Wednesday, June 19, 2024
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমকুরআন ও হাদীসআসুন, আজ কুরআনুল কারীমের একটি আয়াত শিখি।

আসুন, আজ কুরআনুল কারীমের একটি আয়াত শিখি।

তাফসীর সূরা আল-লাহাবআয়াত নং ০১تَبَّتْ یَدَاۤ اَبِیْ لَهَبٍ وَّ تَبَّؕ
“ধ্বংস হোক আবু লাহাবের দুই হাত এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক”।
تبধ্বংস হওয়া, বিনষ্ট হওয়া ,ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।يداদুই হাত দ্বারা এখানে আবু লাহাবের হস্তদ্বয় কে ধ্বংস হওয়ার জন্য অভিশাপ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু মানুষের সকল কর্মকান্ড হাতের মাধ্যমে হয়ে থাকে। আর আবু লাহাব সে নিজ হাতে রাসূল (সাঃ) কে কষ্ট দিত। তাকে পাথর নিক্ষেপ করেছিল। তার উপর নাড়িভুঁড়ি নিক্ষেপ করত।
দ্বিতীয়তঃ নির্দিষ্টভাবে হাতের কথা উল্লেখ করে মূলত আবু লাহাবের সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়া উদ্দেশ্য। যেটাকে আরবি ভাষায় বলা হয়
ذكر الخاص اريد به العامঅর্থাৎ নির্দিষ্ট কোন বিষয়কে উল্লেখ করে সম্পূর্ণ বিষয়কে উদ্দেশ্য করা।যেমন কেউ যদি বলে অমুকের ঘরে আমি এক ফোঁটা পানিও পান করবো না, এর দ্বারা উদ্দেশ্য শুধু পানি নয় , বরং সকল খাবারেই উদ্দেশ্য।তাছাড়া আল্লাহ তাআলা বলেছেন সকল ধরনের বিপদ- আপদ, মুসিবত ও বিপর্যয় মানুষের হাতের কামাইয়ের ফসল।
ظَهَرَ الْفَسَادُ فِی الْبَرِّ وَ الْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ اَیْدِی النَّاسِ لِیُذِیْقَهُمْ بَعْضَ الَّذِیْ عَمِلُوْا لَعَلَّهُمْ یَرْجِعُوْنَ
“মানুষের হাতের কৃতকর্মের দরুন জলে-স্থলে বিপর্যয় দেখা দেয়, যার ফলে তাদেরকে তাদের কিছু কৃতকর্মের স্বাদ আস্বাদন করানো যায়, হয়তো তারা বিরত হবে”। -আর-রূম:৪১,
তাই আবু লাহাবের ধ্বংস তার হাতের কামাই তার কৃতকর্মের ফল।

আবু লাহাবের আসল নাম ছিল আবদুল উযযা। তাকে আবু লাহাব বলে ডাকার কারণ, তার গায়ের রং ছিল উজ্জ্বল সাদা লালে মেশানো। লাহাব বলা হয় আগুনের শিখাকে। কাজেই আবু লাহাবের মানে হচ্ছে আগুনবরণ মুখ। এখানে তার আসল নামের পরিবর্তে ডাক নামে উল্লেখ করার কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর একটি কারণ হচ্ছে এই যে, 
প্রথমতঃ মূল নামের পরিবর্তে ডাক নামেই সে বেশী পরিচিত ছিল। 
দ্বিতীয়তঃ তার আবদুল উযযা (অর্থাৎ উযযার দাস) নামটি ছিল একটি মুশরিকী নাম। কুরআনে তাকে এ নামে উল্লেখ করা পছন্দ করা হয়নি। 
তৃতীয়তঃ কারণ, এ সূরায় তার যে পরিণতি বর্ণনা করা হয়েছে তার সাথে তার এ ডাক নামই বেশী সম্পর্কিত। 
এ সূরাটি নাযিল হবার মাত্র সাত আট বছর পরেই বদরের যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। এ যুদ্ধে কুরাইশদের অধিকাংশ বড় বড় সরদার নিহত হয়। তারা সবাই ইসলাম বিরোধিতা ও ইসলামের প্রতি শত্রুতার ক্ষেত্রে আবু লাহাবের সহযোগী ছিল। এ পরাজয়ের খবর মক্কায় পৌঁছার পর সে এত বেশী মর্মাহত হয় যে, এরপর সে সাত দিনের বেশী জীবিত থাকতে পারেনি। তার মৃত্যুও ছিল বড়ই ভয়াবহ ও শিক্ষাপ্রদ। তার শরীরে সাংঘাতিক ধরনের একটি রোগ দেখা দেয়। রোগ সংক্রমণের ভয়ে পরিবারের লোকেরা তাকে ছেড়ে পালিয়ে যায়। মরার পরও তিন দিন পর্যন্ত তার ধারে কাছে কেউ ঘেঁষেনি। ফলে তার লাশে পচন ধরে। চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। তখন মানুষ তার সন্তানদেরকে ধিক্কার দিতে থাকে।
একটি বর্ণনা অনুসারে তখন মজুরীর বিনিময়ে তার লাশ দাফন করার জন্য কয়েকজন হাবশীকে নিয়োগ করে এবং তারা তার লাশ দাফন করে। অন্য এক বর্ণনা অনুসারে, তারা গর্ত খুঁড়ে লম্বা লাঠি দিয়ে তার লাশ তার মধ্যে ফেলে দেয় এবং ওপর থেকে তার ওপর মাটি চাপা দেয়। যে দ্বীনের অগ্রগতির পথরোধ করার জন্য সে তার সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিল তার সন্তানদের সেই দ্বীন গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে তার আরো বেশী ও পূর্ণ পরাজয় সম্পন্ন হয়। সর্বপ্রথম তার মেয়ে দাররা হিজরত করে মক্কা থেকে মদীনায় চলে যান এবং ইসলাম গ্রহণ করেন। আর মক্কা বিজয়ের পর তার দুই ছেলে উতবা ও মু’আত্তাব হযরত আব্বাসের (রা.) মধ্যস্থতায় রসূলুল্লাহর (সা.) সামনে হাযির হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁর হাতে বাইআত করেন।

মহান আল্লাহ তাআলার এই অভিশাপ এর ফলে আবু লাহাব দুনিয়া ও আখেরাতে চূড়ান্তভাবে ধ্বংস হয়েছে। জীবিত থাকাকালীন সময়েও সামাজিক মর্যাদাও হারিয়েছিল যা ইতিপূর্বে মানুষ তাকে দিত।

শিক্ষা ও প্রায়োগিক ক্ষেত্রঃ
আবু লাহাবের জীবনী থেকে বুঝা যায় যে,যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে শত্রুতা করে তাদের ধ্বংস অনিবার্য। অতীতেও তারা চূড়ান্তভাবে ধ্বংস হয়েছে বর্তমানেও হচ্ছে ভবিষ্যতেও হবে। আর আখেরাতে তাদের জন্য রয়েছে চূড়ান্ত পরিণাম জাহান্নাম। এজন্য আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
فَلْیَحْذَرِ الَّذِیْنَ یُخَالِفُوْنَ عَنْ اَمْرِهٖۤ اَنْ تُصِیْبَهُمْ فِتْنَةٌ اَوْ یُصِیْبَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ
“রাসূল (সঃ) এর হুকুমের বিরুদ্ধাচারণকারীদের ভয় করা উচিত যেন তারা কোন বিপর্যয়ের শিকার না হয় অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আযাব না এসে পড়ে”। -আন্-নূর:৬৩,

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

five × 4 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য