Friday, May 29, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরঅর্থ পাচারে ৭ ব্যাংক ও ২ মানিচেঞ্জার জড়িত

অর্থ পাচারে ৭ ব্যাংক ও ২ মানিচেঞ্জার জড়িত

প্রবাসী শ্রমিকদের কাছে থাকা বৈদেশিক মুদ্রা অবৈধভাবে সংগ্রহ করে মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করার তথ্য মিলেছে। ব্যাংকে বসেই তারা অবৈধভাবে বিদেশি মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় ও মানিলন্ডারিং করছে। আর এ কাজের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তারা জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল অনেক দিন ধরেই। গত সোমবার শাহজালাল বিমানবন্দরে অভিযান চালায় দুদকের একটি টিম। তাদের এই অভিযানে সত্যতা মিলেছে মানিলন্ডারিং-এ জড়িত সাত ব্যাংকের কর্মকর্তা ও দুই মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান।

দুদকের ওই অভিযানে উঠে আসে, প্রবাসীদের নগদ ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকিং চ্যানেলে রাষ্ট্রীয় রিজার্ভে জমা হওয়ার কথা। কিন্তু অসাধু ব্যাংকারগণ ব্যাংকের  ব্যাংকিং চ্যানেলে সংগৃহীত না দেখিয়ে নিজেরাই ক্রয়পূর্বক মার্কেটে বিক্রয় করে দেন। যা পরবর্তীতে মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে আবার বিদেশে পাচার হয়ে যায়। গত সোমবার দুদকের উপ-পরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিমের অভিযানে এমন তথ্য উঠে এসেছে।  অভিযানে বিদেশি মুদ্রার কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের একটি সংগঠিত চক্রের সন্ধান পেয়েছে দুদক। 
এ বিষয়ে দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, দুদকের অভিযানে বিমানবন্দরে অবৈধভাবে বিদেশি মুদ্রায় ক্রয়-বিক্রয় ও মানিলন্ডারিংয়ে জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, যমুনা ব্যাংকসহ কর্মকর্তারা জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। এ ছাড়া কিছু মানি এক্সচেঞ্জার প্রতিষ্ঠান, যথা- এভিয়া মানি এক্সচেঞ্জার ও ইমপেরিয়াল মানি এক্সচেঞ্জার জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপনএ বিষয়ে কমিশন আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, অনিয়মে জড়িত বিভিন্ন ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তা ও কিছু মানি এক্সচেঞ্জারের কারণে প্রতিদিন শত কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা থেকে ব্যাংকিং খাত বঞ্চিত হচ্ছে। সন্দেহভাজন ও জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তারা দুদকের নজরদারিতে রয়েছেন। তাদের মদতদাতা ও সহযোগীদের বিষয়েও কমিশনের নির্দেশে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। 

যেভাবে জড়িত: প্রতিদিন হাজার হাজার প্রবাসী কর্মজীবী ও বিদেশ হতে বাংলাদেশে ভ্রমণকারীগণ বিমানবন্দর হয়ে বাংলাদেশে আসেন। তারা তাদের সঙ্গে আনীত বিদেশি মুদ্রা বিমানবন্দরে থাকা ব্যাংকের বুথ ও মানি এক্সচেঞ্জারে দেশীয় মুদ্রা/বাংলাদেশি টাকায় এনক্যাশমেন্ট করে থাকে। আইন, বিধি ও নিয়ম অনুযায়ী ফরেন কারেন্সি এনক্যাশমেন্ট ভাউচার এনক্যাশমেন্টকারীকে দিতে হয়। কিন্তু ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জারগণ তাদেরকে ভাউচার না দিয়ে বা জাল ভাউচার দিয়ে সরাসরি ফরেন কারেন্সি গ্রহণ করে তার বিনিময়ে টাকা দিয়ে দেয়। এ ছাড়াও তারা স্বাক্ষরবিহীন, ভুয়া ভাউচার/এনক্যাশমেন্ট স্লিপ প্রদান করেন। এই বিদেশি মুদ্রার ক্রয়কারী ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের মূল হিসাবে/প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত অ্যাকাউন্টে অন্তর্ভুক্ত করেন না। ফলে বিদেশি মুদ্রার কেন্দ্রীয় রিজার্ভে এ সকল বিদেশি মুদ্রা যুক্ত হয় না, যার ফলে বাংলাদেশ বিদেশি মুদ্রার ঘাটতি বা সংকটের সৃষ্টি হয়।

দুদকের অভিযানে বিমানবন্দরে অবৈধভাবে বিদেশি মুদ্রায় ক্রয় বিক্রয়ে ও মানিলন্ডারিংয়ে জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক। এ ছাড়া কিছু মানি এক্সচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানও এর সঙ্গে জড়িত। দুদকের এই অভিযানে এভিয়া মানি এক্সচেঞ্জার ও ইম্পেরিয়াল মানি এক্সচেঞ্জার জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। দুদকের প্রাপ্ত তথ্যমতে প্রতিদিন আনুমানিক ১শ’ কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা থেকে ব্যাংকিং খাত বঞ্চিত হচ্ছে। অপরাধে জড়িতরা অবৈধভাবে ক্রয়কৃত ডলার, ইউরো, রিয়াল, রিঙ্গিত, পাউন্ড, দিনার ও অন্যান্য ফরেন কারেন্সি সংগ্রহপূর্বক বিদেশি মুদ্রা পাচারকারী, বিদেশি মুদ্রার কালোবাজারি ও বাংলাদেশ হতে বিদেশে মানিলন্ডারিং এর মাধ্যমে অর্থপাচারকারী দুর্নীতিবাজদের অবৈধভাবে সরবরাহ করার তথ্য মিলেছে। দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম এনক্যাশমেন্ট স্লিপ ব্যতীত ফরেন কারেন্সি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্য প্রমাণ, একাধিক ভুয়া ভাউচার ও স্বাক্ষরবিহীন ভাউচার সংগ্রহ করেছে। এ ছাড়া অবৈধভাবে ফরেন কারেন্সি ক্রয়-বিক্রয়, পাচার ও কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 × 4 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য