গাজীপুরের শ্রীপুরে বাবার গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে (১৫) অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার দুই দিন পার হলেও ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এখনো অপহরণকারীদের কাউকে আটক করা হয়নি। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

জানা গেছে, অপহৃত কিশোরী শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড গ্রামের প্রশিখা মোড় এলাকার বাসিন্দা হাদিউল ইসলামের মেয়ে। তিনি মাওনা বাজারের পাশে বায়তুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম খতিব।
অপহৃত কিশোরীর বাবা হাদিউল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, “বুধবার বিকেল ৩টায় স্থানীয় বখাটে আবিদ, তার সহযোগী সুমিত, তার বাবা, তার জেঠা বাচ্চু এবং ফুফা খলিল, সাইফুল, তার বাসার ভাড়াটিয়া উজ্জ্বলসহ আরও অনেকে এসে আমার মেয়েকে জোর করে নিয়ে যেতে চায়। তারা আমার বারান্দার গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। আমার স্ত্রী এবং আমার শ্বশুড় আমাকে ঘরের ভেতর নিয়ে যায়। তারা ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময়ে আমি প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে ফোন দেই।”
তিনি আরও বলেন, “অপহরণকারীরা তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করার পর আবিদ আমার মেয়ে এবং সুমিত আমার গলায় পিস্তল ঠেকায়। তারা জোর করে আমার মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। মেয়ের আত্মচিৎকারের পরও আমি মেয়েকে রক্ষা করতে পারিনি।”
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান শুক্রবার এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “গাজীপুরের শ্রীপুরে দিনদুপুরে একটি মসজিদের ইমামের মাদরাসা ছাত্রী মেয়েকে অপহরণ, পরিবারের সদস্যদের ওপর বর্বরোচিত হামলা এবং লুটপাটের ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। এ ঘটনা আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে। এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও মানবতাবিরোধী অপরাধ। দুঃখজনকভাবে ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করতে না পারা চরম উদ্বেগজনক।”
তিনি বলেন, “আমি অবিলম্বে অপহৃত মেয়েটিকে অক্ষত উদ্ধার, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। যাদের ছত্রছায়ায় এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে, সামাজিকভাবে এদেরকে বয়কট করতে হবে এবং দেশবাসীকে প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে। বিশেষভাবে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অপরাধীদের প্রশ্রয় দিয়ে কোনোভাবেই এ ধরনের বর্বরতা চলতে দেওয়া যায় না।”
