ইসলামের ইতিহাসে ‘বয়কটের জনক’ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন রাসূলের সাহাবী সুমামা ইবনে উসাল রা.। তিনি ইয়ামামার বনু হানীফার অধিবাসী ছিলেন। এক যুদ্ধে বন্দী হয়ে মদীনায় আসেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উত্তম আচরণে মুগ্ধ হয়ে কালিমা পড়ে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নেন। নবীজীকে বলেন, ’হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ করে বলছি, কাল পর্যন্ত পৃথিবীতে আপনার মুখের চেয়ে ঘৃণিত কোনো মুখ আমার কাছে ছিল না। অথচ আজ আপনার মুখটাই পৃথিবীতে আমার সবচেয়ে প্রিয় মুখ। আপনার ধর্মের চেয়ে আর কোনো ধর্মের প্রতি আমার এত বিদ্বেষ ছিল না। অথচ আজ আপনার ধর্মই আমার সবচেয়ে প্রিয়। আপনার শহরের মতো আর কোনো শহরকে আমি এত ঘৃণা করতাম না। অথচ আজ আপনার শহর আমার কাছে গোটা পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় শহর’!
এরপর তিনি নবীজীর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে উমরাহ সম্পন্ন করতে মক্কা যান। মক্কাবাসীরা তাকে দেখে বলতে থাকে, বেদীন হয়ে গেছো! তিনি বললেন, বরং আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। আল্লাহর কসম! এখন থেকে ইয়ামামা হতে তোমাদের কাছে একটা যবের দানাও পৌঁছাবে না। যতক্ষণ না আল্লাহর রাসূল অনুমতি দেন!
ইয়ামামা মক্কাবাসীদের জন্য খাদ্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত ছিল। সুমামা রা. তাদের সঙ্গে বয়কটের ঘোষণা দিলেন। ইয়ামামা থেকে খাদ্য আসা বন্ধ হয়ে গেলো। ফলে মক্কাতে প্রচণ্ড খাবারের অভাব দেখা দিলো। কাফেররা না খেয়ে থাকলে লাগলো। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে মক্কার একটি প্রতিনিধিদল মদীনায় এসে রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছে সুপারিশ প্রার্থনা করলো। রাসূল সা. বয়কট উঠিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিলেন। কাফেররা রেহাই পেলো। (বুখারী: ৪০২৪)
ইসলামী বিশ্বের অনেক সেক্যুলার এবং দরবারী আলিমদের বলতে শুনবেন, নবীজীর মর্যাদা আল্লাহ রক্ষা করবেন। কাফেররা তাঁকে গালি দিয়ে সমালোচনা করে কিছুই করতে পারবে না। তাই আমাদের উচিত এটা নিয়ে হট্টগোল না করে, বয়কট-মিছিল বাদ দিয়ে দাওয়াতী কাজ করা, ইবাদত ও আমলে মনোযোগী হওয়া।
বাহ্যত শান্তির বাণী হলেও প্রকৃত অর্থে এটা অন্ধত্ব ও গোলামীর বক্তব্য। আপনাকে কে বললো দু’টো বিষয় সাংঘর্ষিক? আমল ও দাওয়াতকে আপনি নবীজীর অসম্মানের প্রতিবাদ, কাফেরদের পণ্য বর্জনের বিরুদ্ধে কেন দাঁড় করাচ্ছেন?
মুসলমানরা ইবাদত দাওয়াত অব্যাহত রাখবে, পাশাপাশি কাফেরদের ইতরামিরও কড়া জবাব দেবে, তাদের পণ্য বয়কট করবে। এটাই মাকাসিদে শরীয়াহর সঠিক তাফাককুহ। রাসূল সা. এর প্রতি প্রকৃত ভালোবাসার কার্যকর পদক্ষেপ।
সূত্র: ThinkTwice
