Saturday, May 30, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরইসলামী অর্থনীতিতে মালিকানা হস্তান্তরের মূলনীতি

ইসলামী অর্থনীতিতে মালিকানা হস্তান্তরের মূলনীতি

ইসলামী শরিয়তের মূলনীতি অনুসরণ করে সঠিক পদ্ধতিতে বিক্রয় চুক্তি সম্পন্ন হলে ক্রেতা পণ্যের মালিক হবে এবং বিক্রেতা মূল্যের মালিক হবে। এ ক্ষেত্রে পরস্পর হস্তগত করার ওপর মালিকানা নির্ভরশীল থাকে না। যদিও জরিমানার ক্ষেত্রে হস্তগত হওয়ার প্রভাব আছে। বিক্রয় চুক্তি যদি ফাসিদ (এক ধরনের ত্রুটিপূর্ণ বিক্রয় চুক্তি) পদ্ধতিতে হয়, তবে হানাফি মাজহাব অনুসারে হস্তগত করা ছাড়া ক্রেতা পণ্যের মালিক হবে না।

পণ্য ও মূল্যের মালিকানা হস্তান্তরে নিম্নোক্ত মূলনীতি অনুসরণ করা হবে—

১. পণ্যে যা বৃদ্ধি পাবে জন্ম বা উৎপাদন ইত্যাদির মাধ্যমে তার মালিক হবে ক্রেতা। যদিও সে পণ্য হস্তগত না করে। মূল্য অপরিশোধিত থাকলেও পণ্যের মালিকানা ক্রেতার প্রতি স্থানান্তরিত হতে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই।

২. পণ্যে ক্রেতার কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হয়, আর মূল্যে বিক্রেতার নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার কার্যকর হয়। যেমন বিক্রেতা মূল্য গ্রহণের দায়িত্ব কাউকে দিতে পারে। আর হস্তগত করার আগে ক্রেতা তাতে হস্তক্ষেপ করলে, তা ফাসিদ অথবা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে।

৩. বিক্রেতা মূল্য হস্তগত করলেও ক্রেতা পণ্য হস্তগত না করেনি—এমন পরিস্থিতিতে বিক্রেতা দেউলিয়া হয়ে মারা গেলে অন্য সব পাওনাদারের তুলনায় গণ্যে ক্রেতার অধিকার অগ্রগণ্য হবে। পণ্যটি মৃতের ত্যাজ্য সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে না; বরং তার হাতে এটি আমানত বলে গণ্য হবে।

৪. বাকি মূল্যে পণ্য বিক্রি করা হলে ওই মূল্য পরিশোধ করা পর্যন্ত অথবা অন্য কোনো নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত পণ্যে বিক্রেতার মালিকানা সংরক্ষিত থাকার শর্তারোপ করা জায়েজ নয়।

এসব বিধান, পণ্য বা মূল্য দায়িত্বে সাব্যস্ত হলে এগুলোর মালিকানা স্থানান্তর হতে বাধা নেই। যদি এগুলো সত্তাগত বস্তু না হয়ে দায়িত্বে থাকা ঋণ বা পাওনা হয়। কেননা দায়িত্বে থাকার পরও বিভিন্ন পাওনার মালিকানা লাভ করা যায়, যদিও পাওনা অনির্দিষ্ট থাকে। যেহেতু পাওনা নির্দিষ্ট করা মূল মালিকানার অতিরিক্ত বিষয়। কখনো কখনো নির্ধারণ মালিকানা লাভের সঙ্গে যুক্ত হয়। আবার কখনো পাওনা পরিশোধ করা পর্যন্ত নির্ধারণের বিষয়টি বিলম্বিত হয়। যেমন কেউ জ্ঞাত পরিমাপের নির্ধারিত পরিমাণে চাল কিনে, এ অবস্থায় হাতে অর্পণ করা ছাড়া তার পাওনা নির্ধারিত হয় না। অনুরূপভাবে মূল্যও নির্ধারিত হয় না, যখন তা দায়িত্বে অবশ্যক হয়।

আল-মাউসুয়াতুল

ফিকহিয়্যা অবলম্বনে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

twelve + 2 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য