খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও হরমুজের ঐতিহাসিক দ্বন্দ্বযুদ্ধ
ইরাক বিজয়ের প্রাথমিক পর্যায়ে মুসলিম বাহিনীর সঙ্গে পারস্য বাহিনীর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় “যাতুস-সালাসিল” (শৃঙ্খল যুদ্ধ)-এ, হিজরি ১২ সালে (৬৩৩ খ্রিস্টাব্দ)। সে সময়ের যুদ্ধ প্রথা অনুযায়ী, দুই পক্ষের প্রধান সেনাপতিরা প্রথমে একক দ্বন্দ্বযুদ্ধে অবতীর্ণ হতেন।
মুসলিম বাহিনীর পক্ষ থেকে বের হয়ে আসেন খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু), আর পারস্য বাহিনীর পক্ষ থেকে এগিয়ে আসে তাদের সেনাপতি হরমুজ।
দুই সেনাপতি একে অপরের নিকটে আসেন, এমনকি তারা মুসলিম সারির তুলনায় পারস্য বাহিনীর কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছে যান। এরপর হরমুজ তার ঘোড়া থেকে নেমে খালিদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-কে ইশারা করে বলে—যদি তুমি প্রকৃত বীর হও, তবে নেমে মাটিতে যুদ্ধ করো।
চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে খালিদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-ও ঘোড়া থেকে নেমে পড়েন। উভয়েই নিজেদের ঘোড়া নিজ নিজ বাহিনীর দিকে ফিরিয়ে দেন।
দুই বাহিনী তখন উত্তেজনায় দৃশ্যটি পর্যবেক্ষণ করছিল:
দুই পক্ষের সর্বোচ্চ সেনাপতির সরাসরি দ্বন্দ্ব—যা ইতিহাসে খুবই বিরল ঘটনা। যুদ্ধটি হচ্ছিল পায়ে হেঁটে, যার মানে ছিল—বেঁচে ফেরা কঠিন এবং একজনের মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত।
কিন্তু হরমুজ আগে থেকেই একটি প্রতারণার পরিকল্পনা করে রেখেছিল। সে তার পাঁচজন শক্তিশালী অশ্বারোহীকে প্রস্তুত রেখেছিল, যাতে দ্বন্দ্ব শুরু হওয়ার সাথে সাথেই তারা খালিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
যুদ্ধ শুরু হতেই, হরমুজ সংকেত দেয়—আর পাঁচজন অশ্বারোহী দ্রুত খালিদের দিকে ধেয়ে আসে, উদ্দেশ্য ছিল প্রতারণার মাধ্যমে তাকে হত্যা করা।
সেই মুহূর্তে খালিদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেন; মুসলিম সৈন্যরা তার থেকে দূরে, আর এই অশ্বারোহীরা দ্রুত পৌঁছে যাবে।
কিন্তু আল্লাহর সাহায্য নিকটেই ছিল।
আল-কা’কা’ ইবন উমার আত-তামীমী দূর থেকে ঘটনাটি লক্ষ্য করেন এবং সাথে সাথে বুঝতে পারেন এটি একটি বিশ্বাসঘাতকতা। তিনি তীরের মতো ছুটে যান যুদ্ধক্ষেত্রে। সঠিক সময়ে পৌঁছে তিনি প্রথম অশ্বারোহীকে হত্যা করেন, এরপর দ্রুত দ্বিতীয়জনকেও পরাস্ত করেন। এদিকে মুসলিম বাহিনীর আরও কয়েকজন যোদ্ধা এসে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি একাধিক দ্বন্দ্বযুদ্ধে রূপ নেয়।
অন্যদিকে, খালিদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) আবার হরমুজের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন। অসাধারণ দক্ষতা প্রদর্শন করে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি হরমুজকে হত্যা করেন।
তাদের সেনাপতির মৃত্যুতে পারস্য বাহিনী ভেঙে পড়ে; তারা আরবদেরকে তুচ্ছ ভাবত, কিন্তু এই ঘটনায় তারা ভীত ও বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। খালিদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) তাদের পুনরুদ্ধারের সুযোগ না দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে পূর্ণ আক্রমণের নির্দেশ দেন।
সেনাপতির মৃত্যু ও শৃঙ্খলার ভাঙনের কারণে পারস্য বাহিনী বেশি সময় টিকতে পারেনি। মুসলিম বাহিনী তাদের সারি ভেঙে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধে বিজয় অর্জন করে।
এই যুদ্ধের বিজয়ী ছিলেন ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাপতি:
“সাইফুল্লাহ আল-মাসলুল” — খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ (রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু)
সূত্র:
•ইমাম ত্বাবারী,তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক
•ইবনুল আসীর— আল-কামিল ফিত তারিখ
•ইবন কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া
আর নিয়ম অনুযায়ী বিজয়ীর নামেই কোনো কিছুর নামকরণ করা হয়। কিন্তু ইরানীরা,
* বিশ্বাসঘাতক
* আর্য রক্তের পূজারী
* কাফিরদের নিয়ে গর্বকারী
* মাজুসী জাতীয়তাবাদী –
* সাহাবী বিদ্বেষী।
* আরবদের প্রতি শত্রুতা পোষণকারী
তাই তারা খালিদ ইবনুল ওয়ালীদের নাম না দিয়ে প্রণালীর নামকরণ করে হরমুজ প্রণালী। এরা নির্লজ্জ, বেহায়া, বজ্জাত।
সুতরাং আসুন, আমরা আমাদের ইতিহাস স্মরণ করি, আমরা এ প্রণালীকে “খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ প্রণালী” হিসাবে আখ্যায়িত করি।
