ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি)-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার।
সোমবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই ঘোষণা দেন।
কর্মকর্তারা জানান, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দলটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হলো।
নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে আইআরজিসি-কে কেউ সাহায্য করলে পুলিশ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে।
আইআরজিসি ইরান সরকারের প্রধান অংশ। তাই একে নিষিদ্ধ করা নিয়ে যুক্তরাজ্যে অনেক দিন ধরে বিতর্ক ছিল। এই সিদ্ধান্তের ফলে লন্ডন ও তেহরানের সম্পর্ক আরো খারাপ হতে পারে।
আইআরজিসি-র পাশাপাশি আরো দুটি দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর একটি হলো ‘আইএমসিআর’। যুক্তরাজ্যে ইহুদিদের ওপর হামলার জন্য এরা দায়ী। অন্যটি হলো রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘জিআরইউ ভলান্টিয়ার কর্পস’।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘আমরা ইরান ও রাশিয়ার এজেন্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি। নতুন আইনের ফলে ব্রিটেনে বসে যারা অপরাধ করবে, তাদের সহজে জেলে পাঠানো যাবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘যারা আমাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি, ব্রিটেনে তাদের জায়গা নেই। আমরা আপনাদের খুঁজে বের করবই।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, ‘ইরান ও রাশিয়া আমাদের দেশে অপরাধ করতে ভাড়াটে লোক ব্যবহার করছে। আমরা দ্রুত তিনটি দলকে নিষিদ্ধ করেছি, যেন অপরাধীদের জেলে পোরা যায়।’
২০২৩ সালে কূটনৈতিক সমস্যার কথা ভেবে যুক্তরাজ্য আইআরজিসি-কে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেনি। তখন শুধু কিছু নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। কারণ, দলটিকে নিষিদ্ধ করলে ইরান থেকে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে বের করে দেওয়া হতে পারতো। এতে যোগাযোগের পথ বন্ধ হয়ে যেত।
কিন্তু মন্ত্রীরা জানান, সম্প্রতি ব্রিটেনের ওপর কিছু হুমকি এসেছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে দুজন ইরানি সাংবাদিককে হত্যার ষড়যন্ত্র এবং ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় সাইবার হামলা অন্যতম। তাই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
এই তিন দলকে সাহায্য করা বা তাদের থেকে সুবিধা নেওয়া এখন অপরাধ। এদের হয়ে কেউ গুপ্তচরবৃত্তি বা নাশকতা করলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবে।
ইহুদি ও ইসরাইলি সংস্থায় হামলার কারণে আইএমসিআর-কে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত ২৩ মার্চ লন্ডনে চারটি অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দেওয়া সহ সাতটি হামলার দায় স্বীকার করেছে এই দল।
নিরাপত্তা মন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা ঈগল বলেন, ‘এই দলের পেছনে ছিল ইরানের আল-কুদস ফোর্স। তারাই ইউরোপে এসব হামলা চালিয়েছে।’
রাশিয়ার জিআরইউ নিষিদ্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, এরা যুক্তরাজ্যে নানা অপরাধ করছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালের সালিসবারি বিষাক্ত রাসায়নিক হামলা এবং ইউক্রেন যুদ্ধের স্বেচ্ছাসেবকদের দিয়ে করানো নাশকতা অন্যতম।
মন্ত্রী আরো বলেন, এই দলগুলো দেশের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক। তাই যুক্তরাজ্যের স্বার্থেই এদের নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
