আশ-শাইখুল আল্লামাহ, ইমাম আব্দুর রহমান ইবনু নাসির আস সা’দী (রাহিমাহুল্লাহ্) বলেন — ❝তাওহীদ একটি বৃক্ষের ন্যায়, যা মু’মিন ব্যক্তির অন্তরে বৃদ্ধি লাভ করে, আর তাই তার শাখা-প্রশাখা গজায় ও উন্নতি লাভ করতে থাকে। ফলে আল্লাহর আনুগত্যের সাথে সাথে তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। তাতে স্বীয় প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে বান্দার ভালবাসা, ভয়, আশা বাড়তে থাকে এবং তাঁর উপরে ভরসা শক্তিশালী হতে থাকে। যেসব উপায় অবলম্বনে অন্তরে তাওহীদ প্রবৃদ্ধি লাভ করে তা হল —
.
১. আল্লাহর নিকট যা পাওয়ার রয়েছে তার প্রতি আগ্রহভরে আনুগত্যের কাজ করা।
২. আল্লাহর শক্তিকে ভয় করে পাপকাজ পরিহার করা।
৩. আসমান ও যমীনে আল্লাহর কর্তৃত্বের বিষয়ে চিন্তা করা।
৪. আল্লাহর সুন্দরতম নাম ও গুনাবলী — সেগুলোর চাহিদা ও প্রভাব এবং যে মহৎ ও পূর্ণাঙ্গ অর্থবহন করে তা জানা।
৫. উপকারী ইলম অর্জন ও সে-মতে আমল করা।
৬. অর্থ ও মর্ম বুঝে ক্বুর’আন তিলাওয়াত করা।
৭. ফরযের পাশাপাশি নফল ইবাদত দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা।
৮. জিহবা ও অন্তরের সাহায্যে সর্বদা আল্লাহর স্বরণে লিপ্ত থাকা।
৯. ভালবাসার একাধিক বস্তু সামনে আসলে আল্লাহর ভালবাসাকে প্রাধান্য দেয়া।
১০. আল্লাহর প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য নি’আমাত সম্পর্কে চিন্তা করা এবং বান্দার উপর তাঁর অনুগ্রহ, অনুকম্পা ও পুরস্কারের ক্ষেত্রে জাগ্রত অনুভূতি রাখা।
১১. আল্লাহর সামনে মন গলিয়ে তাঁর মুখাপেক্ষীতা প্রকাশ করা।
১২. রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহর অবতারণকালে একাকী তার সাথে সম্পর্ক নিবিড় করা। সে সময় ক্বুর’আন তিলাওয়াত করা ও তাওবাহ-ইস্তেগফারের মাধ্যমে তার পরিসমাপ্তি ঘটানো।
১৩. খাঁটি মন, যোগ্য, ভালো, ও আল্লাহর উদ্দেশ্যে যারা পারস্পরিক ভালবাসা বজায় রাখে — কেবল তাদের সাথে উঠা-বসা করা ও তাদের কথা ও আচরণ থেকে শিক্ষা লাভ করা।
১৪. প্রত্যেক ঐ কাজ থেকে দূরে থাকা যা আল্লাহ্ ও বান্দার অন্তরের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করে।
১৫. বেহুদা কথা, অধিক খাবার, বেশি বেশি মানুষের সাথে মেশা ও এদিক-সেদিক তাকানো বর্জন করা।
১৬. নিজের জন্য যা পছন্দ করে অন্যের জন্যেও তা পছন্দ করা এবং এ ব্যাপারে নফসের সাথে সর্বোচ্চ জিহাদ করা।
১৭. অন্তরকে মু’মিনদের প্রতি বিদ্বেষ মুক্ত রাখা। আরো মুক্ত রাখা ঘৃণা, হিংসা, অহংকার, আত্মগরিমা ও আত্মতুষ্টি ইত্যাদি।
১৮. আল্লাহর কর্ম পরিচালনায় সন্তুষ্ট থাকা।
১৯. পাপ হয়ে গেলেই তা থেকে ক্ষমা চাওয়া।
২০. সুখে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় ও দুঃখে সবর করা।
২১. বেশি বেশি নেক আমল করা। যেমন পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার, উত্তম চরিত্র, রক্তের সম্পর্ক বজায় রাখা ইত্যাদি।
২২. ছোট-বড় সব কাজে নবী (ﷺ)-এর অনুসরণ করা।
২৩. আল্লাহর পথে জিহাদ করা।
২৪. হালাল খাবার গ্রহণ করা।
২৫. সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করা।
.
পরিশেষে দু’আ করা —“আল্লাহ্ তুমি আমাদেরকে তাওহীদের উপর সৌভাগ্যবান করে দুনিয়াতে বাঁচিয়ে রাখো, এবং এই তাওহীদের উপর আমাদেরকে শাহাদাতের মর্যাদা দিয়ে মৃত্যু দান কর” — আমীন।❞
.
❏ গৃহীত:
— [হিসনুত তাওহীদ: ৩৪-৩৭]।
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
