তু বাস্তবে তার কোন প্রস্তাব বা কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছেন কিনা আমরা জানি না। তাই আমরা এক বিকল্প প্রস্তাবের খসড়া পেশ করতে চাচ্ছি আপনাদের উদ্দেশে।

বাংলাদেশ মাসজিদ প্রধান দেশ। এমন কোন ছোট অঞ্চল খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে মাসজিদ নেই। মাসজিদ যেহেতু আছে তাই ইমাম অবশ্যই নিয়োজিত আছে। এই ইমামদেরকে শুধু সালাতের ইমামতি, কুরআন সুন্নাহ্‌র দার্‌স এ ব্যবহার না করে ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে প্রয়োগ করার কাজে নিয়োজিত করা যেতে পারে। এই বিকল্প ভাবনার বহুবিদ উপকার আছে, নিম্নে উল্লেখ করা হোল।

প্রাথমিক স্তর

১)       ইমামদের আর্থিক বাড়তি সুবিধা যেওয়া যেতে পারে।

২)      দেশের অকার্যকর মেম্বার, চেয়ারম্যানের পদ বিলুপ্তি করা যেতে পারে।

৩)      অভিজ্ঞতা ও বয়স ভেদে ইমামদেরকে মেম্বার ও চেয়ারম্যানের কার্যাদি বণ্টন করা যেতে পারে

৪)      সর্বস্তরে নৈতিকতার মানদণ্ড প্রয়োগ করা যেতে পারে।

৫)      যেহেতু তাদের ধর্মের প্রতি যথেষ্ট অনুরাগ বিদ্যমান, তাই সহজে ধর্মীয় অনুশাসনের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা কাজে লাগাতে সহজতর হবে।

৬)      সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে যা সরকারের ভিত্তিমূল শক্ত করতে সাহায্য করবে।

৭)      সরকারের উপর থেকে দেওয়া নির্দেশ যথাযথ পালনে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে সাহায্য করবে্।

৮)      মাসজিদ কেন্দ্রিক জনগণকে একতাবদ্ধ করতে সাহায্য করবে।

৯)      দেশ থেকে সন্ত্রাস, খুনখারাবী, ধর্ষণ ও ধর্মান্ধতা হ্রাস পাবে।

১০)     সর্বোপরি আল্লাহ্‌ তা’আলার করুণা দেশকে আচ্ছন্ন করে রাখবে।

২য় স্তর

১)       ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে জ্ঞানগর্ভে অভিজ্ঞ ইমামদেরকে নিম্নতম ইমামদের নেতা করা যেতে পারে।

২)      গ্রাম পর্যায়ের ইমামদের নির্বাচনে থানা পর্যায়ে ইমামদেরকে  চেয়ারম্যান, কমিশনার নিয়োগ করা যেতে পারে।

৩)      বর্তমান অবকাঠামোকে ধরে রেখে ইমামদেরকে কাজে লাগানো যেতে পারে।

৪)      থানা পর্যায়ের ইমামদের দ্বারা এম. পি. নির্বাচন করা যেতে পারে।

৩য় স্তর বা একেবারে উচ্চ স্তর

১)       ২য় স্তরের ইমামরা উক্ত ৩য় স্তরের ইমাম নির্বাচন করবেন যেমন শরিয়া উপযুক্ত মনে করে

২)      তাদেরকে এম. পি. বলেন বা অন্য কিছু তাদের দ্বারা রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য কিছু সদস্য ভিত্তিক ওলেমা বা সুরা পরিষদ গঠন করা যেতে পারে, যারা সময় সময় রাষ্ট্রপ্রধানকে রাষ্ট্র পরিচালনার গাইড লাইন দিতে পারে।

২)      রাষ্ট্রপ্রধানকে অবশ্যই ইসলামের মূলধারার সাথে যুক্ত থাকতে হবে এবং ইসলামের পতাকাতলে যেন সবাই সমবেত হয় সেই প্রতিজ্ঞা নিয়ে কাজ করতে হবে।

৩)      সংবিধানের বিধি যেখানে ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক তা সুচারুভাবে পরিহার করতে হবে।

৪)      দেশের আইনি কাঠামো ইসলামের রূপরেখায় পরিচালিত করতে হবে।     

কোন সরকারের কাছেই আমাদের এই প্রস্তাবের ভিত্তিমূল পছন্দ হবে না এখা আমরা হলফ করে বলতে পারি কিন্তু হাল না ধরেওতো উপায় নাই। এ জন্য ইমামদেরকেও ইসলামী জ্ঞান ব্যুৎপত্তি অর্জন করতে হবে। সরকার পরিচালনায় তাদের অংশগ্রহণ পুরো দেশকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যেতে সম্ভবপর হবে।

পরিশেষে আল্লাহ্‌ তা’আলার এই আয়াত দিয়ে সমাপ্তি টানছি, সুরা ইসরায় আল্লাহ্‌ তা’লা বলেন, সেইদিন আমরা প্রত্যেক জনসমাজকে আহ্বান করব তাদের ইমাম সহ। সুতরাং যাকে তার কিতাব তার ডান হাতে দেয়া হবে তারা তবে তাদের কিতাব পড়বে, আর তাদের প্রতি খেজুর-বিচির-পাতলা-পরত পরিমাণেও অন্যায় করা হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 × four =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য