Wednesday, April 17, 2024
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমদৈনন্দিন খবরঝুপরি ঘরে মানবেতর জীবন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রীর

ঝুপরি ঘরে মানবেতর জীবন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রীর

প্রায় ৪ বছর আগে মারা যান মনোয়ারা বেগমের স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দীন। মারা যাওয়ার আগে তেঁতুলিয়া উপজেলা শালবাহান ইউনিয়নের ছোপাগছ গ্রামে দ্বিতীয় স্ত্রী ও দুই ছেলে নিয়ে ৪ শতক জমির ওপর ঝুপড়ি ঘর তুলে বসবাস করছিলেন।

প্রথম স্ত্রী তার সন্তানদের সঙ্গে থাকেন ঢাকায়। তার সন্তানরা ঢাকায় অন্যের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কর্মরত রয়েছে বলে জানা যায়।

স্বামীর মৃত্যুর পর সেই ঝুপরি ঘরে অসহায়ভাবে জীবনযাপন করছেন মনোয়ারা বেগম। সরকারের কাছে একটি বাড়ি দাবি করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধার এই বিধবা স্ত্রী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বামীর মৃত্যুর পর মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা দুই স্ত্রী সমান ভাগে বণ্টন করে নেন। এভাবেই চলছে তাদের সংসার।

মনোয়ারা বেগমের এক ছেলে দেলোয়ার হোসেন ট্রাকের হেলপারি করে সংসারে যোগান দিতেন। কিন্তু গত ২৯ ডিসেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি। সংসারে যোগান দেওয়া সন্তানকে হারিয়ে আরও অসহায় হয়ে পড়েন মনোয়ারা বেগম। শিশু নাতি নিয়ে কোনো রকম দিন পার করছেন।

মনোয়ারা বেগম দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘চার বছর আগে স্বামীকে হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে কোনোভাবে সংসার চালাতাম। সংসারে উপার্জনক্ষম ছেলে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর আরও অসহায় হয়ে পড়েছি। তাই সন্তানদের নিয়ে এই ঝুপরি ঘরে বসবাস করে আসছি। শীতকালে খুব ঠান্ডা, বর্ষাকালে বৃষ্টি পড়ে। পর্যন্ত সরকারি কোনো সাহায্য-সহযোগিতাও পাইনি।’

‘ছেলে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার দিন শালবাহান ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম নগদ অর্থ ও চাল ডাল দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করেন। আমরা গরিব মানুষ, আমার স্বামী একজন মুক্তিযোদ্ধা হলেও সরকারি কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাই না। সরকারের কাছে আবদার যদি একটি বাড়ি করে দিতো তাহলে সন্তানদের নিয়ে অন্তত শান্তিতে একটু ঘুমাতে পারতাম।’

মনোয়ারা বেগমের আরেক ছেলে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি ঢাকায় অন্যের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করি। গ্রামে আসলে নিজের বাড়িতে ঘুমানোর মতো কোনো ঘর না থাকায় অন্যের বাড়িতে ঘুমাতে হয়। অর্থের অভাবে ঘর তুলতে পারছি না।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএও) সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি, আমাদের প্রথম ধাপের বরাদ্দ শেষ হয়ে গেছে। পরবর্তী বরাদ্দ আসলে প্রথমেই মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রীর বাড়ির বিষয়টা অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

1 × one =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য