Monday, May 11, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরহামের পরিস্থিতি: ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের, দ্বিমত সরকারে

হামের পরিস্থিতি: ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের, দ্বিমত সরকারে

দেশে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দুই মাসে ৪০০ ছাড়িয়েছে। টিকাদান কর্মসূচি চালু থাকলেও আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমার লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও রোগতত্ত্ববিদেরা হামের প্রাদুর্ভাবকে ‘স্বাস্থ্যের জরুরি অবস্থা’ বা মহামারি হিসেবে বিবেচনা করে সমন্বিত জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তবে সরকার বলছে, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তবে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘মহামারি ঘোষণার প্রয়োজন নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। টিকাদান কর্মসূচির আওতায় চলে এসেছে ৯৬ শতাংশ শিশু। বাকিটা চলমান। সংক্রমণ বেশি, এমন এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা জোরদার করা হয়েছে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চার শিশু হামে এবং সাত শিশু হামের উপসর্গে মারা গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে নিশ্চিতভাবে ৬৫ শিশু এবং উপসর্গ নিয়ে ৩৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০৯ জনে। একই সময়ে ৪৯ হাজার শিশু উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রায় ৩৫ হাজার শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

গত মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। পরে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে ৬১ জেলায় সংক্রমণের তথ্য জানানো হয়। সর্বশেষ গত শনিবার রাজধানীতে এক গোলটেবিল আলোচনায় জনস্বাস্থ্যবিদেরা দাবি করেন, দেশের ৬৪ জেলাতেই হামের সংক্রমণ রয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি এখন আর বিচ্ছিন্ন আঞ্চলিক প্রাদুর্ভাব নয়; এটি জাতীয় পর্যায়ের মহামারিসদৃশ পরিস্থিতি। তাঁদের ভাষ্য, হামের সংক্রমণ গত কয়েক বছরের গড় প্রবণতার চেয়ে অনেক বেশি এবং এটি মহামারির সংজ্ঞাগত শর্ত পূরণ করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, মহামারি ঘোষণা করা হলে রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারি ব্যবস্থাপনা আরও দ্রুত ও সমন্বিত হয়। এতে বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায় এবং জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ, টিকা ও চিকিৎসাসামগ্রী সংগ্রহ সহজ হয়। একই সঙ্গে আপৎকালীন পরিকল্পনাও কার্যকর করা যায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘প্রত্যাশার বাইরে কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটলে তাকে মহামারি বলা হয়। গত পাঁচ বছরের গড়ের সঙ্গে তুলনা করলে এবারের হামের সংক্রমণ অনেক বেশি। এটি মহামারির পর্যায়ে পড়ে।’

মহামারি ও স্বাস্থ্যের জরুরি অবস্থার পার্থক্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘মহামারি (এনডেমিক) হলো রোগতাত্ত্বিক শ্রেণিবিন্যাস, আর স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হলো ব্যবস্থাপনাগত সিদ্ধান্ত। রোগের বিস্তার, মৃত্যুহার, স্বাস্থ্যসেবার চাপ ও আন্তর্জাতিক ঝুঁকি বিবেচনায় মহামারি নির্ধারিত হয়। এরপর সরকার চাইলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে পারে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো সংক্রামক রোগ দীর্ঘ সময় একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে নিয়মিতভাবে থাকলে সেটিকে এনডেমিক বলা হয়। আর রোগটি প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত ও অস্বাভাবিকভাবে ছড়িয়ে পড়লে তা এপিডেমিক হিসেবে বিবেচিত হয়। একই রোগ একাধিক দেশ বা মহাদেশে ছড়িয়ে বৈশ্বিক সংকট তৈরি করলে সেটিকে প্যানডেমিক বলা হয়।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা এবং মহামারি ঘোষণার আনুষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। কোভিড-১৯-এর সময়ও সরকার মহামারি ঘোষণা না করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঘোষণার ওপর নির্ভর করেছিল।’

মহামারি ঘোষণা না করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার সাধারণত ভাবমূর্তি ও জনআতঙ্কের আশঙ্কায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত এড়িয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবতা অস্বীকার করলে সংকট আড়াল হয় না। সময়মতো মহামারি ঘোষণা ও সমন্বিত ব্যবস্থা নিলে সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যু আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যেত।’

হাম-রুবেলা নির্মূলবিষয়ক ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কমিটির চেয়ারম্যান এবং আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান বলেন, দেশে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ থাকলেও স্বাস্থ্যের জরুরি পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। তিনি বলেন, ‘অথচ এমন ব্যবস্থা থাকলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জরুরি তহবিল ব্যবহার ও সমন্বিত পদক্ষেপ সহজ হতো।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 + 3 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য