আহলে কুরআন কারা?

0
118

চতুর্মুখী ষড়যন্ত্রের শিকার আজ মুসলিম উম্মাহ। পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে চলছে গণহারে মুসলিম নিধন। একই কাতারে সারিবদ্ধ বাতিল পরাশক্তি। উম্মাহর এই ক্রান্তিলগ্নে পথভ্রষ্ট এক ফিতনাবাজ দল মুসলমানদের ঈমান হরণে লিপ্ত। কুরআন মানার কথা বলে মানুষকে সুন্নাহ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। নিজেদের আহলে কুরআন বলে পরিচয় দিলেও বাস্তবে এরা মুনকিরিনে হাদিস। সুন্দর নামের আড়ালে লুকিয়ে আছে হীন উদ্দেশ্য। হাদিসের ভাষায় আহলে কুরআনের পরিচয়। হজরত আনাস বিন মালিক রা: থেকে বর্ণিত- রাসূল সা: বলেছেন, ‘কতক লোক আল্লাহর পরিজন’। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বলেন, ‘কুরআন তিলাওয়াতকারীরা আল্লাহর পরিজন এবং তাঁর বিশেষ বান্দা। (ইবনে মাজাহ-২১৫) যারা হাদিস মানে না তারা মূলত কুরআনই মানে না। আর যারা কুরআন মানে না তারা আহলে কুরআন হয় কী করে?

আহলে কুরআনওয়ালারা সরাসরি হাদিস মানে না। অথচ কুরআনের একাধিক আয়াতে হাদিস মেনে চলা ও নবীজী সা:-এর আনুগত্যের নির্দেশ রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘তিনি মনগড়া কথা বলেন না। তা তো কেবল ওহি, যা তার কাছে পাঠানো হয়।’ (সূরা আন-নাজম : ৩-৪) অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘এবং তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করেছি মানুষকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য। যা তাদের প্রতি নাজিল করা হয়েছে, যাতে তারা চিন্তা ফিকির করে।’ (সূরা নাহল-৪৪) ওই আয়াতে নবী সা:-এর কাজ হলো মানুষকে কুরআন বুঝিয়ে দেয়া। আর নবী সা:-এর মুখনিঃসৃত বাণীই হচ্ছে হাদিস। যারা হাদিস মানে না তারা মূলত কুরআনই মানে না।

বস্তুত এসব ভ্রান্ত দলের আবির্ভাব প্রিয় নবী সা:-এর ভবিষ্যদ্বাণীরই সত্যায়ন। হাদিসের পাতায় যা স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ। হজরত মিকদাম বিন মাদিকারিব আল কিনদি রা: থেকে বর্ণিত- রাসূল সা: বলেন, ‘অচিরেই কোনো ব্যক্তি তার আসনে হেলান দেয়া অবস্থায় বসে থাকবে এবং তার সামনে আমার হাদিস থেকে বর্ণনা করা হবে, তখন সে বলবে, আমাদের ও তোমাদের মধ্যে মহামহিম আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট। আমরা তাতে যা হালাল পাবো তাকেই হালাল মানব এবং তাতে যা হারাম পাবো তাকেই হারাম মানব। মহানবী বলেন, সাবধান! নিশ্চয়ই রাসূল সা: যা হারাম করেছেন তা আল্লাহ যা হারাম করেছেন তার অনুরূপ।’ (ইবনে মাজাহ-১২)

আহলে কুরআন সম্পর্কে বিধান

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. বলেন, হাদিস অস্বীকারকারীদের ধ্বংস অনিবার্য। (শরহু উসুলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআতি, খণ্ড-তৃতীয়, পৃষ্ঠা-৪৭৮) শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন, যারা মনে করে যে, রাসূল সা:-এর আনুগত্য করা অপরিহার্য নয়, তারা কাফির। তাদের হত্যা করা অপরিহার্য।’ (আলওয়াসিয়াতুল কুবরা লি ইবনে তাইমিয়াহ, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৩১৫)

আহলে কুরআনের উৎপত্তি

হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষের দিকে এই ভ্রান্ত দলের আবির্ভাব ঘটে। যারা হাদিস অস্বীকার করতে শুরু করে এবং শুধু কুরআন মানার কথা বলে বেড়ায়। পরবর্তীতে ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মিসর, ইরাক ও ভারতবর্ষে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। ভারতে আহলে কুরআনের আবির্ভাব ঘটে ১৯০২ সালে আব্দুল্লাহ চড়কলাবির হাত ধরে। তার সহযোগী ছিল মুহিবুল হক আজিম আবাদি। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশেও এই ফিতনা পরিকল্পিত হচ্ছে। আলেম সমাজের দায়িত্ব হলো সাধারণ মানুষের সামনে তাদের আসল পরিচয় তুলে ধরা এবং সতর্ক করা। আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে চতুর্মুখী ষড়যন্ত্র থেকে হিফাজত করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষার্থী, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া আরাবিয়া মাখযানুল উলুম, ময়মনসিংহ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

four − one =