Friday, April 17, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeযুগ জিজ্ঞাসামদের বুদে° জীর্ণ মুকুট।

মদের বুদে° জীর্ণ মুকুট।

সম্প্রতি মদের উপকারিতা বিবেচনা করে মদের বৈধতা দেয়ার প্রসঙ্গে ইতিহাস ঘেটে একটু আলোচনা করা যাক। মদপানে আমরা কতভাবে উপকৃত হয়েছি, তার সংক্ষিপ্ত আলোচনা, আমরা যেহেতু মোঘল সাম্রাজ্যের খণ্ডাংশ; চলুন ঘুরে আসি মোঘল থেকে বাংলা।

মোঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা “জহিরউদ্দীন মুহাম্মদ বাবর” ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে ইব্রাহীম লোদী’কে পানিপথের যুদ্ধে পরাজিত করার মাধ্যমে, ভারতবর্ষে সর্বপ্রথম মোঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তার শাসন কাল “১ এপ্রিল ১৫২৬ থেকে ২৬ ডিসেম্বর ১৫৩০ পর্যন্ত, শাসন আমলের এই ৪ বছর ৮ মাস ২৫ দিন বীরত্বের সাথে রাজ্য পরিচালনা করে গেছেন।

বাবর বিয়োগান্তে বাবরের পুত্র নাছির উদ্দীন মুহাম্মদ হুমায়ূন রাজ সিংহাসনে আরোহন করেন, হুমায়ূন ছিল অলস প্রকৃতির এবং নারী ও মদে আসক্ত, তার এই আসক্তির দরুন, সাম্রাজ্যের অবস্থা বেশ নাজুক হয়ে পড়ে। অত:পর চৌসার যুদ্ধে “শের খাঁ” কাছে পরাজিত হয়ে হুমায়ূন পারস্যে পলায়ন করে, এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে পালিয়ে বেড়িয়েছেন। মোঘল সাম্রাজ্যে ‘শের খাঁ’ আদিষ্ট হওয়ার পর, শের খাঁ’ জীবিত থাকা পর্যন্ত কেউ তাকে পরাজিত করতে পারেনি, শের খাঁ’ এর মৃত্যুর পর; ১৫৫৫ সালে হুমায়ুন যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে ভারতে তার সাম্রাজ্যঃ পুনরুদ্ধার করেন। কিন্তু এর কিছুদিন পরই তিনি একটি মারাত্মক দুর্ঘটনায় মারা যান। তার শাসনকাল; ২৬ ডিসেম্বর ১৫৩০ থেকে ১৭ মে ১৫৪০ পর্যন্ত, মোট সময় ৯ বছর ৪ মাস ২১ দিন, তারপর মুকুটহীন পরাজিত সৈনিক পালিয়ে বেরিয়েছেন প্রায় ১৫ বছর। ক্ষমতা পুনরুদ্ধার ২২ ফেব্রুয়ারি ১৫৫৫ থেকে স্থায়িত্বকাল ২৭ জানুয়ারী ১৫৫৬। অত:পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

নোটঃ বোধশক্তি লোপের এই মদের বুদে° রাজ্য হারিয়ে; হুমায়ূন মরুপ্রান্তে পালিয়ে বেরিয়েছেন, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ১৫ টি বছর।

সম্রাট হুমায়ূন ব্যার্থতার গ্লানি মুছে, হারানো রাজ্য পুনরুদ্ধারের অনন্দ মূহুর্তে আকষ্মিক সম্রাটের মৃত্যুতে; রাজ্য ক্ষমতায় আদিষ্ট হন, সম্রাট হুমায়ুনের শিশুপুত্র জালাল উদ্দীন মোহাম্মদ ‘আকবর’, বৈরাম খান নামে একজন উজিরের তত্বাবধানে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন। আকবর ছিলেন প্রখর বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন, অন্যদিকে আকবরের ছিল প্রচুর নারী লিপ্সা, ভারতবর্ষে প্রভাব বিস্তার আরও শক্তিশালী করার জন্য, আকবর বিয়ে করেন; আম্বরের হিন্দু রাজা বূরমলের কন্যা যোধাবাঈকে, এই বৈবাহিক ধারায় রাজসভায় যায়গা করে নেন ৪৩জন হিন্দু রাজপুত। রাজসভায় শিয়া সুন্নি পারসিক, উজবেক, তুর্কি, আফগান, রাজপুত এর মিশ্র উপস্থিতিতে; তিনি হিন্দু এবং ইসলাম ধর্মের মিশ্র একটি ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন; এবং দ্বীন-ই-ইলাহী নাম একটি নতুন ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন, যা ছিল ইতিহাসের জঘন্যতম অধ্যায়। আকবর যখন ক্ষমতায় বসেন তখন ইংল্যান্ড জুড়ে চলছিল প্লেগ রোগের মহামারী, এই মহামারীতে ইংল্যান্ড ছিল দ্রারিদ্র‍্যসীমার নিচে, খাদ্য সংকটে ইংল্যাণ্ডের জনপদ জুড়ে চুরি ডাকাতি খুন ছিনতাই রাহাজানি, এই সংকটাপন্ন অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য John Dee এর পরামর্শে রানি এলিজাবেথ’ বণিক “রালফ ফিচ” কে ইংল্যান্ডের দুত হিসেবে ভারতে প্রেরণ করেন, রালফ ফিচ প্রচুর উপঢৌকন সহ ইংলিশ মদ নিয়ে আকবর দরবারে হাজির হন, নারী লিপ্সু আকবর নতুন করে ইংলিশ বদে বুদ° হয়ে পরেন, রাজ্যজুড়ে ইংলিশ মদের সেকি সুনাম! মদের বুদে হয়ে কিছু দিনের মধ্যে সম্রাট তার দুই পুত্র মুরাদ এবং দানিয়েল কে হারান, আর তৃতীয় পুত্র সেলিম(সম্রাট জাহাঙ্গীর) মদ, গাজা, আফিমে নেশাগ্রস্ত হয়ে প্রায় সময় অসুস্থ থাকতেন, এমনকি হাত কাপুনির জন্য পানির গ্লাস পর্যন্ত ধরতে পারতেন না। মদে বুদ° হয়ে রাজ্যের প্রতি বেখবর হয়ে; সে সময় জাতীয় সম্পদের এক চতুর্থাংশের মালিক ছিল মাত্র ৬৫৫ টি পরিবার। যখন ভারতের ১২০ মিলিয়ন জনসংখ্যা একটি বড় অংশ দারিদ্র্যে নিমজ্জিত ছিল। অন্যদিকে দীর্ঘদিন যাবত বেচে থাকা, সেলিম সহ্য করতে না পেরে, গোপনে বিষ প্রয়োগে পিতা আকবর’কে হত্যার চেষ্টা করে ব্যার্থ হন, এরপর রাজ্য ক্ষমতা নিয়ে পুত্র খসরুর সাথে পিতা সেলিমের দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে যায়, সম্রাট আকবর জীবিত অবস্থায় সিংহাসন নিয়ে পরিবারের সংঘাত আকবরের মন ভেঙে দেয়, তাই সম্রাজ্য’কে সংঘাত থেকে রক্ষা করতে আকবর পুত্র সেলিম(জাহাঙ্গীর) কে উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন। এর কয়েকঘন্টা পর ১৬০৫ সালের ২৭ অক্টোবর মৃত্যু বরণ করেন। তার রাজত্যকাল; ২৭ জানুয়ারি ১৫৫৬ থেকে ২৭ অক্টোবর ১৬০৫ পর্যন্ত, তিনি দীর্ঘ ৪৯ বছর ৯ মাস রাজ্য পরিচালনা করেন।

আকবরের উত্তরাধিকার সূত্রে পুত্র নূর উদ্দীন মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর ক্ষমতার মনসদে আহরণ, নেশায় বুদ° হয়ে থাকা সম্রাট জাহাঙ্গীর রাজ্য পরিচালনায় ছিলেন উদাসীন থেকেও সাম্রাজ্যকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে ১৬০৬ সালে জাহাঙ্গীর পুত্র খসরু বিদ্রোহ করে বসে, জাহাঙ্গীর পুত্রের বিদ্রোহ পরাস্ত করে এবং পরবর্তীতে চোখের পাতা সেলাই করে অন্ধ করে দেন। মদের বুদে আসক্ত সম্রাট সাম্রাজ্যের কতৃত্ব নূরজাহানের হাতে তুলে দেন, বিনিময়ে চেয়েছিল বোতলবর্তী মদ আর অর্ধ কেজি গোস্ত। নূরজাহানের কয়েকটি জাহাজ বহিঃবাণিজ্যে আমদানী ও রপ্তানীর কাজে ব্যবহৃত হতো, পর্তুগীজদের সাথে তার যৌথ বাণিজ্য ছিল, ১৬১৩ সালে পর্তুগীজরা তাঁর কয়েকটা জাহাজ লুট করে বসে। তাঁর দু’বছর পর ১৬১৫ সালে ইংরেজদের দূত হয়ে টমাস রো ভারতবর্ষে আসেন। পর্তুগীজদের সাথে বিরোধের কারণে, ইংরেজদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন। ভাই আসফ খাঁকে আদেশ দিলেন, ইংরেজদের বাণিজ্য দ্রব্যগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যেন ভালো ব্যবস্থা গ্রহণ করে। যার মাশুল পরবর্তীদের দিতে হয়েছিল। ১৬১৭ সালে ইংরেজদের বাণিজ্যিক সুবিধা দেয়ার বিষয়ে নূরজাহানের সাথে খুররমের ঝামেলা বাধে এবং খুররমের রাজনৈতিক প্রভাব দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে, সিংহাসনের জন্য খুররম তাঁর সৎ ভাই খসরুকে হত্যা করে, অপর ভাই পারভেজ ১৬২৬ সালে মদ্যপানে মৃত্য বরণ করেন। খুররমের পতিদ্বন্দ্বীতা এখন অপর সৎ ভাই শাহরিয়ারের সাথে, নূরজাহান ক্ষমতায় বসাতে চাইছিল শাহরিয়ারকে। স্ত্রী, সন্তানরা যখন সিংহাসন নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, এমতাবস্তায় ১৬২৭ সালের ২৮ অক্টোবর সম্রাট জাহাঙ্গীর মৃত্য বরণ করেন। তার রাজত্যকাল; ১৫ অক্টোবর ১৬০৫ থেকে ৮ অক্টোবর ১৬২৫ পর্যন্ত, তিনি দীর্ঘ ২১ বছর ১১ মাস ৩ দিন রাজ্য পরিচালনা করেন। 
জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর নূরজাহান সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের পরামর্শের জন্য ডাকেন। এবং জামাতা শাহরিয়ারকে সম্রাট ঘোষণা করার কথা ভাবতে থাকেন। নূরজাহানের ভাই খুররমের(শাহজাহান) শ্বশুর আসফ খাঁ তাঁর এই দূরভিসন্ধি টের পেয়ে তাকে বন্দি করেন। অতঃপর শাহজাহান সিংহাসনে আহোরণ করেন।

ক্ষমতার মনসদে সম্রাট সাহাব উদ্দীন মুহাম্মদ শাহজাহান। শাহজাহানের আমলে মুঘল স্থাপত্য এর স্বর্ণযুগে প্রবেশ করে। তিনি অনেক স্মৃতিসৌধ, মাসজিদ, দুর্গ নির্মাণ করেন যার মধ্যে রয়েছে আগ্রার তাজমহল, মোতি মসজিদ, লালকেল্লা, দিল্লি জামে মসজিদ। মুঘলরা অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও বিলাসী জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তাজমহল সেসময়কার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। সে সময় সরকারের ব্যয়, আয় এর চাইতে অনেক বেশি ছিল। ১৬৩১ সালে চৌদ্দতম সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মমতাজের মৃত্যু হয়, মমতাজের আকষ্মিক মৃত্যুতে শাহজাহান মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পরে, স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি সাত দিন সাত রাত কিছুই খাননি। ঘর থেকেও বের হননি। এতে তার চুলের রঙ ধূসর এবং মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যায়, যেন তিনি ৬০ বছরের বৃদ্ধ! এরপর মমতাজের সামাধিস্থলে ১৬৩২-১৬৫২ সাল পর্যন্ত সময়ে বিশ হাজার নারী-পুরুষের বিশ বছরের শ্রমে তাজমহল নির্মিত হয়। ১৬৬৪ সালে অসাবধানতা বশতঃ মমতাজ কন্যা জাহানারার শরীরে আগুন লেগে পুড়ে যায়। মেয়ের সুস্থতায় ডাক্তার কবিরাজ ফকির কিছুই বাদ রাখেনি, শেষে এলেন ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ডাক্তার সার্জেন জ্যাবাইল বাউটন, বাউটনের চিকিৎসায় জাহানারা আরোগ্য লাভ করলে সম্রাট তাকে পুরস্কৃত করতে চাইলেন। বাউটন নিজের জন্য কিছুই চাইলেন না, শুধু তাদের কোম্পানির ফ্যাক্টরী নির্মাণের জন্য কিছু জায়গা চাইলেন। যে ইংরেজদের বাণিজ্য সুবিধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সম্রাট একদিন সৎ মায়ের শত্রু হয়েছিলেন, আজ সেই ইংরেজদের সাথে আপস করতে বাধ্য হলেন। জাহানারা সুস্থ হতে না হতেই সিংহাসন নিয়ে পুত্রেরা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, ১৬৫৮ সালে শাহজাহানের জ্যেষ্ঠ পুত্র দারাশিকো রাজ শাসকের প্রতিনিধি হিসেবে ক্ষমতায় আরোহণ করে। শাহজাহানের অপর পুত্র আওরঙ্গজেব কিছু ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠীর সহায়তায় দিল্লির সিংহাসন দখল করেন। ১৬৫৯ সালে আওরঙ্গজেব তার ভাইকে যুদ্ধে পরাজিত করেন এবং মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। যদিও শাহজাহান তখন সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন, তথাপি আওরঙ্গজেব তাকে অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে রাজকার্য পরিচালনা করার অযোগ্য ঘোষণা করে তাকে গৃহবন্দী করে রাখেন। তার রাজত্যকাল; ৮ নভেম্বর ১৬২৭ থেকে ২ আগস্ট ১৬৫৮ পর্যন্ত, তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর ৮ মাস ২৫ দিন রাজ্য পরিচালনা করেন।

ক্ষমতার মনসদে “মহিউদ্দিন মুহাম্মদ আলমগীর”, অন্যনামে আরঙ্গজেব, আরঙ্গজেব মানে “সিংহাসনের শোভা” আরঙ্গজেব এর আমলে মুঘল সাম্রাজ্য রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত এবং শক্তিশাল। তিনি ছিলেন ধর্মনিষ্ঠ সুন্নি মুসলমান, বাল্যকাল থেকেই তিনি ছিলেন শুদ্ধাচারী এবং সদাচারী, কোন ঠাট-বাট তিনি পছন্দ করতেন না। ইসলামের নীতি-নির্দেশ ও বিধিনিষেধ তিনি আজীবন অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতেন। হারেমে নারীদের সঙ্গ অপেক্ষা সেনা শিবিরে সৈন্যদের সাথে সময় দেয়া বসবাস করা তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আরঙ্গজেব দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব অঞ্চলেই মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। আরঙ্গজেবের শেষ জীবন ছিল শোকে নিমজ্জিত,  তার জীবদ্দশাতেই সিংহাসন নিয়ে পুত্রদের মধ্যে কলহ কোন্দল কোন্দল শুরু হয়ে গিয়েছিল। সম্রাট বুঝতে পারলেন তার চোখ বুজা মাত্রই মারাত্মক সংঘর্ষ বেধে যাবে, তিনি এসব বুঝতে পেরে পৌত্রদের নিজের কাছ থেকে দূরে সাম্রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলেগুলোতে বিক্ষিপ্ত করে দেন। সেই সাথে তিনি একটি ওছিয়তনামা লিখে বিশাল সাম্রাজ্যকে মুয়াজ্জম, আজম ও কাম বখশের মাঝে বন্টন করে দেন। বন্টনের চারদিন পর তিনি জ্বরে আক্রান্ত হলেন, ১৭০৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রোজ শুক্রবার ফজরের নামাজ পড়ে তাজবি পড়া অবস্থায় সকাল ৮ টায় মৃত্যু বরণ করেন। তার রাজত্যকাল; ৩১ জুলাই ১৬৫৮ থেকে ৩ মার্চ ১৭০৭ পর্যন্ত, তিনি দীর্ঘ ৪৮ বছর ৬ মাস রাজ্য পরিচালনা করেন। “[আওরঙ্গজেব চেয়েছিলেন যেন তার মৃত্যুর খবরটি প্রকাশিত না হয়। কারণ তার সন্তানদের মধ্যে সিংহাসনের জন্য লড়াই অবশ্যম্ভাবী ছিল।]” কিন্তু ১৭০৭ সালে তার মৃত্যুর পর সাম্রাজ্যে বিদ্রোহ দেখা দেয়। আওরঙ্গজেবের পুত্র শাহ আলম তার পিতার ধর্মভিত্তিক রাজনীতি পরিহার করে প্রশাসনে একটি সংস্কার আনতে সচেষ্ট হন। ১৭১৯ সালে তার মৃত্যুর পর সমগ্র মুঘল সাম্রাজ্য এক বিশৃংখল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। পরপর চারজন সম্রাট সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন।

সম্রাট মোহাম্মদ শাহ এর শাসন আমলে মুঘল সাম্রাজ্যের ভাঙ্গন শুরু হয়। মধ্য ভারতের একটি বিরাট অংশ মুঘলদের হাতছাড়া হয়ে মারাঠাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ১৭৮৪ সালে মারাঠারা দিল্লীর সালতানাতের পরিরক্ষাকারি হিসাবে ঘোষিত হয়। দ্বিতীয় অ্যাংলো মারাঠা যুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত এই ব্যবস্থা বজায় থাকে। এরপরে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দিল্লির মুঘল বংশের পরিরক্ষাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়। তখন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রাক্তন মুঘল সাম্রাজ্যের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করতো। ১৮৫৭-৫৮ সালের সিপাহী বিপ্লব ব্যর্থ হলে, ব্রিটিশ সরকার শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহকে সিংহাসনচ্যুত করে এবং রেঙ্গুনে নির্বাসিত করে। সেই সাথে বিলুপ্ত হয় মুঘল সাম্রাজ্যের।

নোটঃ মদের বুদে° বুধ হারিয়ে মোঘল রাজপরিবার আজ রাস্তার ফকির হন্য হয়ে অন্যের খোঁজে, নেই তাদের আভিজাত্য নেই কোন সন্মান, দু-মুঠু ভাতেই এখন তাদের চাহিদার লক্ষ্যবস্তু।

ব্রিটিশ ভারত শাসন‎ বলতে ১৮৫৮ থেকে ১৯৪৭ সালের মধ্যবর্তী সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকে বোঝায়। বর্তমানে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান রাষ্ট্রে বিভক্ত এই সাম্রাজ্যের অন্তর্গত ছিল প্রত্যক্ষভাবে ব্রিটিশ-শাসিত প্রদেশ ও ব্রিটিশ রাজশক্তির করদ রাজ্যসমূহ। ১৮৫৮ সালে ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে ব্রিটিশ রাজশক্তির হাতে স্থানান্তরিত হয়। রাণী ভিক্টোরিয়া নিজ হস্তে ভারতের শাসনভার তুলে নেন। এর সঙ্গে সঙ্গে ভারতে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ ভারতীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৭৬ সালে ভিক্টোরিয়া ভারত সম্রাজ্ঞী উপাধি গ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারতীয় সাম্রাজ্য ভারতীয় অধিরাজ্য (পরবর্তীকালে ভারতীয় প্রজাতন্ত্র) ও পাকিস্তান অধিরাজ্য (পরবর্তীকালে পাকিস্তান) নামে দুটি অধিরাজ্যে বিভক্ত হলে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে।

নোটঃ নিজের তৈরী মদের ফাদে পান্তা-মরিচে বধ ব্রিটিশ বাহিনী পরাজয়ের মুকুট নিয়ে রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে বাচে।

১৯৪০ সালে লাহোর মুসলিম লীগ সম্মেলনে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ধর্মের ভিত্তিতে ভারতবর্ষে কয়েকটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব পেশ করেন। এই প্রস্তাব কে ‘লাহোর প্রস্তাব’ নামে অভিহিত করা হয়। যদিও পরে এই লাহোর প্রস্তাব পরে দ্বিজাতি তত্ত্বের সাথে এক করে জিন্নাহ পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব করে বসেন। জিন্নাহ ১৯৪৬ সালে পাকিস্তান ছাড়া আর কোনো রাষ্ট্র গঠন হবে না বলে জানিয়ে দেন। শেরে বাংলার উপস্থাপিত লাহোর প্রস্তাবের সাথে দ্বিজাতি তত্ত্বের মিল ঘটিয়ে পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করা হয়। ফল স্বরুপ ১৯৪৭ সালে পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের অংশ ও পশ্চিমবঙ্গ ভারতে অংশ করে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।

১৯৪৭ সালে যে দেশ গঠিত হয়েছিল, মাত্র ২৫ বছরের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, পাকিস্তান সরকার রাষ্ট্রের একমাত্র জাতীয় ভাষা হিসেবে উর্দুকে ঘোষণা করে, এর ফলে পূর্ব পাকিস্তানের বাংলা ভাষাভাষী জনগণের মধ্যে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। নতুন আইন প্রনয়ণের সঙ্গে সঙ্গে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং গণ বিরোধিতার সম্মুখীন হয়ে, সরকার সকল ধরনের গণ সমাবেশ ও প্রতিবাদ আন্দোলন বেআইনি ঘোষণা করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এবং অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মীরা এই আইন অমান্য করে এবং ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি তারিখে একটি বিরাট আন্দোলন সংগঠিত করে। ঐদিনে বহু ছাত্র বিক্ষোভকারীদের পুলিশ হত্যা করে এবং এই আন্দোলন তার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে।
পাকিস্তানি প্রভাব ও স্বৈর দৃষ্টিভঙ্গীর বিরূদ্ধে প্রথম পদক্ষেপ ছিল মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা। ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে এই দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের যুক্তফ্রন্ট নিবার্চনে বিজয় এবং ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পাকিস্তানের সামরিক প্রশাসক জেনারেল আইয়ুব খানকে পরাজিত করার লক্ষ্য নিয়ে সম্মিলিত বিরোধী দল বা ‘কপ’-প্রতিষ্ঠা ছিল পাকিস্তানি সামরিক শাসনের বিরূদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানি রাজনীতিবিদদের নেতৃত্বমূলক আন্দলোনের মাইলফলক। পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকারের প্রশ্ন ১৯৫০-এর মধ্যভাগ থেকে উচ্চারিত হতে থাকে।
১৯৬৮ সালের গোড়ার দিকে শেখ মুজিব ও অন্যান্য ৩৪ জন নেতার বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিবর্গ ভারতবর্ষের সহায়তায় পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করার পরিকল্পনা করছিল। যাইহোক এই বিচারের ফলে একটি গণ আন্দোলন সংগঠিত হয় এবং সকল বন্দীদের মুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। ১৯৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি কারাগারে একজন বিদ্রোহী, জহুরুল হককে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর ফলে আন্দোলন আরও বেগবান হয় এবং পরবর্তীতে ২২ ফেব্রুয়ারি সরকার মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। গণআন্দোলন পরবর্তীকালে ‘৬৯ এর গণ অভ্যুত্থানে রূপ লাভ করে।

১৯৬৯ সালের ২৫শে মার্চ আইয়ুব খান জেনারেল ইয়াহিয়া খান কে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। পরবর্তীকালে নতুন রাষ্ট্রপতি দেশের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থগিত করে দেন। যাইহোক কিছু সংখ্যক ছাত্র গোপনীয়তার সাথে আন্দোলন বজায় রাখে। সিরাজুল আলম খান এবং কাজী আরেফ আহমেদের নেতৃত্বাধীন ‘১৫ ফেব্রুয়ারি বাহিনী’ নামে একটি নতুন দল গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে, ইয়াহিয়া খান ১৯৭০ সালের ৫ই অক্টোবরের জন্য একটি নতুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন।পশ্চিমের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে সাফল্যজনক নেতৃত্ব পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগকে সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক দলে পরিণত করে। পূর্ব পাস্তিানের ইতিহাস মূলত: পশ্চিম পাকিস্তানিদ শাসকদের হাতে নিগ্রহ ও শোষণের ইতিহাস যার অন্য পিঠে ছিল ১৯৫৮ থেকে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সামরিক শাসন।

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পরবর্তীতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ৭ই মার্চ এর ভাষণে, পাকিস্তানি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে একটি আসন্ন যুদ্ধের জন্য পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে প্রস্তুত থাকার জন্য আহ্বান জানান। যদিও তিনি সরাসরি স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করেননি, কারণ তখনও আলোচনা চলছিল, তিনি তার শ্রোতাদেরকে কোনও এক সর্বাত্মক যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত থাকার জন্য আহ্বান জানান। শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণকে স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করা হয়, এবং এ ভাষণের বিখ্যাত উক্তি ছিল:

 _এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম।

২৬ মার্চের প্রথমার্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক সামরিক অভিযান শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয় এবং রাজনৈতিক নেতারা বহুবিভক্ত হয়ে যান। বাংলাদেশী আর্মি অফিসার মেজর জিয়াউর রহমান কালুরঘাট রেডিও স্টেশন দখল করেন এবং ২৭ মার্চ সন্ধ্যার দিকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন।

সামরিক উদ্দেশ্যে বাংলাদেশকে ১১ জন কমান্ডারের অধীনে ১১ টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। এই আঞ্চলিক বাহিনীগুলোর সাথে সাথে যুদ্ধের জন্য আরও তিনটি বিশেষ বাহিনী গঠন করা হয়ঃ জেড ফোর্স, এস ফোর্স এবং কে ফোর্স। এই তিনটি বাহিনীর নাম উক্ত বাহিনীর কমান্ডারদের নামের প্রথম অক্ষর থেকে উদ্ভূত হয়েছে। মেহেরপুর সরকার কর্তৃক প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ সহ বেশিরভাগ অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছিল। পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং বাংলার মুক্তি বাহিনী এর মধ্যে যুদ্ধের সময় আনুমানিক এক কোটি বাঙালী, প্রধানত হিন্দু, ভারতের আসাম, ত্রিপুরা এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে আশ্রয় নেয়।

১৯৭১ সালে মুক্তিবাহিনী ও পাকিস্তানের মধ্যে ব্যাপক বিধ্বংসী যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ.এ.কে. নিয়াজী এবং পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থিত পাকিস্তানি সেনাধ্যক্ষগণ ভারত ও বাংলাদেশের মিত্রবাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করে। আত্মসমর্পণকালে শুধুমাত্র কয়েকটি দেশ নতুন রাষ্ট্রকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি প্রদান করেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৯০ হাজারেরও বেশি পাকিস্তানি সৈন্য আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে রচিত হল স্বাধীন বাঙলা।

“প্রাথমিক সরকার ব্যবস্থা”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম সরকার। এই সরকার দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা জারি করে, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সংবিধান প্রণয়ন করে এবং মৌলিক নীতিমালা হিসাবে সমতা, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের নীতি প্রতিষ্ঠা করে। এর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ এবং সামরিক সর্বাধিনায়ক ছিলেন এম এ জি ওসমানী। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং মুহাম্মদ মনসুর আলী। নবনির্মিত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস এর সদস্যগণ এবং পাকিস্তানের সিভিল সার্ভিসের স্বপক্ষত্যাগী সদস্যদের সমন্বয়ে এই সরকার গঠিত হয়। এই সরকারে আবু সাঈদ চৌধুরী, হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী এবং রেহমান সোবহান এর নেতৃত্বে এটি একটি সুদক্ষ কূটনৈতিক সংগঠনও ছিল। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী এগারোটি সেক্টর কমান্ডারের মধ্যে বিভক্ত ছিল; যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন জিয়াউর রহমান, খালেদ মোশারফ,কে.এম. শফিউল্লাহ প্রমুখ।

সদ্যস্বাধীন বাংলার আকাশ জুড়ে যখন সুস্থীর বাতাস বইছিল, তখন “কবর” নাটকের বিশেষ চরিত্র ‘নেতা আর হাফিজ’রা ঐক্য গড়ে নিল, ঐক্যের বৈঠা বয়ে চলে যুগের পর যুগের অর্ধশতকে, আর মুর্দা’ফকিররা নেতা/হাফিজের হুইস্কির বুদে° ভূত সাজেঁ কল্পনার ভ্রমছায়ার বৈ কিছুই নয়। পরিবার পরিজন সহায় সম্পত্তি খুইয়্যে স্বাধীন বাংলার মানুষের ঠাই হয়; নেতা এবং হাফিজদের কবলে! জনগণের পেল মুর্দা’ফকিরের চরিত্র, গোরস্থান গার্ডের ছুটি হয়েছে লাশগুলো ঘুমিয়ে গেছে! মুর্দা’ফকিররা স্বপ্নের ঘুরে ভূত হয়ে কতকের ঘার মটকে দেয়ার স্বপ্ন আটে, তা হয়তো বাতাসে মিশ্রিত প্রতিটি দীর্ঘশ্বাসের জানা। আর্চায্ বিষয় হচ্ছে মুর্দা’ফকিররা কখনো জীবিত ছিল কি-না, তা আজও জানা যায়নি! কেননা মুর্দা’ফিকিররা নেতা ও হাফিজের জন্য বাচে এবং নেতা ও হাফিজের জন্যেই মরে! বোধহীন বৈষম্যে ভূত হয়ে; হুইস্কিতে আসক্ত নেতা ও হাফিজের পার্শ্ব চেয়ারে মুর্দা’ফকিররা দৃষ্টিভ্রম ছেড়ে যদি হুইস্কির বোতল মজে যায়। তবে তিব্র শীতে কুয়াশার ভীড়ে মুর্দা’ফকিরদের ভয়ে আর আতকে উঠতে হবে না। গোরস্থান গার্ডেরও আর ফেরা হবে না।

“রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,خَمْسٌ بِخَمْسٍ: مَا نَقَضَ قَوْمٌ الْعَهْدَ إِلاَّ سَلَّطَ اللهُ عَلَيْهِمْ عَدُوَّهُمْ وَمَا حَكَمُوْا بِغَيْرِ مَا أَنْزَلَ اللهُ إِلاَّ فَشَا فِيْهِمُ الْفَقْرُ وَمَا ظَهَرَتْ فِيْهِمُ الْفَاحِشَةُ إِلاَّ فَشَا فِيْهِمُ الْمَوْتُ (أَوْ إِلاَّ ظَهَرَ فِيْهِمُ الطَّاعُوْنُ) وَلاَ طَفَّفُوا الْمِكْيَالَ إِلاَّ مُنِعُوا النَّبَاتَ وَاُخِذُوْا بِالسِّنِيْنَ، وَلاَ مَنَعُوا الزَّكَاةَ إِلاَّ حُبِسَ عَنْهُمُ الْمَطَرَ،  ‘পাঁচটি বস্ত্ত পাঁচটি বস্ত্তর কারণে হয়ে থাকে। ১. কোন কওম চুক্তিভঙ্গ করলে আল্লাহ তাদের উপরে তাদের শত্রুকে বিজয়ী করে দেন। ২. কেউ আল্লাহর নাযিলকৃত বিধানের বহির্ভূত বিধান দিয়ে দেশ শাসন করলে তাদের মধ্যে দারিদ্র্য ছড়িয়ে পড়ে। ৩. কোন সম্পদ্রায়ের মধ্যে অশ্লীল কাজ বিস্তৃত হ’লে তাদের মধ্যে মৃত্যু অর্থাৎ মহামারি ছড়িয়ে পড়ে। ৪. কেউ মাপে বা ওযনে কম দিলে তাদের জন্য খাদ্যশস্যের উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং দুর্ভিক্ষ তাদের গ্রাস করে। ৫. কেউ যাকাত দেওয়া বন্ধ করলে তাদের থেকে বৃষ্টি বন্ধ করে দেওয়া হয়’।
[ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব হা/৭৬৫; ছহীহুল জামে‘ হা/৩২৪০।]

“আর তাদের অনেককেই আপনি দেখবেন পাপে, সীমালঙ্ঘনে ও অবৈধ খাওয়াতে তৎপর; তারা যা করে তা কতই না নিকৃষ্ট। “
[সূরা আল-মায়িদাহ; ৫/৬২]

“মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তা’আলা লা’নত করেন মদ্যপায়ীর প্রতি, মদ যে ব্যক্তি পান করায় তার প্রতি, তার বিক্রেতা ও ক্রেতার প্রতি, যে মদের নির্যাস বের করে তার প্রতি এবং যারা মদ্য বহন করে তাদের সবার প্রতি। [মুস্তাদরাকে হাকেমঃ ২/৩৭]

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদ সম্পর্কে কঠোর শাস্তির ভয় প্রদর্শন করেছেন। এরশাদ হয়েছেঃ ‘সর্বপ্রকার অপকর্ম এবং অশ্লীলতার জন্মদাতা হচ্ছে মদ’। [ইবন মাজাহ ৩৩৭১]

কারণ, এটি পান করে মানুষ নিকৃষ্টতর পাপে লিপ্ত হয়ে যেতে পারে। অপর এক হাদীসে বলা হয়েছে যে, ‘মদ এবং ঈমান একত্রিত হতে পারে না’। [নাসায়ীঃ ৮/৩১৭]

“আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদের সাথে সম্পর্ক রাখে এমন দশ শ্রেণীর ব্যক্তির উপর লা’নত করেছেন। ‘[১] যে লোক নির্যাস বের করে, [২] প্রস্তুতকারক, [৩] পানকারী, [৪] যে পান করায়, [৫] আমদানীকারক, [৬] যার জন্য আমদানী করা হয়, (৭) বিক্রেতা, (৮) ক্রেতা, (৯) সরবরাহকারী এবং (১০) এর লভ্যাংশ ভোগকারী। [ইবন মাজাহঃ ৩৩৮০]

_Ridu Riyad

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

nine + 12 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য