অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলা ও সহিংসতা বাড়তে থাকায় সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়েই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ফিলিস্তিনি অভিভাবকেরা। বিশেষ করে রামাল্লার কাছে আল-মুগাইয়ির গ্রামের স্কুলকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ তীব্র হয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে স্কুলের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া, শক্তিশালী ফটকসহ বিভিন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
গ্রামের ছেলেদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাসেম আল-আসাফ বলেন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক—সবাই ভয় পাচ্ছেন। স্কুলের আশপাশে হামলার আশঙ্কায় অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। অভিভাবকেরাও সন্তানদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে স্কুলে পাঠানো নিয়ে উদ্বিগ্ন।
আল-মুগাইয়িরে সাম্প্রতিক সহিংসতা সেই আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ২ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী ও সেনাদের অভিযানের সময় ১৬ ও ১৯ বছর বয়সী দুই ফিলিস্তিনি কিশোর নিহত হয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় তারা ‘মূল উসকানিদাতাদের’ লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তারা।
এর আগে এপ্রিলেও আল-মুগাইয়িরের একটি স্কুলের ফটকের কাছে ১৪ বছর বয়সী আওস হামদি নাসান গুলিতে নিহত হয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর ওই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেছিল, বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতার ঘটনায় শিশুসহ বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গ্রামটি চারদিক থেকে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের কয়েকটি ঘাঁটি দিয়ে ঘেরা। প্রবেশ ও বের হওয়ার পথেও বিভিন্ন সময়ে বাধা ও অস্থায়ী তল্লাশিচৌকি বসানো হয়। ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষক ওয়াহিদ আবু নাঈমের জন্য পরিস্থিতি আরও বেদনাদায়ক। তিনি নিহত কিশোরদের পড়িয়েছেন। এর আগে বসতিস্থাপনকারীদের হামলায় তাঁর ভাইও নিহত হন। তাঁর ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতা এখন প্রতিদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি পশ্চিম তীরের অন্যান্য এলাকাতেও বসতিস্থাপনকারীদের হামলা ও সংঘর্ষ বেড়েছে। ৭ সেপ্টেম্বরও হিজ্জা গ্রামে বসতিস্থাপনকারীদের হামলার পর সংঘর্ষে ১৯ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা পশ্চিম তীরে বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। আল-মুগাইয়িরের মতো গ্রামগুলোতে হামলা ও চলাচলে বিধিনিষেধ বাড়ায় শিশুদের স্কুলে যাওয়া, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপস্থিতি এবং পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাপন—সবকিছুই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও অনেক ফিলিস্তিনি পরিবারের কাছে স্কুলে যাওয়া এখন শুধু পড়াশোনার বিষয় নয়; সন্তান নিরাপদে বাড়ি ফিরবে কি না, সেই গভীর উদ্বেগও সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিদিনের পথচলা শুরু করতে হচ্ছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি
