মানুষ Naস্তিক কেন হয়?
(১) অপকর্ম করার খায়েশ:
চোর চাইবে না চুরিকে অপরাধ সাব্যস্ত করে বাধা দেওয়া হোক। নেশা, অবৈধ যৌনতা, অবৈধ উপার্জন, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, মানুষ হয়ে পশুর মতো উদ্দেশ্যহীন ও গোসলবিহীন থাকতে চাইলে Naস্তিক হওয়ার ভান করতে হবে।
(২) প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া:
বাটপার Naস্তিকটা নিজেও জানে মহান স্রষ্টা আছেন এবং ইসলাম সঠিক। কিন্তু ওই বদটা জীবনে হয়তো বিশেষ কিছু চেয়েছিল যা পূরণ হয়নি। এখন ঘাড় ত্যাড়ামি করে নাস্তিক সেজেছে। ভাবটা এমন যে, চাইলাম দিলা না। তার মানে তুমি নাই। তোমাকে বিশ্বাস করলাম না।
(৩) সুবিধাবঞ্চিত শৈশব:
অভাব-অনটন, বিত্তবান আত্মীয়দের কাছে তাচ্ছিল্যের শিকার হওয়া, সামাজিকভাবে একটু নিচের দিকে থাকা প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ জন একটু গাঁজা টেনে আর দুয়েকটা বস্তাপঁচা ভাব-দর্শনের বই পড়ে নাস্তিক সাজে। দার্শনিক দার্শনিক ভাব মারায়। কারণ প্রত্যেক গাঁজা সেবনকারীই নিজেকে রাজা ভাবে।
(৪) পিতা-মাতার পরিচয় না থাকা:
এটা বেশ কমন। জারজ সন্তান পৃথিবীতে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন জনের কাছে লাথি-গুতো খেয়ে বড়ো হয়। নিজের জীবন ও ভাগ্যের প্রতি একটা ক্ষোভ জন্মে। তখন সব দোষ দেয় মহান স্রষ্টার ওপর। অথচ ওর মতো বদকে রাজার ঘরে জন্ম গ্রহণ করালেও ও বদই হতো।
(৫) পিতামাতার বিচ্ছেদ:
অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখেছি, পিতামাতার বিচ্ছেদ হলে কিংবা বিচ্ছেদের মতো পরিস্থিতিতে থাকলে সেই ঘরের সন্তানরা ছন্নছাড়া জীবনযাপন করে। বেপরোয়া হয়। স্রষ্টার প্রতি ক্ষোভ থাকে আমাদের পরিবারে কেন এমন অশান্তি দিলে।
(৬) বুদ্ধির বিকলাঙ্গতা:
এই সৃষ্টি জগৎ দেখেও মহান সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার করে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীরা। এদেরকে এক শব্দে কুয়ার ব্যাঙ বলা চলে। এদের দৃষ্টি, চিন্তা, অনুধাবনের ক্ষমতা অত্যন্ত নিচু মানের। আইকিউ লেভেলের মতো পরীক্ষা করলে পাশ মার্ক আসবে না এদের।
(৭) অন্তরে সীলমোহর মারা:
খারাপ প্রকৃতির মানুষকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অন্ধকারে ফেলে রাখেন। এদেরকে কোনো আলো দান করেন না। এদের চোখ, কান, অন্তর থাকলেও এরা পশুর মতো। কুরআনে বহু আয়াত আছে এই ব্যাপারে। তাই এরা কখনোই ঈমান আনবে না।
(৮) চারিত্রিক অবক্ষয়:
Naস্তিকরা যৌনতার ব্যাপারে পশুর মতো দৃষ্টি লালন করে। ওদের কাছে নিজের পরিবারের মেয়ে থেকে শুরু করে বাহিরের সকল মেয়েকে ভোগের বস্তু মনে হয়। নারী Naস্তিকরা মনে করে যার-তার সাথে বিছানায় যাওয়াটা জীবনকে উপভোগ করা। কারণ, জীবন ছোটো। ওদের আকাঙ্খা হচ্ছে পথে-ঘাটে, মাঠে-ঘাটে, পার্কে, ট্রেন-মেট্রো-বাসে পশুর মতো কাম নিবারন করা। তাই ইসলাম এদের কাছে বিষের মতো লাগে।
(৯) পশ্চিমা দেশে শরনার্থী:
দুই টাকা উপার্জন করার যোগ্যতা নেই। পরিবারের সবচেয়ে অপদার্থ ধরণের ছেলেটা বা মেয়েটাই Naস্তিক হয়। গাঁজা খাওয়ার পয়সাও থাকে না। সহজ রাস্তা হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা, রাসূল সা. ও ইসলামকে গালাগালি করে ইউরোপে শরনার্থীর হওয়া। এক কথায় এরা ভিক্ষুক।
(১০) কর্পোরেট দালালী:
মানুষ Naস্তিক হলে তাকে দিয়ে সহজেই পাপ করানো যায়। পাপ করতে উপকরণ লাগে। এসব উপকরণ নাস্তিকদের কাছে বিক্রি করা যায়। যার ভেতরে স্রষ্টার ভয় আছে সে মদ কিনবে না, পতিতালয়ে যাবে না, গান-বাজনা-সিনেমা দেখবে না, জুয়া খেলবে না, সুদ খাবে না।
যাহোক।
মূর্খদের ধারণা ইসলাম মসজিদ-মাদরাসা ভিত্তিক একটা সংস্কৃতি বা প্রথা—যা নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। মূর্খরা আরো বলে, ইসলাম আরবদের সংস্কৃতি। অথচ দেখা যায় জন্মগতভাবে আরবরা ইসলামের বিরুদ্ধে কাজ করছে। গাজি রাকায়েতের প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করে, মানুষের ঈমান বংশপরম্পরায় পাওয়া যায় না। ইমান কোনো জাতির সাংস্কৃতিক চর্চা না। এটা আত্মার মুক্তি। মহান সত্ত্বার সাথে অন্তরের সংযোগ হয়। কী এক অলৌকিক শক্তি গোটা অস্তিত্বকেই বদলে দেয়। যে বদলায় এর অনুভূতিটা কেবল সে-ই টের পায়।
