Sunday, June 28, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআন্তর্জাতিকইসরাইলি কারাগারে ভয়াবহ নির্যাতনে চেহারা বদলে গেল ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের

ইসরাইলি কারাগারে ভয়াবহ নির্যাতনে চেহারা বদলে গেল ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের

ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলি কারাগারে ছয় মাস আটক থাকার পর ফিলিস্তিনি সাংবাদিক মুজাহিদ বানি মুফলেহর একটি ভয়াবহ ছবি প্রকাশিত হয়েছে। বন্দী অধিকার সংগঠন ফিলিস্তিনি বন্দী সোসাইটি বলেছে, এই ছবি ইসরাইলি কারাগারগুলোর চলমান করুণ পরিস্থিতি তুলে ধরেছে।

ইসরাইলি কারাগারে আটক থাকার সময় একটি অসুস্থতায় আক্রান্ত হন বানি মুফলেহ। দীর্ঘ চিকিৎসা প্রক্রিয়া শেষে বুধবার নিজের একটি ছবি প্রকাশ করেন তিনি। ছবিতে দেখা যায়, ইসরাইলি কারাগারে থাকা অবস্থায় তার যেসব অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল, তার ফলে মাথার খুলির একটি অংশ অপসারণ করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি এই সাংবাদিকের ওজনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তাকে স্পষ্টতই ফ্যাকাশে ও প্রায় চিনতে না পারার মতো দেখাচ্ছিল।

বুধবার (২৪ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু।

এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি বন্দী সোসাইটি বলেছে, “ইসরাইলি কারাগারগুলো ফিলিস্তিনি বন্দীদের ধীর ও সরাসরি হত্যার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।”

ফিলিস্তিনি বন্দী সোসাইটি বলেছে, “বানি মুফলেহ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নন; বরং তিনি ইসরাইলি কারাগারের ভেতরে পদ্ধতিগত লঙ্ঘনের শিকার হওয়া হাজারো ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করেন। এসব লঙ্ঘনের মধ্যে রয়েছে নির্যাতন, অনাহারে রাখা, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং অব্যাহত মানসিক সন্ত্রাস।”

সংগঠনটি জানিয়েছে, ইসরাইলি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া শত শত ফিলিস্তিনির অবস্থা অনুসরণ করছে বন্দী বিষয়ক সংগঠনগুলো। তাদের অনেকেই গুরুতর শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় মুক্তি পেয়েছেন।

সংগঠনটি আরও বলেছে, “তাদের পরিবারগুলো পুনরায় গ্রেপ্তারের ভয়ে রয়েছে, ফলে আরও অনেক ঘটনা অপ্রকাশিত রয়ে গেছে।”

অধিকার সংগঠনটি জানায়, ২০২৫ সালের জুনে বানি মুফলেহকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটক করে ইসরাইলি বাহিনী। পরে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

ফিলিস্তিনি বন্দী সোসাইটি বলেছে, “মুক্তির মাত্র দুই দিন পর বানি মুফলেহ গুরুতর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হন এবং সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।”

সংগঠনটি আরও বলেছে, “এখনো সুস্থ হয়ে উঠতে তার দীর্ঘ ও জটিল চিকিৎসা প্রক্রিয়ার প্রয়োজন রয়েছে।”

ফিলিস্তিনি বন্দী সোসাইটির তথ্যমতে, গাজ্জা যুদ্ধের পর থেকে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ইসরাইল তার লঙ্ঘন আরও বাড়িয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইল ২৪৫ জন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে।

সরকারি ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের দমন-পীড়ন বৃদ্ধির ফলে ১ হাজার ১৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৬৬৬ জন, গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রায় ২৩ হাজার জনকে এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৩৩ হাজার জন।

সুত্র: আনাদোলু, মিডল ইস্ট মনিটোর

Sourceinsaf24

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

two × 2 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য