Sunday, October 11, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে ও পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআন্তর্জাতিকদুই মাস ধরে মুসলিম কলোনিতে পানি বন্ধ, পাশের হিন্দু এলাকায় সচল: জাতিসংঘে...

দুই মাস ধরে মুসলিম কলোনিতে পানি বন্ধ, পাশের হিন্দু এলাকায় সচল: জাতিসংঘে জ্যোতিনগরের বঞ্চনা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় মুসলিম-অধ্যুষিত জ্যোতিনগর কলোনিতে দুই মাসের বেশি সময় ধরে পাইপের পানি বন্ধ রয়েছে। অথচ কলোনির দুই প্রান্তের প্রধানত হিন্দু-অধ্যুষিত এলাকায় পানি সরবরাহ সচল। স্থানীয় বিজেপি বিধায়কের প্রকাশ্য মুসলিমবিরোধী অবস্থানের মধ্যেই এমন বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন জ্যোতিনগরের প্রায় পাঁচ হাজার বাসিন্দা। এবার তাদের পানি থেকে বঞ্চিত রাখার বিষয়টি পৌঁছেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরে।

তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সমীরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠান। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে চিঠিটি প্রকাশ করেন তিনি।

চিঠিতে সমীরুল ইসলাম বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর জ্যোতিনগর কলোনির খাবার পানির সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাসিন্দারা মুসলিম এবং বিজেপির ভোটব্যাংকের অংশ নন বলেই তাদের পানি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে জাতিসংঘের সামনে তুলে ধরেন তিনি।

নিরাপদ খাবার পানি কোনো অনুগ্রহ বা দয়া নয় উল্লেখ করে সমীরুল ইসলাম বলেন, এটি মানুষের বেঁচে থাকার অপরিহার্য প্রয়োজন এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মৌলিক মানবাধিকার। দীর্ঘদিন পানি না থাকায় হাজারো মানুষের স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও স্বাভাবিক জীবনযাপন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি জাতিসংঘকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণ জানতে চাওয়া, অবিলম্বে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা এবং স্থায়ীভাবে সরবরাহ পুনরুদ্ধারে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও তথ্য চান তিনি।

কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাশীপুর এলাকায় অবস্থিত জ্যোতিনগর কলোনিতে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস। বাসিন্দাদের প্রায় ৯৫ শতাংশ মুসলিম। গত ২৯ জুলাই থেকে কলোনির পাঁচটি গণপানির কল বন্ধ রয়েছে।

মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জ্যোতিনগরের ভেতরের পানির কলগুলো বন্ধ থাকলেও কলোনির দুই প্রান্তে পানি সরবরাহ সচল রয়েছে। এর একটি সচল কল মন্দিরের বিপরীতে। অন্য প্রান্তেও স্বাভাবিকভাবে পানি পাওয়া যাচ্ছে। মাঝখানের মুসলিম-অধ্যুষিত জ্যোতিনগরেই পানি নেই।

পানির জন্য বাসিন্দাদের প্রতিদিন আশপাশের এলাকায় গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। অনেকে ভ্যানে করে দূর থেকে পানি বহন করছেন। অনিয়মিতভাবে আসা পানির ট্যাংকারের ওপরও নির্ভর করতে হচ্ছে। দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে অনেক পরিবার গঙ্গার পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। পানি সংকটে স্থানীয় মসজিদে অজুর স্বাভাবিক ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে।

জ্যোতিনগরের এই পরিস্থিতিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারির প্রকাশ্য মুসলিমবিরোধী বক্তব্য। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তিনি বলেছিলেন, মুসলিমদের কাছ থেকে একটি ভোটও পাননি। তাই আগামী পাঁচ বছরে মুসলিমদের জন্য কোনো কাজ করবেন না এবং তাদের কোনো সনদও দেবেন না।

একদিকে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির প্রকাশ্যে মুসলিমদের জন্য কাজ না করার ঘোষণা, অন্যদিকে তার নির্বাচনী এলাকার মুসলিম-অধ্যুষিত জ্যোতিনগরে দুই মাসের বেশি সময় পানি বন্ধ থাকা এবং পাশের হিন্দু এলাকায় সরবরাহ সচল থাকা, ধর্মীয় বৈষম্যের বিষয়টিকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে।

রীতেশ তিওয়ারি অবশ্য পানি বন্ধের দায় নিজের নয় বলে দাবি করেছেন। তার বক্তব্য, পানি সরবরাহের দায়িত্ব কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের এবং জ্যোতিনগরের জমি নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে।

ইনসাফ গত ৩০ আগস্ট জ্যোতিনগরের মুসলিমদের পানি থেকে বঞ্চিত রাখার বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। তখন প্রায় এক মাস ধরে পানি বন্ধ থাকার বিষয়টি সামনে আসে। এরপর আরও এক মাসের বেশি সময় পার হলেও জ্যোতিনগরের কলগুলোতে পানি ফেরেনি। স্থানীয় মুসলিমদের এই বঞ্চনা এখন ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর পর্যন্ত পৌঁছেছে।

সূত্র: ইনসাফ, পিটিআই ও আল্ট নিউজ

Sourceinsaf24

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

sixteen − 6 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য