প্রথম আলো অফিস ভাঙচুরের মামলায় কারান্তরীণ আলেম মাওলানা আইনুল হক কাসেমীকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়ে শুক্রবার সংবাদ মাধ্যমের বিবৃতি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।
বিবৃতিতে মাওলানা আজিজুল হক বলেন, “আমরা প্রথম আলো অফিস ভাঙচুরের মামলায় কারাবন্দি নিরাপরাধ আলেম মাওলানা আইনুল হক কাসেমীর দ্রুত মুক্তি দাবি করছি।” তিনি স্মরণ করে দেন যে ইতোমধ্যে জেলে তার ১০০ দিন পার হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “এটি সুস্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন। এই রাষ্ট্রীয় মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় সদ্যবিদায়ী ইউনূস সরকারের। বিএনপি সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি,আইনুল হক কাসেমীসহ সংশ্লিষ্ট মামলা যারা নিরাপরাধ, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে রাষ্ট্রের দায় মোচন করুন।”
উক্ত বিবৃতিতে দাবি করা হয় যে ভাঙচুরের ঘটনাটির সাথে আইনুল হক কাসেমীর কোনো সম্পর্ক নেই। সেখানে বলা হয়, “প্রথম আলোর কঠোর সমালোচক খাওয়ায় তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে বলে আমরা মনে করি। তাছাড়া বিনা বিচারে একজন নিরাপরাধ আলেম এতদিন জেল খাটতে পারে না।”
ব্যাপারটিকে “চরম অমানবিক” আখ্যা দিয়ে মাওলানা আজিজুল বলেন, “আমরা দেশের সুশীল সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন ও ইসলামী দলগুলোকে নিরীহ আলেম মাওলানা আইনুল হক কাসেমীর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হওয়ার জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি।”

এর পাশাপাশি পুরানো ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে হেফাজতে ইসলামের এই নেতা বলেন, “২০১৩ সালে হেফাজতের শাহবাগবিরোধী আন্দোলন ও ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজপথে প্রতিবাদী আলেমদের দমন ও হত্যার সম্মতি উৎপাদন করেছিল প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার।”
তিনি আরও বলেন, “এছাড়া তাদের ইসলামোফোবিক এডিটোরিয়াল পলিসি এদেশের আলেম-ওলামা, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও ধার্মিক প্রজন্মকে ‘জঙ্গি’ অপবাদে চিত্রিত করার জন্য দায়ী। তাদের বিভিন্ন ফেব্রিকেটেড রিপোর্ট ও ফিচারে ইসলামী মূল্যবোধকে জঙ্গিবাদের লক্ষণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।”
এছাড়াও বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “ওয়ান-ইলেভেনের সময় তাদের অসংখ্য বানোয়াট রিপোর্টে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার চরিত্রহনন করা হয়েছিল। পত্রিকার ছুটির পাপ ও জুলুমের বিচার আজও হয়নি। এদেশের গণমাধ্যমের প্রকৃত সংস্কার করতে হলে মানহানি অভিযোগে পত্রিকা দুটির সম্পাদকের বিচার হওয়া জরুরি।”
সবশেষে মাওলানা আজিজুল বলেন যে বাংলাদেশে নতুন প্রজন্মের চিন্তা-চেতনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে। এছাড়াও তিনি বলেন যে হেফাজতে ইসলাম কোনো সহিংসতায় বিশ্বাস করে না, তবে পত্রিকা দুটির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চলমান থাকবে।
