Monday, June 1, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরমার্কিন বাহিনীর ওপর টার্গেট করে হামলা চালাতে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা...

মার্কিন বাহিনীর ওপর টার্গেট করে হামলা চালাতে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে রাশিয়া

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে রাশিয়া। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও সিএনএনের প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

গত শনিবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই মার্কিন রণতরি ও যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক সম্পদের অবস্থান ইরানকে জানাচ্ছে মস্কো। তিনজন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনা, রণতরি ও যুদ্ধবিমানের অবস্থান ও চলাচল-সংক্রান্ত অত্যন্ত গোপন তথ্য ইরানকে দিচ্ছে রাশিয়া। সিএনএন জানায়, রাশিয়ার কক্ষপথে থাকা উন্নত স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংগৃহীত ছবি ও তথ্য তেহরানকে দেওয়া হচ্ছে। তবে এই সহযোগিতার বিনিময়ে মস্কো ইরানের কাছ থেকে কী সুবিধা পাচ্ছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

রাশিয়ার এই পদক্ষেপ নিয়ে ওয়াশিংটনে রুশ দূতাবাসের মন্তব্য জানতে চেয়েছে সিএনএন।ইরানের কোনো নির্দিষ্ট হামলা রাশিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে মস্কোর পাশাপাশি চীনও ইরানকে আর্থিক সহায়তা, যন্ত্রাংশ ও ক্ষেপণাস্ত্রের উপাদান দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সিএনএনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে বেইজিং এখনও সরাসরি এই যুদ্ধে জড়ায়নি।সিআইএ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে এই সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যে অন্য অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছেছে। এ অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের পাল্টা হামলার খবর আজারবাইজান ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশ থেকেও পাওয়া গেছে।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ‘বিনা উস্কানিতে সশস্ত্র আগ্রাসন’ বলে নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর হুঁশিয়ারি, এই পরিস্থিতির ফলে ইরানে ‘এমন শক্তির উত্থান ঘটবে…যারা সেই পারমাণবিক বোমা তৈরির পথেই হাঁটবে, যা আমেরিকানয়রা সর্বদা এড়াতে চেয়েছে।’

তবে ইরানকে রাশিয়া ঠিক কতটা এবং কীভাবে সহায়তা করছে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যুদ্ধের এক সপ্তাহ না পেরোতেই মার্কিন সেনার অবস্থান চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে।

অন্যদিকে আক্রমণের তীব্রতা কমানোর কোনো ইঙ্গিত দেয়নি মার্কিন বাহিনী। ইরান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় দেশটিতে অন্তত ১ হাজার ২০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না’।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ শুক্রবার ট্রাম্প লেখেন, ‘নিসঃশর্ত আত্মসমর্পণই একমাত্র পথ। তার পর এক বা একাধিক যোগ্য নেতা বেছে নেওয়ার পর আমরা এবং আমাদের বীর বন্ধু রাষ্ট্র ও অংশীদাররা ইরানকে ধ্বংসের মুখ থেকে ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করব। ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আগের চেয়ে আরও বড়, সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করে তোলা হবে।’

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ইরান ও তেহরানের ওপর হামলার তীব্রতা নাটকীয়ভাবে বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে আরও যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমান পাঠানো হবে। পাল্লা দিয়ে বাড়বে আমেরিকার প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক সক্ষমতাও।’

যুদ্ধে রাশিয়ার এই পরোক্ষ সহায়তার খবর ট্রাম্প ও পুতিনের সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। পূর্বসূরিদের তুলনায় পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক বরাবরই ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়। ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও ট্রাম্পকে পুতিনের পক্ষ নিতে দেখা গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি বলেন, ইরান প্রশাসন বর্তমানে কার্যত কোণঠাসা। তার দাবি, ‘ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা প্রতিদিন কমছে। তাদের নৌবাহিনী প্রায় নিশ্চিহ্ন, উৎপাদন ক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে এবং তাদের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোও বিশেষ লড়াই করতে পারছে না।’

গত তিন বছর ধরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে পরস্পরকে সহযোগিতা করে আসছে তেহরান ও মস্কো। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ইরান যেমন রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে, তেমনি ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতেও মস্কো কারিগরি সহায়তা করছে।

পেন্টাগন সূত্র বলছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নির্মূল করাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য। এ অভিযানের জন্য বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ৫০ হাজার সেনা, ২০০-র বেশি যুদ্ধবিমান এবং দুটি বড় রণতরি মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

7 + fifteen =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য