Monday, June 1, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআন্তর্জাতিকইরানে যুদ্ধ শুরু করার ক্ষমতা আপনাকে কে দিয়েছে? - আরব আমিরাতের ধনকুবের

ইরানে যুদ্ধ শুরু করার ক্ষমতা আপনাকে কে দিয়েছে? – আরব আমিরাতের ধনকুবের

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ধনকুবের খালাফ আল হাবতুর ট্রাম্পকে বলেন:

আমাদের অঞ্চলকে ইরানের সাথে যুদ্ধে টেনে নেওয়ার ক্ষমতা আপনাকে কে দিয়েছে? আর কোন ভিত্তিতে আপনি এই বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত নিলেন?

ট্রিগার টানার আগে কি আপনি সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ক্ষয়ক্ষতি হিসাব করেছিলেন? আপনি কি ভেবেছেন যে এই উত্তেজনার প্রথম ভুক্তভোগী হবে এই অঞ্চলের দেশগুলোই?

এই অঞ্চলের জনগণেরও প্রশ্ন করার অধিকার আছে: এই সিদ্ধান্ত কি শুধুই আপনার ছিল, নাকি নেতানিয়াহু ও তার সরকারের চাপের ফল?

আপনি উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (GCC) দেশগুলো এবং আরব রাষ্ট্রগুলোকে এমন এক বিপদের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড় করিয়েছেন, যা তারা নিজেরা বেছে নেয়নি। আল্লাহর শুকরিয়া, আমরা শক্তিশালী এবং নিজেদের রক্ষা করার সক্ষমতা রাখি। আমাদের দেশগুলোকে রক্ষা করার জন্য আমাদের সেনাবাহিনী ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু প্রশ্নটি থেকেই যায়: আমাদের অঞ্চলকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার অনুমতি আপনাকে কে দিল?

আপনি শান্তি ও স্থিতিশীলতার নামে যে “বোর্ড অব পিস” উদ্যোগ ঘোষণা করেছিলেন, তার কালি শুকানোর আগেই আমরা এমন এক সামরিক উত্তেজনার মুখোমুখি হয়েছি যা পুরো অঞ্চলকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। তাহলে সেই উদ্যোগগুলো কোথায় গেল? শান্তির নামে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর কী হলো?

এসব উদ্যোগের জন্য প্রস্তাবিত অধিকাংশ অর্থই এসেছে এই অঞ্চলের দেশগুলো থেকে—বিশেষ করে আরব উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো থেকে, যারা স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের আশায় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিয়েছে। আজ এসব দেশের অধিকার আছে প্রশ্ন করার: সেই অর্থ কোথায় গেল? আমরা কি শান্তি উদ্যোগে অর্থ দিচ্ছি, নাকি এমন একটি যুদ্ধে অর্থ দিচ্ছি যা আমাদেরই বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে?

আরও বিপজ্জনক বিষয় হলো, আপনার এই সিদ্ধান্ত শুধু এই অঞ্চলের জনগণকেই নয়, আমেরিকার জনগণকেও হুমকির মুখে ফেলেছে—যাদের আপনি শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আজ তারা নিজেদের অর্থ ও করের টাকায় অর্থায়িত এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, যার সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজ (IPS)-এর তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি সামরিক অভিযানের খরচ ৪০ থেকে ৬৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে। আর যদি সংঘাত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হয়, তবে অর্থনৈতিক প্রভাব ও পরোক্ষ ক্ষতি মিলিয়ে তা ২১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এমনকি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এমন এক যুদ্ধে আমেরিকানদের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ছে যার সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

আপনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রকে আর কোনো যুদ্ধে জড়াবেন না এবং শুধু আমেরিকার স্বার্থে মনোযোগ দেবেন। কিন্তু আপনার দ্বিতীয় মেয়াদে আপনি সাতটি দেশে সামরিক হস্তক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন—সোমালিয়া, ইরাক, ইয়েমেন, নাইজেরিয়া, সিরিয়া, ইরান এবং ভেনেজুয়েলা—এর পাশাপাশি ক্যারিবিয়ান ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে নৌ অভিযান পরিচালনা করেছেন।

ক্ষমতায় ফিরে প্রথম বছরেই আপনি ৬৫৮টির বেশি বিদেশি বিমান হামলার নির্দেশ দিয়েছেন—যা প্রায় প্রেসিডেন্ট বাইডেনের পুরো মেয়াদে পরিচালিত হামলার সমান। অথচ আপনি নিজেই তাকে বিদেশি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়িয়ে ফেলার জন্য সমালোচনা করেছিলেন।

মিস্টার প্রেসিডেন্ট, এসব সংখ্যার প্রভাব আমেরিকানদের মধ্যেও পড়েছে। আপনার দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুর পর থেকে আপনার জনপ্রিয়তা কমেছে—মাত্র ৪০০ দিনের মধ্যে ৯% হ্রাস পেয়েছে।

এই পরিসংখ্যানগুলো একটি বিষয় স্পষ্ট করে: যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও আরেকটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মানুষ তাদের জীবন, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎকে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকিতে ফেলতে চায় না।

সত্যিকারের নেতৃত্ব যুদ্ধের সিদ্ধান্তে নয়; বরং প্রজ্ঞা, অন্যের প্রতি সম্মান এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়। যদি এসব উদ্যোগ সত্যিই শান্তির নামে চালু করা হয়ে থাকে, তবে আজ আমাদের পূর্ণ স্বচ্ছতা ও স্পষ্ট জবাবদিহিতা দাবি করার অধিকার রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

13 − thirteen =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য