শুধু বাংলাদেশ না সারা বিশ্বের বাম লিবারেলরা চায় বোরকা , হিজাব , নিকাব নিষিদ্ধ হয়ে যাক। মুসলিমদের বোরকা , হিজাব ,নিকাব অন্যান্য আট দশটা ধর্মীয় গোষ্ঠী কিংবা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর মত কোন সাধারণ রিউচুয়াল পোষাক না। এটা স্পষ্টতই একটা ইসলাম ধর্মীয় পোষাক। ইসলাম ধর্মীয় পোষাকের বিবেচনাতে এটা শুধু পোষাকই না অনেক ক্ষেত্রে এটা সমাজের উত্তম অনুত্তমও নির্ধারণ করে দেয়। এমনকি ভবিষ্যত অর্থাৎ মৃত্যুর পরে সৃষ্টিকর্তার নিকটে কে কতটা উত্তম ফলাফলের আশা করতে পারে তাও নির্ধারন করে দেয়। অর্থাৎ সমাজের নারীদেরকে এই পোষাক একটা স্ট্যাটাস দেয়। সাইড কথা হল, এই স্ট্যাটাস অনেক নারীই আবার নিজেরাই নষ্ট করে কিন্ত সেই দায় এই পোষাকের না সেই দায় সেই নারীদেরই।
এখন একটা পোষাক মানুষকে ধর্মীয়ভাবে এবং সামাজিকভাবে একটু পিউরিটি-র স্ট্যাটাস দেয় এটা বাম লিবারেলরা মেনে নিতে পারে না। তারা মনে করে সুন্দর গঠনের নারী যার হাটা চলায় পদ্ম ফুটে, যার বুকের সৌন্দর্যে যুবকের বিশ্ববাসীর মনোযোগকে কেড়ে নিতে পারে সেই নারী কেন স্বেচ্ছায় নিজেকে ওরকম পোষাকে ঢেকে একটা পিউরিটির স্ট্যাটাস বাগিয়ে নিবে। এটা তো দেওয়া উচিত না। তাহলে যারা উলঙ্গপনা করে বেড়াবে তাদেরকে আমরা কি স্ট্যাটাস দব ! তাদের জন্য তো সমাজের বাদবাকি রেখে যাওয়া গালি গালাজ এবং অশ্লীল স্ট্যাটাসই বাকি থাকে।
এজন্য বামরা যতই পোষাকের স্বাধীনতার কথা বলুক তারা আদৌত বোরকা হিজাব নিকাবের স্বাধীনতা চায় না। বললেও চায় না। যদি বলেও যে ইচ্ছে করবে বোরকা পড়বে, নিকাব পড়বে। না এটা তারা মুখে বললেও বাস্তবে তারা চায় না। তারা চায় এর নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে আবার দুটো পর্যায় তারা ঠিক করে । একটা হল জোর করে নিষিদ্ধ করা। আরেকটা হল ধাপে ধাপে নিষিদ্ধ করা।
এখন যে শিক্ষক বোরকা , হিজাব দেখলেই গালি গালাজ করে সন্ত্রাসী বলে সে আসলে সরাসরি নিষিদ্ধই করতে চায় যে কাজটা অনেক বাম লিবারেল সরাসরি করতে পারে না তাদের ফ্রিডম অফ চয়েজের এক ধরণের মুখোশের কারণে। তো, তারা এক্ষেত্রে যা করে তাহল তাদের কোন ইতর শ্রেনীভুক্ত বাম লিবারেল কমরেড সরাসরি ইসলামোফোবিক আক্রমণ করে হিজাব নিকাবের উপর কামান , কাস্তে দাগালে সেটাকে তারা হয় আলোচনাতে আনবে না । নয়তো তারা সেটা আদৌ ইসলামোফোবিক আচরণ ছিল কিনা সেটা নিয়ে খিস্তি খেউর করা শুরু করবে।
যেমন ধরেন ঢাকা পেপার্সের এই মানুষটা হিজাব নিকাব নিয়ে যে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে একটা ইসলামোফোবিক ইন্সিডেন্ট ঘটছে সেটা নিয়ে চাইলে দশ মিনিটের একটা ভিডিও বানাতে পারত যে কেন তাদের কমরেডের উচিত হয় নাই বোরকা হিজাব নিয়ে এরকম মন্তব্য করার। সে সেটা কিন্ত করে নাই। করবেও না। কিন্ত আলোচনা করতেছে কি নিয়ে ?সরোয়ার স্যারের ইসলামোফোবিয়া সংক্রান্ত একটা পেপার নিয়ে। তাও ভুল ভাল বক্তব্য। এই পেপার সাইডে রাখলাম। বাংলাদেশে যে ইসলামোফোবিক কাজ কর্ম ঘটে এটা কিন্ত ও ভালো করে জানে। কেননা এই দেশের ইসলামোফোবিক কাজ কর্ম যারা করে তাদের বড় অংশই হয় মূর্খ আর নয়তো বাম গোষ্ঠী। যে কোন ইসলামোফোবিক লোককে দাড় করান তার প্রোফাইল ঘাটেন দেখবেন সেই বদমাশ কোন না কোনভাবে এই লোকদের কমরেড মানে সাথি। অস্বীকার করার উপায় নাই।
খালি একটু ভাবেন তো ওদের কোন নারী কমরেডের টিপ, হাত কাল্টা ব্লাউজ নিয়ে কোন মানুষ কোন কমেন্ট করে বসল তখন কি এই ঢাকা প্রেস বসে থাকবে ? মোটেপ থাকবে না। ওর চৌদ্দ গোষ্ঠী রাস্তায় নেমে আসবে আর এই দেশের মানুষদেরকে মৌলবাদী জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে মৃত্যুর বৈধতা তৈরি করবে। গণতন্ত্র কেন সফল হচ্ছে না সেই গল্প ফাঁদবে।
বামদের ব্যাপারেই একটা সিদ্ধান্তই গ্রহন করুন আর তাহল দে আর দ্যা এনিমি। আপনি এমন কোন কাজ মোটেই করবেন না যে কাজ করলে বামেরা শক্তিশালী হবে । আপনার প্রতিটা পদক্ষেপ হিসেব করে ফেলুন।
— সওয়াবুল্লাহ হক
অ্যাক্টিভিস্ট,ওয়াইল্ডলাইফ থিংকার
