ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্তা নিয়ে গত সপ্তাহে এক সংক্ষিপ্ত সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন ভারতের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার অজিত দোভাল। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর ভাষ্যমতে, এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ ইস্যুতেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠনের পর এটিই ছিল ভারত সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এবং মন্ত্রী পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তার প্রথম বাংলাদেশ সফর। গত মাসে নতুন সরকার গঠনের পর বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে নরেন্দ্র মোদিই প্রথম প্রধানমন্ত্রীকে টেলিফোনে শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়েছিলেন।
অজিত দোভালের অঘোষিত ও সংক্ষিপ্ত এ সফরের বিষয়বস্তু সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি বাংলাদেশ বা ভারত সরকার। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশী কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন অজিত দোভাল। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার আলোচনায় মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতির বর্তমান ক্রমাবনতির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, বাংলাদেশী নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে অজিত দোভালের আলোচনায় আঞ্চলিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটে সন্ত্রাস দমন, বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের নিরাপত্তা ও দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা অংশীদারত্বসহ কৌশলগত নানা বিষয় উঠে এসেছে।
সংবাদমাধ্যমটির ভাষ্যমতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে চালকের আসনে রয়েছেন অজিত দোভাল। ভারতের নিরাপত্তা কাঠামোয় তার এ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতাকে উপমহাদেশের মধ্যে নিজ নিরাপত্তার জন্য অত্যাবশ্যক হিসেবে দেখছে ভারত। গোটা বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়টিকে অজিত দোভাল এখন গুরুত্বের সঙ্গেই দেখভাল করছেন। আর বাংলাদেশও ভারতকে ভূবেষ্টিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
