Thursday, April 16, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরউচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা আবার চলে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে, বিলুপ্ত হচ্ছে...

উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা আবার চলে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে, বিলুপ্ত হচ্ছে ইউনূস সরকারের করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়

সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ রহিত করার সিদ্ধান্তে বিচার বিভাগ আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। এর ফলে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে। উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছে। গত ১১ ডিসেম্বর উদ্বোধন হওয়া সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত হবে। এতে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার বিষয়ে জনগণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা আপাতত অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে।

সংসদীয় বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ রহিত করার সুপারিশ করেছে। ফলে এই অধ্যাদেশগুলো আপাতত আইনে পরিণত হচ্ছে না। আইনজীবীদের মতে, স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার বহু আকাঙ্ক্ষিত উদ্যোগটি অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে গেল। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দিতে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নিয়ে এই বিশেষ কমিটি গঠিত হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন সংসদে প্রতিবেদনটি জমা দেন।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় বিষয়ক দুটি অধ্যাদেশ বাতিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ স্থগিতের সুপারিশে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) হতাশা ও ক্ষোভ জানিয়েছে। সংস্থাটি গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে অধ্যাদেশ তিনটি হুবহু বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করে আইনে পরিণত করার আহ্বান জানায়।

বিচারপতি নিয়োগ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনকে হুমকির মুখে ফেলবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরা। তারা জানান, সংবিধানে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে আইন করার কথা থাকলেও এত বছরেও তা করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে কিছুটা অগ্রগতি হলেও কেন তা গ্রহণ করা হচ্ছে না, তা স্পষ্ট নয়। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেরিতে হলেও এ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত করার আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে গত বছর ২০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। পরের মাসে সচিবালয়ের উদ্বোধনকে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, ‘আগামী দিনে যে নির্বাচিত সরকার আসবে, তাদের তো বটেই এবং যত অংশীজন আছে, তাদের সবাইকে এই ধারাবাহিকতা, এই সচিবালয়ের ধারাবাহিকতা, আইনের শাসন বজায় রাখা, গণতন্ত্রকে বজায় রাখা– এই ধারাবাহিকতা যেন অটল থাকে, অটুট থাকে’।

পৃথক এই সচিবালয়ের জন্য ইতোমধ্যে একজন সচিব, ১৫ জন জুডিশিয়াল অফিসার এবং ১৯ জন স্টাফ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অধ্যাদেশ রহিত হওয়ায় এখন এই কর্মকর্তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। অধ্যাদেশে এই দায়িত্ব, যা আগে আইন মন্ত্রণালয় করত, রাষ্ট্রপতির পক্ষে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়কে দেওয়া হয়েছিল। অধ্যাদেশ রহিত হলে ক্ষমতা আবারও আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে ফিরবে।

অধ্যাদেশে সচিবালয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব প্রধান বিচারপতিকে দেওয়া হয়েছিল। অধ্যাদেশটি রহিত করার বিষয়ে সংসদের বিশেষ কমিটিকে আইন মন্ত্রণালয় তাদের মতামতে জানিয়েছিল যে, এতে প্রধান বিচারপতি নিম্ন আদালতের বিচারকদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের অধিকারী হবেন এবং সরকারের সঙ্গে কাজের সমন্বয় হবে না। একক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণ বিচারকদের ক্ষতির কারণ হতে পারে বলেও মত দেওয়া হয়।

গত বছর ২১ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ জারির পর ওই বছরের ২৫ আগস্ট প্রথম মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে উচ্চ আদালতে ২৫ জন অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বিচারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংবিধানে যোগ্যতার ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী বিচারক নিয়োগের বিধান থাকলেও আইন না হওয়ায় এতদিন “সরকারদলীয় লোককে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে আসছিল”।

সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে অন্যান্য বিচারপতি নিয়োগ দেন। তবে ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া অন্য কোনো কাজ রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া করতে পারেন না। ফলে উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর পছন্দেই হয়।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অধ্যাদেশে বিধান করা হয়েছিল যে, প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের একজন ও হাইকোর্টের দুজন বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল, এবং প্রধান বিচারপতির মনোনীত সাবেক একজন বিচারপতি ও একজন অধ্যাপককে নিয়ে গঠিত একটি কাউন্সিল পরীক্ষার মাধ্যমে বিচারপতি পদে যোগ্য ব্যক্তি বাছাই করবে। তাদের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে নিয়োগের জন্য পাঠানো হবে, যা প্রধান বিচারপতির পরামর্শ হিসেবে গণ্য হবে। অধ্যাদেশটি রহিত হওয়ায় উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা আবার সরকারের হাতে যাচ্ছে।

আইনজীবী শাহ্‌দীন মালিক বলেন, “এই দুটি অধ্যাদেশ হয়েছে এবং কয়েক মাস প্রয়োগও হয়েছে। তাই এসব অধ্যাদেশ রহিত হলে বুঝতে হবে, এই সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চায় না। বিচার বিভাগ স্বাধীন না হলে দেশে গণতন্ত্র, জবাবদিহি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা বুলিতে পরিণত হবে”।

সুপ্রিম কোর্ট বার সংবিধান সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব সাংবাদিকদের বলেন, সরকার যদি সংসদে বিচারক নিয়োগে নতুন আইন তৈরির জন্য অধ্যাদেশ রহিত করে থাকে তাহলে যথার্থ হয়েছে। কারণ, বিচারক নিয়োগের বর্তমান যে অধ্যাদেশটি অন্তর্বর্তী সরকার ও সাবেক প্রধান বিচারপতি সমন্বয় করে তৈরি করা হয়েছে তা কোনো ভালো উদ্যোগ নয়। সেখানে তারা হাইকোর্টের বিচারপতিদের জজকোর্ট থেকে আসা বিচারক এবং হাইকোর্ট থেকে আসা বিচারপতি– এই দুই ভাগে বিভক্ত করেছিল। তিনি আরও বলেন, ‘অধ্যাদেশগুলো করার প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্ট বারের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না। এসব অধ্যাদেশ ত্রুটিপূর্ণ ছিল। আমি মনে করি, অধ্যাদেশটি বাতিল করে সবার সঙ্গে পরামর্শ করে শিগগির নতুন একটি সুষম আইন করতে হবে’।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, বিচার বিভাগের রুল অব ল’ অন্তর্বর্তী সরকার নিশ্চিত করেনি। দুটি অধ্যাদেশ জারি করে কিছুটা অগ্রগতির চেষ্টা করেছে। যদিও এগুলো নিয়ে কিছুটা বিতর্ক ছিল। যেমন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের অধ্যাদেশটিকে আমরা আরও স্বচ্ছ করার জন্য বলেছিলাম। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়নি। এটিকে আরও মধ্যপন্থি করতে হবে। তিনি যোগ করেন, ‘কিন্তু এই অগ্রগতিটুকু (অধ্যাদেশ) কেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তা এখনও পরিষ্কার না। আমি শুনেছি, এই অধ্যাদেশগুলোকে নাকি আরও কার্যকর করে সংসদে বিল আকারে তোলা হবে। যদি তা হয় তবে আমরা দ্বিমত করব না। দেরি যেন না হয়। বেশি দেরি হলে বিচার বিভাগেরও দর পতন হবে’।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

17 − one =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য