Sunday, April 19, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআন্তর্জাতিকইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ, গাজায় নিহত আরও ৫২

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ, গাজায় নিহত আরও ৫২

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় একের পর এক হামলায় প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ বাড়ছে। এর মধ্যেই জাতিসংঘ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলেছে। সংস্থাটি বলছে, ইসরায়েল বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং মানবিক সহায়তা ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাগ্রস্ত করছে, যা গণহত্যার শামিল হতে পারে। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এক বিবৃতিতে বলেন, “ইসরায়েল একটির পর একটি যুদ্ধাপরাধ করছে।” তিনি গাজার চলমান ধ্বংসযজ্ঞকে বিশ্ব বিবেকের জন্য এক কঠিন ধাক্কা হিসেবে বর্ণনা করেন। একইসঙ্গে গাজার মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা পৌঁছাতে না দেওয়ায় ইসরায়েলের তীব্র নিন্দা জানান। এ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে, যখন সোমবার একদিনেই গাজায় ৫২ ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং ক্ষুধায় আরও কয়েকজনের মৃত্যু ঘটে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজার মানুষকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এদিকে জাতিসংঘ বলছে, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে এবং এর দায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) জবাবদিহির পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, রোববার সকাল থেকে অন্তত ৫০টির বেশি ভবন ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ১০০টির ক্ষতি হয়েছে। সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে শরণার্থী শিবিরের কাছের আবাসিক ভবনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২০০টিরও বেশি তাঁবু ধ্বংস হয়েছে। তুফাহ এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে, যেখানে আজ-জারকা জেলায় একটি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। এমনকি মসজিদ ও খেলার মাঠও হামলার শিকার হয়েছে।

আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ বলেন, “প্রতিনিয়ত সুউচ্চ ভবন ভেঙে পড়তে দেখা হৃদয়বিদারক। এগুলো শুধু ভবন নয়, মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সেবাগুলোও এর সঙ্গে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।”

স্থানীয় হাসপাতালগুলো জানিয়েছে, সোমবার নিহত ৫২ জনের মধ্যে ৩২ জন গাজা শহরের বাসিন্দা। আরও ছয়জন ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে মারা গেছেন, যাদের মধ্যে দুজন শিশু রয়েছে। চিকিৎসকদের দাবি, মানবিক সহায়তা ঠেকানো এবং ধারাবাহিক হামলার কারণেই এ দুর্ভিক্ষ তৈরি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাংবাদিক ওসামা বালউশাও ছিলেন।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ২৫০ সাংবাদিক গাজায় নিহত হয়েছেন, যাদের সবাই ফিলিস্তিনি। ইসরায়েল বিদেশি সংবাদকর্মীদের গাজায় প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। এটিকে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে সাংবাদিকদের জন্য।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উত্তর গাজায় ট্যাংকের নিচে পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে তাদের চার সেনা নিহত হয়েছে।তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 + six =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য