বাংলাদেশে ইসলাম বি’দ্বেষ এর প্রকৃত চেহারা আমরা এখনো শতভাগ জানিনা, তবে প্রতিদিন আমাদের সামনে এই জ’ঘন্য চেহারা কিছু না কিছু উন্মুক্ত হচ্ছে! আমরা অবাক হয়ে ভাবি, কীভাবে এত ভ’য়ংকর ইসলাম বি’দ্বেষ এ জমিনে প্রসার লাভ করেছে!
এর জন্য আমরা ২টি মৌলিক কারণ অনুমান করেছি –
১। দ্বীনি শিক্ষার অভাব। বিশেষ ভাবে, আমাদের পরিবার আমাদের যথাযথ দ্বীনি শিক্ষায় বড় করতে ব্যর্থ হয়েছে বরং আমরা এভাবেও বলতে পারি অনেক ক্ষেত্রে সুচিন্তিত এবং পরিকল্পিত ভাবে দ্বীনকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা বলছিনা শতভাগ, অবশ্যই ব্যাতিক্রম রয়েছে তবে এটিই মেজোরিটি।
২। যখন আমরা দ্বীন থেকে দূরে সরে এসেছি তখনই মূলত আমরা আমাদের পরিচয় হারিয়েছি। এরপরে বাকি কাজ করেছে মিডিয়া, সুশীল এবং এজেন্ডাবাহী দালালের দল! আমরা সত্যই খুব অবাক হই যখন দেখি – তারা তাদের কাজে কোন ফাঁকিবাজি করেনি, নিজেদের উজাড় করে তারা তাদের এজেন্ডা নিয়ে এগিয়েছে!
এমন অবস্থায় করণীয়ঃ
১। আপনি যদি পরিবারের জন্য রেসপন্সিবল হোন তাহলে নিজের পরিবারকে দ্বীনের পথে ফিরিয়ে আনুন, তাদের দ্বীনি শিক্ষার ব্যবস্থা করুন।
২। আপনি যদি এখনো পরিবারের জন্য রেসপন্সিবল না হোন, তবে নিজের জন্য রেসপন্সিবল হোন। নিজেই নিজের জন্য দ্বীনি শিক্ষার ব্যাবস্থা করুন।
৩। সচেতন থাকুন, আ’গ্রাসন প্রতিরোধ করুন।
৪। আ’গ্রাসীকে চ্যালেঞ্জ করুন। শিখুন, জানুন, তাদেরকে বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবে ধ্বসিয়ে দিন।
৫। অন্যদের সাথে নিয়ে সমমনা বন্ধুসার্কেল গড়ে তুলুন, নিজেদের প্রতিনিয়ত উন্নয়নের কাজে ব্যস্ত রাখুন।
৬। নিজেদের জন্য ছোট ছোট লক্ষ নির্ধারন করুন। এক, এক করে সেই লক্ষ অর্জনে কাজ করুন।
৭। মনে রাখবেন, আপনি আজ যে সমাজের মুখোমুখি তা একদিনে তৈরি হয়নি, আবার সেটি একদিনেই হাওয়া হয়ে যাবেনা। তাই আপনাকে হতাশ হওয়া যাবেনা বরং অবিচল ভাবে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। মনে রাখবেন- এক কদমও উন্নতি, একটি লাইনও অগ্রগতি যখন তা সঠিকপন্থা এবং মাধ্যমে হয়ে থাকে।
৮। আল্লাহ বলেছেন, তিনি সেই জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরা তাদের পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা করে। আমাদের কাজ হচ্ছে আমাদের অবস্থা পরিবর্তনের জন্য চেস্টা করতে থাকা।
৯। নিজের জীবনে দ্বীনের প্রায়োরিটি সেট করুন। যেমন মুসয়াব ইবনু উমায়ের রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সেট করে নিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন সে সময়ের মক্কার সেলেব্রিটি। অর্থ, যশ, খ্যাতি কোন কিছুই তাঁর কম ছিলোনা, কিন্তু তিনি দ্বীনের প্রায়োরিটি এমন ভাবেই সেট করেছিলেন যে বাকি সব কিছুর অস্তিত্বই বিলীন হয়ে গিয়েছিল!
১০। মনে রাখবেন – এই দ্বীন ফ্রি না! যা দ্বারা জান্নাত অর্জন হয় তা কীভাবে ফ্রি হয়! এই দ্বীন তাকেই ভালোবাসে যে এই দ্বীনকে ভালোবাসে! এই দ্বীনের মালিক তাকেই ভালোবাসেন যিনি তাঁর দ্বীনকে ভালোবাসে!
