সাস্টের ভিসি ফরিদ বিরোধী আন্দোলনে অংকিত ও প্রদর্শিত একটি আর্ট। এইখানে দেখা যাইতেছে ভিসি ফরিদরে ছাত্রছাত্রীরা দড়ি ধরে টেনে নামায়া ফেলতেছে৷ ফরিদের মাথায় টুপি, মুখভর্তি দাড়ি৷
বাট আয়রনি হইতেছে ভিসি ফরিদ একজন ক্লিনশেভড মানুষ। যাদের বিরুদ্ধে এই আব্দোলনের শুরু, সেই প্রভোস্টও দাড়ি-টুপিওয়ালা লোক না, ক্লিনশেভড আদমি। তবুও এইটারে ‘ভুল’ হিসেবে আমরা ধরে নিতে পারতাম, যদি মূল সিনেমায় ‘হীরক রাজা’ একজন দাড়িওয়ালা লোক হইতেন৷ পরিতাপের বিষয় হইতেছে, সত্যজিতের হীরক রাজাও ক্লিনশেভড লোক। তার মুখে দাড়ি নাই। তাহলে এই হঠাৎ করে দাড়িওয়ালা ভিলেন কই থেইকা উদয় হইলো? কে উনি? তার প্রতিকৃতি কেন?
আমি মনে করি না, ছাত্রছাত্রীদের এই ভুল ইচ্ছাকৃত কিংবা দাড়ি-টুপির প্রতি বিদ্বেষপ্রসূত। বরঞ্চ আমি মনে করি, এইটা তাদের সাবকনশাস মাইন্ডে আমাদের সমস্ত ভিলেন চরিত্রই যে দাড়ি-টুপিওয়ালা লোকেরাই হয়, এই যেই কাল্পনিক চিত্র তার চোখের সামনে চিত্র তৈরি করে রাখছে যুগের পর পর, তারই রিফ্লেকশন। ফলে আমাদের ভিলেন মাত্রই দাড়ি-টুপিওয়ালা মোল্লা। তা সে যতবড় স্যুটেড ব্যুটেড সেক্যুলার মাস্তানই হোক না কেন।
ঠিক এই জায়গায় জাফর ইকবাল জিতে গেছেন, গর্তের ভিতরে এক জিন্দেগী কাটায়া দিয়াও। গর্তবাসী জাফর ইকবাল তার প্রায় সমস্ত লেখালেখিতে দাড়ি আর টুপি পরা যেই ভিলেনের চরিত্রগুলো আমাদের চোখে এঁকে রেখেছেন, তাতে আমাদের হীরক রাজা যদি আজন্ম মাকুন্দাও হোন, আমরা তার গ্রাফিতি দাড়ি-টুপি ছাড়া আর আঁকতে পারি না৷ দাড়ি-টুপির প্রতি জাফর ইকবালের এই ঘৃণা প্রকল্প সাস্টের আন্দোলনেও সাব-কনশাস মাইন্ড হইয়া ফিরে আসে৷
এই যে সাব-কনশাস মাইন্ডে দাড়ি, টুপি তথা ইসলামের যে কোন সিম্বলের প্রতি আমাদের ঘৃণা ও ক্রিমিনালাইজ করার বাসনা, এইটা যে এক ধরনের আত্মঘৃণা প্রকল্প তা কি আমরা টের পাই? নিজেকে, নিজের অস্তিত্বকে, নিজের পূর্বপুরুষকে আর জাতিসত্ত্বাকেই যে আমরা নিজের অজান্তেই ঘৃণা করি, তা কি আমরা জানি?
জাফর ইকবালরা আমাদেরকে কখনোই ‘৭১ এর পিছনে যেতে দিবেন না৷ কারণ জাফর ইকবালরা জানেন, আমরা যত পিছনে যেতে থাকবো, তত এইসব মিডিয়া পোর্ট্রেইট করা সো-কল্ড সেক্যুলার হিরোরা বিস্মৃত হতে থাকবেন৷ সেখানে আস্তে আস্তে জায়গা দখল করে নিতে থাকবেন দাড়ি-টুপিওয়ালা সৈয়দ মীর নিসার আলী তিতুমীর, ফকির মজনু শাহ, হাজী শরীয়তউল্লাহরা।
শুভ জন্মদিন, সৈয়দ মীর নিসার আলী তিতুমীর। আপনাদেরে ভুলে যাওয়া মানে নিজেরেই নিজে ভুলে যাওয়া, ঘৃণা করা। জাফর ইকবালদের ইসলাম, দাড়ি আর টুপির প্রতি এই ঘৃণা প্রকল্প পরাজিত হবে তারই ঘৃণাজীবিতা পড়ে পড়ে বড় হওয়া প্রজন্মের হাতেই। আমি এইটা ভীষণভাবে বিশ্বাস করি৷
