১.
আমেরিকার জনগণ আমেরিকাকে অনেক ভাল-উদার ও নৈতিক রাষ্ট্র মনে করে। কিন্তু এই নিকৃষ্ট দেশটি তার অর্থনৈতিক শক্তি তৈরিই করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর (সাথে ইরান, ভেনেজুয়েলা, কিউবা) উপর অর্থনৈতিক দমনপীড়ন করে। এই কথাগুলো শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক John Mearsheimer-এর, আমার না। তিনি The Lancet-এর একটি গবেষণার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে গবেষকদল দেখিয়েছেন: ১৯৭১-২০২১ এই ৫০ বছরে ১৫২ দেশের উপর আমেরিকা স্যাংশন (অর্থনৈতিক অবরোধ) দিয়েছে, এবং এইসব দেশে মৃত্যুহার বেড়ে গেছে। আমেরিকার একক স্যাংশনের ফলে এই সময়কালে প্রতিবছর ৫,৬৪,২৫৮ জন করে মারা গেছে। প্রফেসর মিয়ারশেইমারের মতে, এই রিসার্চের ভিত্তিতে আমেরিকাকে গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা যায়, ৩৮ মিলিয়ন মানুষ হত্যা, প্রায় ৪ কোটি মানুষ।
২.
আজ পর্যন্ত আমেরিকা ৮৯ বার ভেটো দিয়েছে, যার ৫১ বারই ইসরাইলকে বাঁচাতে। ১৯৮২-১৯৯০ সালের মধ্যে ইসরাইলের পক্ষে ২১ বার ভেটো দিয়েছে। একটু দেখি কী কী ইস্যুতে আমেরিকা ভেটো দিয়েছে: [পাবেন আপনাদের আপকামিং ‘ফিলিস্তিন’ বইতে]
৩.
ফ্রান্সের থেকে লুইজিয়ানা রাজ্য কিনে নেবার পর— আজ দখলদার ইসরাইল যেভাবে ফিলিস্তিনিদের জমিজমা-ঘরবাড়ি কেড়ে নিয়েছে, হুবহু এভাবেই আমেরিকান দখলদারেরা কেড়ে নিতে থাকে আদিবাসীদের জমিজমা। ১৭৭৬-১৮৮৭ সালের ভিতর ১৫০ কোটি একর (১.৫ বিলিয়ন !!!) জমি কেড়ে নেয় সেটেলাররা। কল্পনা করেন, পৃথিবীর ⅛ ভাগ জমি !!! আইন করে, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মাধ্যমে, দাদন চুক্তি করে, হুমকি-ধামকি দিয়ে লক্ষ লক্ষ নেটিভ আদিবাসীকে ভিটেমাটি থেকে উৎখাত মিসিসিপি নদীর পশ্চিমে সরে যেতে বাধ্য করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় নিরুদ্দেশ সফরে নিহত হয় হাজারে হাজারে। শত শত গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয় রীতিমত আর্মি নামিয়ে।
৪.
সকল আন্তর্জাতিক আইনের উদ্যোক্তা, সকল আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্যোক্তা আমেরিকা নিজেই ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের স্বাক্ষরকারী না’(!) আদালত প্রতিষ্ঠায় (Rome Statute) সবচেয়ে সক্রিয় ছিল আমেরিকাই, কিন্তু নিজেই সই করেনি।
June 2018, the US withdrew from the UN Human Rights Council, accusing it of having a “chronic bias” against Israel.
১৯৫১-১৯৮৬ পর্যন্ত জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার পরিষদ চার্টার সই করেনি আমেরিকা।
৫.
সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের নামে ৬০ লক্ষ মুসলিমের প্রাণ নেওয়া আমেরিকার গুণগান কীভাবে একজন মুসলমান করতে পারে? রাজনীতির নামে আজ শত্রুর প্রশংসা করাও আমাদের কাছে কিছুই না। এই নিফাকের রাজনীতি কীভাবে ইসলামী রাজনীতি হয়? ঈমান খেয়ে ফেলা এই জিওপলিটিক্সের নাম কী হতে পারে?
