Friday, September 4, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরফুটপাতের অস্তিত্ব শেষ, সড়কের অর্ধেকই হকারের পেটে

ফুটপাতের অস্তিত্ব শেষ, সড়কের অর্ধেকই হকারের পেটে

রাজধানী ঢাকার ফুটপাত এখন আর পথচারীদের জন্য নয়; চলে গেছে হকার, চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট আর রাজনৈতিক আশ্রয়ে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানের দখলে। ফুটপাতের পর একে একে দখল হয়ে যাচ্ছে প্রধান সড়কও। ফলে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি। প্রতিদিন এ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন লাখো নগরবাসী। মতিঝিল থেকে গুলিস্তান, নিউ মার্কেট থেকে খিলক্ষেত—রাজধানীর ব্যস্ত প্রায় সব এলাকায়ই একই চিত্র। অথচ এ দখলদারিত্বের দায় কে নেবে, তা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং পুলিশ প্রশাসন।

মতিঝিল-দিলকুশা এলাকায় দেখা গেছে, প্রধান সড়কের প্রায় অর্ধেক অংশজুড়ে সারি সারি হকার বসিয়ে জামা, জুতা, খাবার—সব ধরনের ব্যবসা চলছে। ফলে একটি লেন দিয়েই কোনোরকম গাড়ি চলাচল করছে। এ এলাকার এমন কোনো ফুটপাত নেই, যা দখল হয়নি। শুধু মতিঝিলেরই নয়, গোটা রাজধানীর ব্যস্ততম সব এলাকার চিত্র একই।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আগের তুলনায় রাজধানীর প্রতিটি এলাকায় হকার বেড়েছে। তবে জনদুর্ভোগ কমাতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মাঝেমধ্যে কঠোর অবস্থানে গেলেও পুরোপুরি হাল ছেড়ে দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। অবশ্য দুই সিটি করপোরেশনই ফুটপাতের এসব অবৈধ ব্যবসা বন্ধে পুলিশের জোরালো পদক্ষেপের কথা বলেছে। সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্টরা জানান, পুলিশ খুব সহজে এসব অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করতে পারে কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

মতিঝিল মেট্রোরেলের ফুটপাতের জায়গা কিছুদিন আগেও খালি ছিল। গত দুই মাস ধরে ওই জায়গায়ও চৌকি বসানো হয়েছে। সেখানে চৌকি বসিয়ে শীতের পোশাক বিক্রি করা এক ব্যবসায়ী বলেন, স্থানীয় এক নেতাকে এককালীন কিছু টাকা দিয়ে এখানে বসেছি। এখন প্রতিদিন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা দাবি করে প্রত্যেক দোকান থেকে ২০-৩০ টাকা করে তুলে নিচ্ছে। কেউ দিতে না চাইলে তাদের চৌকিসহ মালামাল ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

মতিঝিল এলাকায় দেখা গেছে, শাপলা চত্বর এলাকার সোনালী ব্যাংকের সামনে থেকে শুরু করে লংকবাংলা পর্যন্ত প্রধান সড়কের অর্ধেকজুড়ে জুতা, জামা, কাপড়ের মার্কেট, চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন দোকান বসানো হয়েছে। এছাড়া গুলিস্তান এলাকায় জিরো পয়েন্ট থেকে বায়তুল মোকাররম মসজিদ এবং শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউর দুপাশের ফুটপাত পুরোপুরি দখল হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ফুটপাতের ওপর ছাউনি দিয়ে স্থায়ী কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। পথচারীদের চলাচলের জায়গায় তৈরি হওয়া এসব দোকান বছরের পর বছর ধরে রূপ নিয়েছে স্থায়ী দোকানে। এসব দোকানের মাঝ দিয়ে চলা দায়।

জিরো পয়েন্টের পেছন থেকে শুরু করে গোলাপ শাহ্ মাজার পর্যন্ত গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের সামনের রাস্তাজুড়ে বসানো হয়েছে জুতা-স্যান্ডেল ও বাচ্চাদের জামাকাপড়ের দোকান। রাস্তাটি দিয়ে গাড়ি তো দূরের কথা, মানুষ চলাচলেও বেগ পেতে হয়।

এদিকে, ফুলবাড়িয়া মার্কেটের সামনে দিয়ে ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তার প্রায় পুরোটা বন্ধ করে তার ওপর বসানো হয়েছে দোকান।

৮০০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে ইরান, দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

আবার মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল, রূপালী ব্যাংক, জীবন বীমা, বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনেসহ এমন কোনো ফুটপাত নেই, যেখান থেকে চাঁদা তোলা হচ্ছে না।

এদিকে, মোতালেব প্লাজার সামনে প্রধান সড়কে ভাতের হোটেল বসিয়েছে একটি চক্র। প্রধান সড়কের মধ্যে রীতিমতো টেবিল পেতে ভাত খেতে দেখা যায় এসব দোকানের ক্রেতাদের। নিউ মার্কেট থেকে ঢাকা কলেজ পর্যন্ত মিরপুর রোড এলাকাটিও এখন কার্যত হকারদের দখলে। ফুটপাতের দুপাশে দুই সারি এবং মূল সড়কের ওপরও হকার বসানো হয়েছে।

দক্ষিণ সিটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নিউ মার্কেট এলাকায় ভয়াবহ অবস্থা। ফুটপাত, প্রধান সড়ক বলে কিছু নেই। ওই এলাকাজুড়ে ফুটপাত ও প্রধান সড়কে কয়েক হাজার অবৈধ দোকান রয়েছে। গত এক বছর ধরে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আমরা কার্যত অসহায়।

নেতাদের টাকা দিয়েই বসেছি

হকারদের কথায় ভয়াবহ চাঁদাবাজির চিত্র উঠে এসেছে। মতিঝিল এলাকার এক হকার বলেন, আমরা সিটি করপোরেশনকে চিনি না। স্থানীয় নেতাদের টাকা দেই। তারাই আমাদের বসতে দেয়। আরেক হকারের অভিযোগ, কেউ কেউ নিজেদের সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নিয়মিত দোকানপ্রতি টাকা তুলে নেয়। টাকা না দিলে দোকান ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

অবৈধ দোকানের নতুন সিন্ডিকেট

রাজধানীর ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান নিয়ন্ত্রণে নতুন একটি চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন গুলিস্তান এলাকার এক মার্কেট ব্যবসায়ী মজিবর হোসেন।

লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলেও এখনো ফ্যাসিবাদের মতোই একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাজধানীতে চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। তাদের অপকর্মের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ২০ নম্বর ওয়ার্ড কমিটি স্থগিত করা হলেও বাস্তবে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, গুলিস্তানের ফুটপাত, গুলিস্তান পুরান বাজার মার্কেট, গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স, ফুলবাড়িয়া, বঙ্গবাজার মার্কেট এবং বিভিন্ন পরিবহন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এতে জড়িত ২০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন টিটু, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, নুরুল হক হাদীসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

দোকানপ্রতি চাঁদা আদায় ও মারধরের অভিযোগ

কিছুদিন আগে এ চক্র প্রত্যেক দোকান থেকে আট হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করে। পাশাপাশি মার্কেটের খালি জায়গা ও প্রশস্ত গলিতে চৌকি বসিয়ে নতুন করে প্রায় ২০০ অবৈধ দোকান তৈরি করা হয়েছে। আরো দোকান নির্মাণের কাজ চলছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাধারণ এক ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, গুলিস্তানের ফুটপাতের প্রায় ৬০০ দোকান থেকে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জামানত বাবদ অফেরতযোগ্য চাঁদা আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক ২০০-৩০০ টাকা করে নিয়মিত চাঁদা তোলা হয়। সম্প্রতি এক ফুটপাত ব্যবসায়ী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করে টিটুর সহযোগী সেলিম, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

উচ্ছেদ অভিযানে হামলা

এদিকে, গত ৯ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে গিয়ে হকারদের হামলার শিকার হন ডিএনসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ছয়জন আহত হন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িসহ সিটি করপোরেশনের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ওই ঘটনায় ডিএনসিসি মামলা দায়ের করলেও এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় চাঁদাবাজি

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গুলশান-১ থেকে বাড্ডা লিংক রোড এবং উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ বাড্ডা এলাকার ফুটপাত ও সড়ক দখল করে অবৈধ দোকান ও ফুডকোর্ট নিয়ন্ত্রণ করছে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী। যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেহেদী ওরফে ‘কলিংস’ এবং মালয়েশিয়া থেকে রবিন ওরফে ‘হাতকাটা রবিন’ এ নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের হয়ে স্থানীয়ভাবে বড় সাঈদ ও বাড্ডার হোসেন মার্কেটের দীপু পুরো চাঁদাবাজি নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করে। রাজু, রাসেল ও ফিরোজ চাঁদার টাকা সংগ্রহের দায়িত্বে রয়েছে বলে সূত্রটি দাবি করেছে।

খিলক্ষেত-নিকুঞ্জে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট

রাজধানীর খিলক্ষেত ও নিকুঞ্জ এলাকায়ও ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী হকার সিন্ডিকেট। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু সুবিধাবাদী নেতাকর্মীর প্রত্যক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বছরের পর বছর ধরে অবৈধ এ দখলদারিত্ব চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। উল্টো খিলক্ষেত থানা পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে এ কার্যক্রমে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

খিলক্ষেত বাসস্টেশন থেকে ফুটওভার ব্রিজের নিচ পর্যন্ত ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চৌকি বিছিয়ে ব্যবসা চলে। এতে পথচারীদের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে এবং যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়েছে।

২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট খিলক্ষেত থানা পুলিশের উদ্যোগে নিকুঞ্জ এলাকায় অনুষ্ঠিত ওপেন হাউস ডেতে এলাকাবাসীর একমাত্র দাবি ছিল—খিলক্ষেত বাসস্টেশন ও ফুটওভার ব্রিজ এলাকা হকারমুক্ত করা। তবে ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা স্থায়ী সমাধান দেখা যায়নি।

নিকুঞ্জ-২ : মাঠ দখলের অভিযোগ

নিকুঞ্জ-২ এলাকার পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। প্রায় প্রতিটি সড়ক হকারদের দখলে, কোথাও ফুটপাত নেই। কোথাও আবার মূল সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ দখলদারিত্বের পেছনে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী সক্রিয়ভাবে জড়িত। অনুসন্ধানে নূর হোসেন লাল, মোফা বাবু, মেসিয়ার আলম মোড়ল, মুরাদ মজুমদার, জহির বাবু ও শ্রমিক দলের মালেকসহ একাধিক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে।

এলাকাবাসী জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে স্বস্তি ফিরবে বলে তারা আশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি আরো বেপরোয়া হয়েছে। এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, নাম বদলেছে, দখলদার বদলেছে কিন্তু ভোগান্তি একই আছে।

এছাড়া নিকুঞ্জ-২-এর একমাত্র খেলার মাঠ দখল করে ফুডকোর্ট বসানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কল্যাণ সমিতির একটি অংশকে ‘ম্যানেজ’ করে মাঠটিকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনা চলছে। শিশু-কিশোরদের একমাত্র খেলার জায়গা রক্ষায় এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানালেও এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট অবস্থান দেখা যায়নি।

নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান আমার দেশকে বলেন, স্থানীয় জনগণের সরকার হিসেবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ—দুই সিটি করপোরেশনই নাগরিক প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। তার ভাষায়, ফুটপাত হকারমুক্ত করতে সিটি করপোরেশন সময় সময় অভিযান চালালেও যারা হকারদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করেন, তাদের পরিচয় জানা থাকার পরও কখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ফলে অনিয়ন্ত্রিতভাবেই বাড়ছে হকারের সংখ্যা।

তিনি আরো বলেন, হকাররা কোথায় ও কীভাবে বসবে—এ বিষয়গুলো নিয়মের মধ্যে আনলেই ফুটপাত ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সিটি করপোরেশন ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে রাজধানীর ফুটপাত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি মিডিয়া) মোহাম্মদ তালেবুর রহমান আমার দেশকে বলেন, ফুটপাতের মালিক ডিএমপি নয়; সিটি করপোরেশন। সিটি করপোরেশন ডিএমপিকে চিঠি দিলে আমরা উচ্ছেদ অভিযানের জন্য পুলিশ দিচ্ছি। তিনি দাবি করেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিতভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে বাস্তবতা হলো, একদিকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে অন্যদিকে আবার হকার বসে পড়ছে। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বারবার অবৈধভাবে দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ফুটপাত সমস্যার সমাধানে ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কিছু এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনো কিছু জায়গায় চাঁদাবাজির মাধ্যমে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালানো হচ্ছে।

ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোবাশ্বের হাসান বলেন, একা সিটি করপোরেশনের পক্ষে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা সম্ভব নয়। পুলিশ যদি আন্তরিক না হয়, তাহলে কোনোভাবেই ফুটপাত দখলমুক্ত করা সম্ভব হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

11 − one =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য