Friday, April 17, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়াআল্লাহ তাআলার গুণাবলি উল্লেখের সময় ইশারা করার বিধান

আল্লাহ তাআলার গুণাবলি উল্লেখের সময় ইশারা করার বিধান

আল্লাহ তাআলার গুণাবলি উল্লেখের সময় ইশারা করার বিধান (প্রথম পর্ব)
.
মানব জীবনে সবচেয়ে গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, তাওহীদ। তাওহীদ ইহকালীন ও পরকালীন সফলতা-ব্যর্থতার একমাত্র সোপান। শরয়ী দলীল পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করলে আমরা অবগত হই, তাওহীদ তিন প্রকার: ক. তাওহীদুর রুবূবিয়্যাহ, খ. তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ, গ. তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত।
.
বস্তুত জ্ঞানের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের উপজীব্য হচ্ছে, সেই জ্ঞানের আলোচ্য বিষয়, বিষয়বস্তু ও তৎসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য। যেহেতু তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাতের আলোচ্য বিষয় ও বিষয়বস্তু আল্লাহ তাআলাকে ঘিরে আবর্তিত, তাই আমরা উচ্চকণ্ঠে বলতে পারি, তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাতের জ্ঞান সর্বাধিক মহত্তর ও সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞান। তাই এ বিষয়ে স্ফটিকের ন্যায় স্বচ্ছ ও পরিষ্কার জ্ঞান রাখা আমাদের জন্য আবশ্যক।
.
তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাতের ক্ষেত্রে আহলুস ‍সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের স্বীকৃত মূলনীতি হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ দলীল নির্ভর। আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে আমাদের সীমা হচ্ছে, কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ। কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ যেখানে থেমে গেছে, আমাদেরকেও সেখানে স্থাণুর মতো থেমে যেতে হবে।
.
সহীহ সুন্নাহয় বচন, ক্রিয়া ও সম্মতির মাধ্যমে আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সাব্যস্ত করা হয়। ইমাম মুহাম্মাদ ইবন সালিহ আল-উসাইমীন রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
ووصف رسول الله صلى الله عليه وسلم لربه ينقسم إلى ثلاثة أقسام : إما بالقول أو بالفعل أو بالإقرار.
রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনভাবে আল্লাহর গুণাবলির বর্ণনা দিয়েছেন—হয় বচনের মাধ্যমে, নাহয় কর্মের মাধ্যমে আর নাহয় স্বীকৃতির মাধ্যমে। (শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ, ১/৮৩)
.
তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত একটি অতি স্পর্শকাতর বিষয়। মুসলিম উম্মাহর মাঝে যত অনৈক্য, বিরোধ, মতদ্বৈত ও অবনিবনা—বস্তুত তার সিংহভাগ তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত কেন্দ্রিক। তবে আনন্দ ও হর্ষের বিষয় হচ্ছে, আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহ যে পথের পথিক তা অতি মসৃণ; ভজকট ও ঝঞাট মুক্ত। তবে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, অধুনা কিছু ব্যক্তি “কর্মের মাধ্যমে প্রমাণিত আল্লাহর নাম ও গুণাবলি” নিয়ে ভুল ও বিভ্রমের শিকার হয়েছেন। তাদের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে আরেক শ্রেণি দ্বিধা, বিমূঢ় ও দোদুল্যমানতার মাঝে দিনাতিপাত করছেন। বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে আমরা সালাফদের বুঝের আলোকে এ বিষয়ে সঠিক অবস্থান তুলে ধরার প্রয়াস পাবো, ইন-শা-আল্লাহ।
.
উদাহরণ, ইশারা-ইঙ্গিত ইত্যাদি ‍কর্মের মাধ্যমে অনেক সময় রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর গুণাবলি তুলে ধরেছেন। কর্মের মাধ্যমে আল্লাহর গুণাবলি সাব্যস্ত সংক্রান্ত বেশ কিছু সহীহ হাদীস আমরা বিভিন্ন গ্রন্থে পাই। নিম্নে আমরা সেসব হাদীস উল্লেখ করবো এবং সালাফগণ সেসব হাদীস কীভাবে বুঝেছেন ও কী ব্যাখ্যা করেছেন—তাও তুলে ধরবো।
.
 ওপরের দিকে ইশারা :
১ম হাদীস: জাবির রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
وَأَنْتُمْ سَتُسْأَلُونَ عَنِّي، فَمَا أَنْتُمْ قَائِلُونَ ؟ ” قَالُوا: نَشْهَدُ أَنَّكَ قَدْ بَلَّغْتَ وَأَدَّيْتَ وَنَصَحْتَ، فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِإِصْبَعِهِ السَّبَّابَةِ يَرْفَعُهَا إِلَى السَّمَاءِ وَيَنْكُبُهَا إِلَى الْأَرْضِ: ” اللهُمَّ اشْهَدْ اللهُمَّ اشْهَدْ اللهُمَّ اشْهَدْ “
‘অচিরেই আমার ব্যাপারে তোমাদের থেকে জানতে চাওয়া হবে। সেসময় তোমরা আমার সম্পর্কে কী বলবে?’ সাহাবীগণ বললেন, ‘আমরা সাক্ষ্য দেব যে, আপনি আপনার দায়িত্ব পৌঁছিয়ে দিয়েছেন, তা পরিপূর্ণভাবে আদায় করেছেন এবং কল্যাণের পথ প্রদর্শন করেছেন।’ রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বৃদ্ধাঙুলি আকাশের দিকে উঠিয়ে তারপর জমিনের দিকে নামিয়ে বললেন, ‘হে আল্লাহ, তুমি সাক্ষী থেকো। হে আল্লাহ, তুমি সাক্ষী থেকো। হে আল্লাহ, তুমি সাক্ষী থেকো।’ (সহীহ মুসলিম, ১২১৮)
.
 সালাফদের ব্যাখ্যা:
কুরআন ও ‍সুন্নাহয় তাবীল উপযুক্ত কোনো আয়াত বা হাদীস নেই বরং সকল আয়াত ও হাদীস হাকীকী-মৌলিক অর্থ প্রদান করে—ইমাম ইবনুল কায়্যিম রাহিমাহুল্লাহ এ দাবি অনেক দলীল-আদিল্লার মাধ্যমে বলিষ্ঠভাবে প্রমাণ করেন এবং বিরুদ্ধবাদীদের এ সংক্রান্ত বিভিন্ন সংশয়-আপত্তির ব্যবচ্ছেদ করেন। সেই আলোচনায় তিনি হাদীসে বর্ণিত ‘ওপরে ইশারা করার’ নিমিত্ত সম্পর্কে বলেন,
ومن هذا إشارته بأصبعه إلى السماء حين استشهد ربه تبارك وتعالى على الصحابة أنه قد بلغهم تحقيقا لإثبات صفة العلو وأن الرب الذي استشهده فوق العالم مستو على عرشه
তিনি তাঁর দায়িত্ব পৌঁছিয়ে দেওয়া নিয়ে সাহাবীদের স্বীকারোক্তির ব্যাপারে আল্লাহকে সাক্ষী রাখার সময় আসমান পানে আঙুল ইশারার নিমিত্ত হচ্ছে, রবের ওপরে অবস্থান করা গুণকে নিশ্চিত করা এবং যে রবকে তিনি সাক্ষী রাখলেন, নিখিলচরাচরের ঊর্ধ্বে তাঁর আরশে ওঠাকে দ্ব্যর্থহীনভাবে সাব্যস্ত করা। (আস-সাওয়াইকুল মুরসালাহ, ১/৩৯৭)
.
 চোখ ও কানের দিকে ইশারা :
২য় হাদীস: আবূ ইউনুস সুলাইম ইবন জুবাইর বলেন,
سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقْرَأُ هَذِهِ الآيَةَ (إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا) إِلَى قَوْلِهِ تَعَالَى (سَمِيعًا بَصِيرًا) قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَضَعُ إِبْهَامَهُ عَلَى أُذُنِهِ وَالَّتِى تَلِيهَا عَلَى عَيْنِهِ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ. رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَقْرَؤُهَا وَيَضَعُ إِصْبَعَيْهِ
আমি আবূ হুরাইরাহ রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু-কে ‘আল্লাহ তোমাদের আদেশ দিয়েছেন তোমরা অধিকারীর নিকট আমানত আদায় করে দাও… তিনি সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা’—এ আয়াত পাঠ করতে শুনি। পাঠ করার পর আবূ হুরাইরাহ রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ আয়াত পাঠ করা অবস্থায় তাঁর বৃদ্ধাঙুলি স্বীয় কানে আর তর্জনী আঙুলি স্বীয় চোখে স্থাপন করতে দেখেছি।’ (সুনানু আবী দাউদ, ৪৭৩০)
.
৩য় হাদীস: দাজ্জাল ও আল্লাহ তাআলার চোখের বৈচিত্র্য উল্লেখ করার সময় রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
إِنَّ اللهَ لَيْسَ بِأَعْوَرَ وَأَشَارَ بِيَدِهِ إِلَى عَيْنِهِ
নিশ্চয় আল্লাহ কানা নন। এরপর তিনি তাঁর হাত স্বীয় চোখের দিকে ইশারা করেন। (সহীহুল বুখারী, ৭৪০৭)
.
 সালাফদের ব্যাখ্যা:
২য় হাদীসের একজন রাবী হচ্ছেন, আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযিদ আল-মুকরী। তিনি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চোখ ও কানের ওপর আঙুল স্থাপন করার ব্যাখ্যা এভাবে করেন,
يَعْنِى أَنَّ لِلَّهِ سَمْعًا وَبَصَرًا.
অর্থাৎ নিঃসন্দেহে আল্লাহর শ্রবণ ও দর্শন রয়েছে। (সুনানু আবী দাউদ, ৪৭৩০ নং হাদীস দ্রষ্টব্য)
.
আল-মুকরী প্রমাণ করতে চেয়েছেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আঙুল স্থাপন করা দ্বারা সাব্যস্ত করেছেন যে, হাকীকী-বাস্তবেই আল্লাহ শোনেন এবং দেখেন; তাঁর শোনা বা দেখা রূপক অর্থে নয়।
.
২য় হাদীস উল্লেখ করে ইমাম আবূ দাউদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
وَهَذَا رَدٌّ عَلَى الْجَهْمِيَّةِ.
এ হাদীস জাহমিয়্যাদের ব্যবচ্ছেদ করে। (সুনানু আবী দাউদ, ৪৭৩০ নং হাদীস দ্রষ্টব্য) অর্থাৎ জাহমিয়্যারা যারা আল্লাহর নাম ও গুণাবলিকে হাকীকী-মৌলিক ও বাস্তবিক অর্থে গ্রহণ করে না, বিভিন্ন ব্যাখ্যা ও তাবীলকে অবলম্বন বানিয়ে অস্বীকার করে—রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চোখে ও কানে আঙুল রাখার মাধ্যমে তাদের যাবতীয় সংশয়-সন্দেহ ভঞ্জন করে দেন এবং ঘোষণা করেন, আমরা যেমন আমাদের বাস্তব চোখ দিয়ে দেখি, আল্লাহ তাআলাও তাঁর বাস্তব চোখ দিয়ে দেখেন, আমরা যেমন আমাদের কান দিয়ে শুনি, আল্লাহও তাঁর শ্রবণ-গুণ দিয়ে শোনেন; আমরা যেমন আমদের চোখের ও কানের কোনো তাবীল করি না, ঠিক আল্লাহর চোখের ও শ্রবণের কোনো তাবীল করা যাবে না। এভাবে তিনি চোখ বা অন্যান্য গুণাবলির তাবীলের যাবতীয় অবলম্বন ও রাস্তা বন্ধ করে দেন।
.
ইমাম বায়হাকী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
وَالْمُرَادُ بِالْإِشَارَةِ الْمَرْوِيَّةِ فِي هَذَا الْخَبَرِ تَحْقِيقُ الْوَصْفِ لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ بِالسَّمْعِ وَالْبَصَرِ , فَأَشَارَ إِلَى مَحَلَّيِ السَّمْعِ وَالْبَصَرِ مِنَّا لِإِثْبَاتِ صِفَةِ السَّمْعِ وَالْبَصَرِ لِلَّهِ تَعَالَى , كَمَا يُقَالُ : قَبَضَ فُلَانٌ عَلَى مَالِ فُلَانٍ , وَيُشَارُ بِالْيَدِ عَلَى مَعْنَى أَنَّهُ حَازَ مَالَهَ , وَأَفَادَ هَذَا الْخَبَرُ أَنَّهُ سَمِيعٌ بَصِيرٌ ، لَهُ سَمْعٌ وَبَصَرٌ لَا عَلَى مَعْنَى أَنَّهُ عَلِيمٌ , إِذْ لَوْ كَانَ بِمَعْنَى الْعِلْمَ لَأَشَارَ فِي تَحْقِيقِهِ إِلَى الْقَلْبِ ؛ لِأَنَّهُ مَحَلُّ الْعُلُومِ مِنَّا , وَلَيْسَ فِي الْخَبَرِ إِثْبَاتُ الْجَارِحَةِ ، تَعَالَى اللَّهُ عَنْ شَبَهِ الْمَخْلُوقِينَ عُلُوًا كَبِيرًا “
বর্ণিত এই হাদীসে ইশারা করা দ্বারা উদ্দেশ্য, আল্লাহর শ্রবণ ও দর্শন গুণকে নিশ্চিত করা। আল্লাহর শ্রবণ ও দর্শন গুণদ্বয় প্রমাণ করার নিমিত্তে তিনি আমাদের (মাখলূকের) শ্রবণ ও দর্শন-স্থানের দিকে ইশারা করেছেন। যেমন, ‘অমুক অমুকের মাল হস্তগত করেছে’ বলার পর হাত দ্বারা ইশারা করা হয় এ কথা প্রমাণের জন্য যে, সে তার মাল লাভ গ্রহণ করেছে। অতএব, এই হাদীস প্রমাণ করে, তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা। তিনি শ্রবণ ও দর্শন করেন। শ্রবণ ও দর্শন দ্বারা সর্বজ্ঞানী উদ্দেশ্য নয়। শ্রবণ ও দর্শন দ্বারা জ্ঞান উদ্দেশ্য হলে তিনি তা নিশ্চিত করতে অন্তরের দিকে ইশারা করতেন। কেননা, মাখলূকের জ্ঞানের স্থান অন্তর। তবে এ হাদীসে আল্লাহর অঙ্গ সাব্যস্ত করা হয়নি। আল্লাহ তাআলা মাখলূকের সাদৃশ্য থেকে সর্বোর্ধ্বে। (আল-আসমা ওয়াস সিফাত, ১/৪৬২)
.
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
ووضع إبهامه على أذنه وسبابته على عينه ولا ريب أن مقصوده بذلك تحقيق الصفة لا تمثيل الخالق بالمخلوق فلو كان السمع والبصر العلم لم يصح ذلك
রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিজ কানের ওপর বৃদ্ধাঙুলি আর চোখের ওপর তর্জনি আঙুলি স্থাপন করার সন্দেহাতীত উদ্দেশ্য হচ্ছে, গুণকে নিশ্চিতকরণ; সৃষ্টির সাথে স্রষ্টার উপমাদান উদ্দেশ্য নয়। শ্রবণ ও দর্শন দ্বারা জ্ঞান উদ্দেশ্য হলে, এভাবে আঙুল স্থাপন যথার্থ হতো না। (আল-আকীদাতুল আসফাহানিয়্যাহ, ১০৩)
.
ইমাম ইবনুল কায়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
كما قرأ : ( وكان الله سميعا بصيرا ) ووضع يديه على عينيه وأذنيه ؛ تحقيقا لصفة السمع والبصر ، وأنهما حقيقة لا مجازا “
অনুরূপভাবে ‘আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা’ আয়াত পড়ার সময় রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’হাত তাঁর দু’কানে ও দু’চোখে স্থাপন করেন শ্রবণ ও দর্শন গুণদ্বয়কে নিশ্চিত করার জন্য এবং এ কথা প্রমাণ করার জন্য যে, এই দু’গুণ হাকীকী-বাস্তব; মাজাযী-রূপক নয়। (মুখতাসার আস-সাওয়াইকুল মুরসালাহ, ৩৯১)
.
ইমাম ইবন হিব্বান রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
أَرَادَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِوَضْعِهِ أُصْبُعَهُ عَلَى أُذُنِهِ وَعَيْنِهِ تَعْرِيفَ النَّاسِ أَنَّ اللَّهَ جَلَّ وَعَلَا لَا يسمع بالأذن التي لَهَا سِمَاخٌ وَالْتِوَاءٌ وَلَا يُبْصِرُ بِالْعَيْنِ الَّتِي لَهَا أَشْفَارٌ وَحَدَقٌ وَبَيَاضٌ جَلَّ رَبُّنَا وَتَعَالَى عَنْ أَنْ يُشَبَّهَ بِخَلْقِهِ فِي شَيْءٍ مِنَ الْأَشْيَاءِ بَلْ يَسْمَعُ وَيُبْصِرُ بِلَا آلَةٍ كَيْفَ يشاء.
নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিজের দু’চোখ ও দু’কানের ওপর স্বীয় আঙ্গুল স্থাপন করার উদ্দেশ্য হলো, লোকদের একথা জানানো যে, আল্লাহ তাআলা এমন কান দ্বারা শোনেন না, যা ফুটা ও বাঁকা; এমন চোখ দ্বারা দেখেন না যা পাতলা, ঘেরা ও সাদাটে। আমাদের রব সে সমস্ত বিষয়ের ঊর্ধ্বে যা দ্বারা সৃষ্টির কোনো কিছুর সাথে তাঁর সাদৃশ্য দেওয়া সম্ভব। বস্তুত তিনি কোনো উপকরণ ছাড়াই যেভাবে ইচ্ছা শোনেন ও দেখেন। (সহীহ ইবন হিব্বান, ২৬৫ নং দ্রষ্টব্য)
.
শাইখ মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম আলুশ শাইখ রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
ولما نزلت هذة الآية جعل إصبعه في أذنيه بيانا منه أنه سمع حقيقة وبصر حقيقة.
এ আয়াত অবতীর্ণ হলে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় দু’চোখের ওপর আঙুল স্থাপন করেন স্পষ্টভাবে একথা জানিয়ে দেওয়ার জন্য যে, আল্লাহ তাআলা হাকীকী-বাস্তব অর্থে শোনেন এবং হাকীকী-বাস্তব অর্থে দেখেন। (শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ, ৪৭)
.
শাইখ আব্দুল আযীয আন-নাসির আর-রাশিদ বলেন,
وعمل النبي صلى الله عليه وسلم هذا دليل على إثبات هاتين الصفتين وأنهما غير العلم، وإلا الإشارة إلى صدره، ووضعه إبهامه تحقيقا لصفة السمع والبصر وأنهما حقيقة لا مجازا خلافا لأهل البدع.
রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এমন কর্ম প্রমাণ করে, শ্রবণ ও দর্শন এই দুই গুণ সুসাব্যস্ত; শ্রবণ ও দর্শন দ্বারা জ্ঞান উদ্দেশ্য নয়। অন্যথা তিনি বুকের দিকে ইশারা করতেন। আর তিনি আঙুল স্থাপন করেন শ্রবণ ও দর্শন গুণদ্বয় নিশ্চিত করার জন্য এবং বিদআতীদের বিপরীতে একথা সাব্যস্ত করার জন্য যে, উভয় গুণ হাকীকী-বাস্তব অর্থে; রূপক অর্থে নয়। (আত-তামবীহুতুস সানিয়্যাহ, ৬৪)
.
শাইখ মুহাম্মাদ খলীল আল-হাররাস রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
وَمَعْنَى الْحَدِيثِ أَنَّهُ سُبْحَانَهُ يَسْمَعُ بِسَمْعٍ ، وَيَرَى بِعَيْنٍ ، فَهُوَ حُجَّةٌ عَلَى بَعْضِ الْأَشَاعِرَةِ الَّذِينَ يَجْعَلُونَ سَمْعَهُ عِلْمَهُ بِالْمَسْمُوعَاتِ ، وَبَصَرَهُ عِلْمَهُ بِالْمُبْصَرَاتِ ، وَهُوَ تَفْسِيرٌ خَاطِئٌ ؛ فَإِنَّ الْأَعْمَى يَعْلَمُ بِوُجُودِ السَّمَاءِ وَلَا يَرَاهَا ، وَالْأَصَمَّ يَعْلَمُ بِوُجُودِ الْأَصْوَاتِ وَلَا يَسْمَعُهَا .
এ হাদীসের অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা শ্রবণের মাধ্যমে শোনেন এবং চোখের মাধ্যমে দেখেন। এ হাদীস সেসব আশআরীদের বিরুদ্ধে দলীল, যারা আল্লাহর শ্রবণ দ্বারা বোঝায় শ্রুত জিনিসের জ্ঞান আর দর্শন দ্বারা বোঝায় দর্শিত জিনিসের জ্ঞান। এটি একটি ভুল ব্যাখ্যা। কেননা, অন্ধ আসমানের অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত থাকলেও দেখতে পায় না আর বধির আওয়াজের অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত থাকলেও শুনতে পায় না। (শারহুল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ, ৯৩)
.
শাইখ আবদুল্লাহ গুনাইমান বলেন,
ولهذا صار هذا الحديث من الأدلة الواضحة على إثبات تثنية العين لله -تعالى-، ويزيد ذلك وضوحاً إشارته -صلى الله عليه وسلم- إلى عينه لتحقيق الوصف، يعني أن لله عينين سالمتين من كل عيب كاملتين، بخلاف الدجال الفاقد لإحدى عينيه.
আল্লাহ দুই চোখ সাব্যস্ত করার পক্ষে এ হাদীসটি অতি জাজ্বল্য প্রমাণ। এ জাজ্বল্যতা এভাবে আরও শাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর এ গুণকে নিশ্চিতকরনার্থে স্বীয় চোখের দিকে ইশারা করেন। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার সবধরনের ত্রুটি মুক্ত পরিপূর্ণ দুটি চোখ রয়েছে। এর বিপরীতে দাজ্জালের দুচোখের একচোখ নষ্ট। (শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী, ১/২৪৩)
.
 দু’হাত দ্বারা ইশারা করা এবং মুষ্টিবদ্ধ করা ও মুষ্টিখুলে দেওয়া:
৪র্থ হাদীস: কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা আসমান ও জমিনকে গুটিয়ে নেবেন—তার বর্ণনা দিতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
يأخذ الله عز وجل سماواته وأرضيه بيديه فيقول أنا الله ويقبض أصابعه ويبسطها أنا الملك حتى نظرت إلى المنبر يتحرك من أسفل شيء منه حتى إني لأقول أساقط هو برسول الله صلى الله عليه وسلم
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আসমানসমূহ ও জমিন তাঁর দু’হাতে তুলে ধরবেন এবং বলবেন, ‘আমি-ই আল্লাহ, আমি-ই বাদশা’; সেই সময় তিনি তার আঙুল সংকোচন ও সম্প্রসারণ করেন। আবদুল্লাহ ইবন উমার বলেন, ওই সময় আমি মেম্বারের দিকে তাকালে দেখলাম, মেম্বারের নিম্বাংশের কিছু দুলছে। এমনকি আমার আশঙ্কা হলো, মেম্বারটি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে উল্টে যাবে। (সহীহ মুসলিম, ৬৯৪৫)

.
মুসনাদ আহমাদে হাদীসটি এভাবে বর্ণিত হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবন উমার বলেন,
وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ هَكَذَا بِيَدِهِ ، وَيُحَرِّكُهَا ، يُقْبِلُ بِهَا وَيُدْبِرُ : يُمَجِّدُ الرَّبُّ نَفْسَهُ : أَنَا الْجَبَّارُ ، أَنَا الْمُتَكَبِّرُ ، أَنَا الْمَلِكُ ، أَنَا الْعَزِيزُ ، أَنَا الْكَرِيمُ
সেই সময় রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে তাঁর হাত নাড়িয়ে ও সামনে-পেছনে নিয়ে বলছিলেন, ‘রব নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ও বড়োত্ব জাহির করে বলবেন, আমি-ই প্রতাপশালী, আমি-ই মহামহিম, আমি-ই বাদশাহ, আমি-ই পরাক্রমশালী, আমি-ই শ্রেষ্ঠ।’ (মুসনাদ আহমাদ, ৫৪১৪)
.
 সালাফদের ব্যাখ্যা:
উপর্যুক্ত দুই হাদীস থেকে তিনটি ইশারা প্রমাণ হয়:
ক. আঙুল সংকোচন করা, খ. আঙুল সম্প্রসারণ করা, গ. হাত নাড়ানো।
.
ইমাম ইবনুল কায়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
وقوله : ( يقبض الله سماواته بيده والأرض باليد الأخرى ثم يهزهن ثم يقول : أنا الملك ) فهنا هز وقبض وذكر يدين ، ولما أخبرهم رسول الله صلى الله عليه وسلم جعل يقبض يديه ويبسطها تحقيقا للصفة لا تشبيها لها
‘আল্লাহ আসমান-সমূহকে তাঁর এক হাতে আর জমিনকে অন্য হাতে ধরবেন তারপর ঝাঁকুনি দিয়ে বলবেন, আমিই মালিক।’—এ হাদীসে আল্লাহর ঝাঁকুনি প্রদান, ধরা এবং দুই হাত প্রমাণ হয়। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীদেরকে তা বলার সময় দুই হাত বন্ধ করছিলেন এবং সম্প্রসারণ করছিলেন আল্লাহর সিফাতকে নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে; সাদৃশ্যপ্রদানের উদ্দেশ্যে নয়। (মুখতাসার আস-সাওয়াইকুল মুরসালাহ, ৩৯১)
.
শাইখ আবদুল্লাহ গুনাইমান বলেন,
وهذا الذي فعله رسول الله – صلى الله عليه وسلم – لا يدع مجالاً للشك في أن المراد من هذه النصوص هو ما دلت عليه ظاهراً، وأن تأويلها وصرفها عن ظاهرها باطل قطعاً، وتحريف للكلم عن مواضعه… ومعلوم أن بيان ما أنزل الله إلى عباده واجب على رسول الله – صلى الله عليه وسلم -، وقد فعل بقوله، وفعله، كما كان يقبض يديه ويبسطهما عندما ذكر قبض الله – تعالى – لسماواته وأرضه بيديه، تقريراً منه – صلى الله عليه وسلم – لظاهر النص، وتأكيداً لما يفهمه كل مخاطب عربي يسمع هذا الكلام، ولو كان من أبلد الناس.
রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এমন কর্ম অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, এধরনের দলীল-সমূহের উদ্দেশ্য তাই, যা বাহ্যিকভাবে প্রমাণ করে। এসব দলীলের তাবীল করা, বাহ্যিক অর্থ পরিবর্তন করে ফেলা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য ও বাতিল এবং রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য বিকৃত করার শামিল।… জ্ঞাত বিষয় যে, আল্লাহ তাআলা বান্দাদের জন্য যা কিছু অবতীর্ণ করেছেন তা প্রচার করা ও জানিয়ে দেওয়া রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অত্যাবশ্যকীয় দায়িত্ব। তিনি সেই দায়িত্ব বচন ও কর্মের মাধ্যমে পালন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় ‘আল্লাহ তাআলা আসমান-সমূহ ও জমিন কব্জায় নেবেন’—একথা বলার সময় তিনি তাঁর দুই হাত সংকোচন ও সম্প্রসারণ করেন দলীলের বাহ্যিক অর্থ সাব্যস্ত করার জন্য এবং একথা শোনার পর সাধারণত আরবীভাষী ব্যক্তি যা বোঝে, তা নিশ্চিত করার জন্য; যদিও সে ব্যক্তি সর্বাধিক স্থূলবুদ্ধির অধিকারী হয়। (শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী, ২/১৮৩)
.
(প্রবন্ধটি অনেক আগেই লিখা। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি কেন্দ্রিক পোস্ট করা হয়নি। তাই কেউ অযথা টানাহেঁচড়া করবেন না। পুরো প্রবন্ধটি শাইখ আবুবকর জাকারিয়া হাফিযাহুল্লাহকে দেখানো হয়েছিল এবং তিনি ঠিক আছে বলেছিলেন। এছাড়া তিনি এ প্রবন্ধ লিখতে অনেক তথ্য-উপাত্ত দিয়েছিলেন। জাযাহুল্লাহ খাইরাল জাযা)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 × five =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য