Sunday, May 31, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়াআওয়াজবাউল আবুল সরকারকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে

বাউল আবুল সরকারকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মিজানুর রহমান গতকাল জুমার খুৎবা-পূর্ব বয়ানে বলেন, এদেশ ইসলামের পূর্ণভূমি। আল্লাহ ও রাসূল (সা.) শানে পৃথিবীর যতো শক্তিশালী ব্যক্তিই বেয়াদবি করবে তাকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। আল্লাহর শানে বেয়াদবিকারী বাউল আবুল সরকারকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এদেশের মুসলমানরা ঈমান নিয়ে বাঁচতে চায়। বাউল-টাউল যেই হোক আল্লাহ ও নবী (সা.) শানে বেয়াদবি করলে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। কোনো মুশরিক নাস্তিকদের নাফরমানি কাজ বরদাশত করা হবে না। বাতেলের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। মু’মিনের জীবন কোরবানি সব কিছুই আল্লাহর জন্য। আল্লাহর পরে সম্পদ, সন্তান এবং জীবনের চেয়েও বেশি নবী (সা.)-কে ভালোবাসতে হবে। দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। সম্পদ, রিজিক ও মেধা সব কিছুই আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করতে হবে।

পেশ ইমাম বলেন, রাসূল (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামগণ পরামর্শের ভিত্তিতেই সব প্রকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। মু’মিনগণ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে পরামর্শের ভিত্তিতে নেন। পরামর্শের ভিত্তিতেই আমাদের জীবন পরিচালিত করতে হবে। পেশ ইমাম বলেন, যারা ঈমানদার এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করেন তাদের ব্যাপারে আল্লাহ প্রশংসা করেছেন। নামাজ কায়েম করে প্রমাণ করতে হবে আমি আল্লাহর ডাকে সাড়া দিতে প্রস্তুত আছি। পেশ ইমাম বলেন, ইব্রাহিম (আ.) বলেন, আমি অসুস্থ হই আল্লাহর ইচ্ছায় তিনিই আমাকে সুস্থ্য করেন। কবর থেকে উঠার পর আল্লাহ বিচারের দিন ঈমানদারদের ক্ষমা করে দিবেন। যারা যেনে শুনে অপরাধ করেই যাচ্ছে অপরাধের জন্য কোনো অনুশোচনা নেই তাদের ক্ষমা করবেন না। ফেরাউনের তওবা আল্লাহ কবুল করেননি। যারা আল্লাহর ওপর ঈমান রাখে এবং ভরসা করে পরকালে আল্লাহর কাছে তাদের জন্য রয়েছে সর্বোত্তম অফুরন্ত চিরস্থায়ী নেয়ামত। পেশ ইমাম বলেন, আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক কি তা’ জানতে হবে। দুনিয়ায় যা কিছু দিয়েছেন তা ক্ষণস্থায়ী। এই দুনিয়ার জীবন ধোকার উপকরণ। পেশ ইমাম বলেন, আল্লাহ আমাদের ঈমানের দৌলত দান করেছেন। মু’মিন বানিয়ে আখেরি নবীর (সা.) উম্মত বানিয়ে পবিত্র কুরআন দান করেছেন। আল্লাহ কিছু কিছু বালা মুসিবত মানুষের জীবনে দিয়ে থাকেন যাতে মানুষ আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন।(আমিন)

রাজধানীর জুরাইন বাইতুল জলীল জামে মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ লিয়াকত হোসাইন বিন মাস্টার মুহাম্মদ আলী জুমার নামাজের পূর্ব খুৎবায় বলেন, বাউলদের আল্লাহ এবং কুরআন বিদ্বেষী কথায় মুসলমানদের অন্তরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। খতিব বলেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিসে এরশাদ করেন, বণী ইসরাইল ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছিল, আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। তাদের মধ্যে ৭২টি দলই জাহান্নামে চলে যাবে। শুধুমাত্র একটি দল জান্নাতে যাবে। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ ওই দলটি কারা হবে এবং তাদের পরিচয় কি? রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তাদের পরিচয় হলো আমি এবং আমার সাহাবায়ে কেরাম যেই মতাদর্শের সেই মতাদর্শ অনুযায়ী তারা নিজেদেরকে পরিচালিত করবে। দুনিয়াবাসীর নিকট রাসূলে কারীম (সা.)-এর আদর্শ এবং সাহাবায়ে কেরামের আদর্শ পরিষ্কার। সুতরাং বর্তমানে যারা বিভিন্ন দল, বিভিন্ন গোষ্ঠী দাবি করে তারা প্রকৃতপক্ষে নবী কারীম (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরামদের আদর্শ এবং নীতির উপরে কি পরিমাণ আছে, সেটা তাদের চালচলন, কথাবার্তা ও বেশভূষা ইত্যাদি দ্বারা বুঝা যায়। তাই খতিব বলেন, বর্তমানে যারা বাউল শিল্পী নামে বাংলাদেশে আত্মপ্রকাশ করেছে তাদের ধ্যান ধারণা, চিন্তা-চেতনা, বিশেষ করে আকিদা বিশ্বাস ও তাদের চালচলনে ফুটে ওঠেছে যে তারা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরামদের আদর্শের উপরে বিন্দু পরিমাণেও নেই।

বিশেষ করে, তারা আল্লাহ তা‘য়ালা এবং কোরআন নিয়ে যে মন্তব্য প্রকাশ করে চলেছে, তাতেই প্রতিয়মান হয়, যে তারা আল্লাহ এবং তাঁর কোরআনকে বিশ্বাস করে না। যারা আল্লাহ এবং তাঁর কোরআনকেই বিশ্বাস করে না, তারা কোনোদিনও মুসলমান থাকতে পারে না। বর্তমানে বাউলদের সম্রাট আবুল সরকার নামে একজন বাউল শিল্পী আল্লাহ এবং তাঁর কোরআনের বিরুদ্ধে যেভাবে জঘন্যতম মন্তব্য করে যাচ্ছে। তাতে বোঝা যায় তারা ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এভাবে তারা নিজেরা তো কুফরিতে লিপ্ত হচ্ছেই এবং সাধারণ মুসলমানদেরকেও কুফরির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। খতিব বলেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিস দ্বারা এটা স্পষ্ট বুঝা যায় যে তারা ৭২ দলের মধ্যে একটি দল। যারা জাহান্নামে চলে যাবে। সুতরাং আসুন আমরা আমাদের ঈমান এবং আমলকে হেফাজত করি এবং বাউলদের এই কুফরি আকিদা থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করি এবং পরকালে আল্লাহর কাছ থেকে জান্নাতের আশা রাখি। কারণ এই বাউলদের উৎপত্তি হিন্দুদের কিছু বিশ্বাস এবং খ্রিস্টানদের কিছু বিশ্বাস থেকে। তাদের ধর্মে এমন এমন নীতিমালা রয়েছে যেগুলো একজন মুসলমান মুখ দিয়ে উচ্চারণ করাটাও নিজের জন্য অপরাধ মনে করে। তাদের ধর্মের ছোট্ট একটি বিশ্বাস হলো যে যদি কোনো বাউল অন্য কোনো মহিলা বাউলের সাথে যিনা ব্যভিচার করতে চায় তাহলে সে যিনা-ব্যভিচার করাটাকে পুণ্যের কাজ মনে করা হবে। এ কারণেই তারা সর্বদা নারী-পুরুষ অবাধভাবে মেলামেশা যিনা-ব্যভিচার রং তামাশায় সর্বদা লিপ্ত থাকে। এমনকি যুবতী মেয়েরা তাদের খেদমতে নিয়োজিত থাকে। আরো অত্যন্ত জঘন্যতম আকিদা এবং বিশ্বাস তাদের রয়েছে। যেগুলো একজন মুসলমান কখনো মেনে নিতে পারে না। তাই আসুন আমরা এই বাউলদেরকে তাদের কুফরি আকিদা পরিহার করার জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পরি এবং সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি যেন, সরকার তাদেরকে কঠিন শাস্তির আওতায় আনেন। ভবিষ্যতেও যেন এরকম দুঃসাহস দেখাতে না পারে সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে কঠিন আইন পাশ করা হোক। আল্লাহ যেন সরকারকে সুুভবুদ্ধি দান করেন।(আমিন)

নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জ সোনামিয়া বাজার শাহী মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি আব্দুল আজিজ জুমার খুৎবা-পূর্ব বয়ানে বলেন, বর্তমান সময়ে ঈমান ও নৈতিকতার ওপর সবচেয়ে বড় আক্রমণ হলো গুনাহকে হালকা মনে করা। মানুষ যখন আল্লাহর বিধান ভুলে যায়, জীবনকে বেপরোয়া করে তোলে, তখন আল্লাহ তাদেরকে বিভিন্ন বিপদ, দুর্যোগ ও ভূমিকম্পের মাধ্যমে সতর্ক করেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন, “মানুষের নিজ হাতে অর্জিত কাজের কারণে বিপর্যয় দেখা দেয় যাতে তারা (সঠিক পথে) ফিরে আসে।” (সূরা রূম : ৪১)
অতএব, পৃথিবীতে দেখা দেয়া বিপর্যয় শুধু প্রকৃতির ঘটনা নয় এগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা। সাম্প্রতিক বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঘন ঘন ঘটনা আমাদেরকে গভীর চিন্তার মধ্যে ফেলেছে। আল্লাহ এখনো আমাদের রক্ষা করছেন কিন্তু যদি সামান্য শক্তি বৃদ্ধি পেত, পুরো জাতি বিপদের মুখে পড়ত! খতিব বলেন, এগুলো কেবল ভূ-তাত্ত্বিক কম্পন নয়; এগুলো আল্লাহর সতর্ক সংকেত।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “আমার উম্মতের কিছু লোক মদ পান করবে এবং তারা মদকে অন্য নামে ডাকবে। তাদের মাথার ওপর বাজবে বাদ্যযন্ত্র; থাকবে গায়িকা নারীরা। অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে ভূমিধসে ধ্বংস করবেন এবং তাদের একাংশকে বানর ও শূকরে রূপান্তর করবেন।” (ইবনে মাজাহ : ৪০২০) আরেক হাদিসে বলেন, “যখন মানুষ সম্পদকে জীবনের প্রধান লক্ষ্য বানাবে, আল্লাহর আদেশকে পিছনে ফেলবে, গুনাহ সমাজে ছড়িয়ে পড়বে তখন আল্লাহ তাদের ওপর বিভিন্ন বিপদ পাঠাবেন, যাতে তারা সতর্ক হয়। আল্লাহ সবাইকে ছহি বুঝ দান করুন।(আমিন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 × two =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য